শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাঙালি হিন্দু সম্প্র্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব আজ শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা শুরু হবে। সিলেটে এবার ৬৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে এরই মধ্যে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী-এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন এবং নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে ফিরে যাবেন। দুর্গাপূজায় দেবীর আগমন ও গমনের বাহনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাসে দেবীর বাহনের সঙ্গে পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ, শস্য ও জনজীবনের নানা প্রতীকী ব্যাখ্যা জড়িয়ে আছে।
মহাষষ্ঠীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান ও পূজা, মহা-অষ্টমীতে অঞ্জলি ও সন্ধিপূজা এবং মহানবমীতে দেবীর পূজা ও ভোগ নিবেদন করা হবে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনে সিলেটে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকবে। নজরদারি বাড়াতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মনিটরিং দল সক্রিয় থাকবে। প্রতিমা বিসর্জনের সময়ও নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হবে।
এবার সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা সূত্রে জানা গেছে, এবার সিলেট জেলায় সর্বজনীন ৪৪৮টি ও পারিবারিক ২৬টিসহ মোট ৪৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। মহানগরে সর্বজনীন ১৪৬টি ও পারিবারিক উদ্যোগে ১৬টিসহ পূজা হবে ১৬২টি মণ্ডপে। গত বছর জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬১৮টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে হিসাবে এবার মণ্ডপ বেড়েছে ১৮টি।
সিলেট ও সুনামগঞ্জে ৩০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন;
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট ও সুনামগঞ্জের পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ৩০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন বিজিবি সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগরীর কালিবাড়ি মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।
তিনি জানান, বিজিবি সিলেট সেক্টরের আওতাধীন দুই জেলায় মোট এক হাজার ৮০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকা ১০৯টিসহ মোট ১৫২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।
নিরাপত্তা জোরদারে ড্রোন প্রযুক্তি ও কে-নাইন ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের পাশাপাশি টহল ও অনলাইনেও নজরদারি বাড়ানো হবে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি। এছাড়া অন্যান বাহিনীর সঙ্গেও সমন্বয় করে সকল মন্ডপে নিরাপত্তা বিধানে দায়িত্ব পালন করবে সংস্থাটি।
এসএমপির চার স্তরের নিরাপত্তা
পূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। দায়িত্বে থাকবেন ৭ শতাধিক পুলিশ সদস্য।
এসএমপির তথ্য অনুযায়ী, চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে—সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) তৎপরতা। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় ৫ শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন ২ শতাধিক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য।
এসএমপি উপকমিশনার মো. আফজাল হোসেন জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সিসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল
এদিকে, দুর্গাপূজায় নগরের ৮৫টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য অপসারণ, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে সিসিক। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করে টানা পাঁচ দিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে কুমারী পূজার প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে এসব কথা জানান সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনে সিটি করপোরেশন সব সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে। পূজার সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পূজা শেষ হওয়ার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে।
বিএনপির ৭ ‘তদারকি কমিটি’
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করা এবং পূজার সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সিলেট মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নগরের ৫২ টি ওয়ার্ডকে ৭টি ভাগে বিভক্ত করে ৭টি পৃথক তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটি ৬ টি করে ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকবে। বুধবার এসব কমিটি গঠন করা হয়।
গঠিত কমিটির সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির জননেতা নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। শারদীয় দুর্গাপূজা যেন উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে উদ্যাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
পূজা উদ্যাপন পরিষদের ১১ নির্দেশনা
এদিকে, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার বর্ধিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৮টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পূজা কমিটিগুলোকে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং সেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবারের প্রতিনিধি সভায় সিলেট জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়নের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার দাস ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ যৌথভাবে সভা সঞ্চালনা করেন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, পূজা উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ এবং জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট বিজয় কৃষ্ণ বিশ্বাস।
Related News
সিলেটে প্রায় ১০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ, আটক ২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের অভিযানে প্রায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকাRead More
শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাঙালি হিন্দু সম্প্র্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব আজ শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্যRead More



Comments are Closed