Main Menu

বৃটেনে জয় পেল লেবার পার্টি, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার’র দায়িত্ব গ্রহন

Manual8 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেল লেবার পার্টি। এর মধ্য দিয়ে টানা ১৪ বছর পর ক্ষমতার পালাবদল হলো সভ্যতা ও গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত যুক্তরাজ্যে।

নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার দিনই লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন ব্রিটেনের রাষ্ট্রপ্রধান রাজা দ্বিতীয় চার্লস। কিয়ার স্টারমার শুক্রবার (৫ জুলাই) বাকিংহাম প্রাসাদে রাজার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন। বাকিংহাম প্রাসাদের প্রকাশ করা একটি ছবিতে দেখা গেছে, রাজা চার্লস স্টারমারের সঙ্গে করমর্দন করছেন। বাকিংহাম রাজপ্রাসাদ থেকে তিনি ছুটে যান ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবনে। সেখানে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত এই বাসভবনে।

Manual2 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রথম ভাষণে স্টারমার বলেছেন, জনগণ সুচিন্তিতভাবে পরিবর্তন এবং জনগণের সেবামূলক রাজনীতির জন্য ভোট দিয়েছে। তবে এই পরিবর্তনের জন্য সময় লাগতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশকে পরিবর্তন করা সুইচ টেপার মতো বিষয় নয়। এর জন্য সময় প্রয়োজন হবে। তবে পরিবর্তনের জন্য কাজ শুরু করা হবে। পরিবর্তন এখন থেকেই শুরু হলো। উচ্ছ্বসিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আনন্দিত। সব কিছুই আপনারা শুরু করেছিলেন। আপনারাই ভোট দিয়েছেন। এবার আমাদের ফিরিয়ে দেওয়ার পালা।

ইটের ওপর ইট তুলে দেশের অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্টারমার। নতুন নতুন বিদ্যালয় ও ঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার মতো খেটে খাওয়া পরিবারগুলো যাতে জীবন চালাতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ কমন্স’-এ মোট আসন ৬৫০। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য আসন পেতে হয় ৩২৬। কিন্তু ফল শেষে লেবার পার্টি পেয়েছে ৪১২টি আসন। কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ১২১ আসন। আর লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি পেয়েছে ৭১ আসনে জয়। ফলাফলের এ চিত্র বলে দিচ্ছে লেবার এবার নতুন ইতিহাস লিখেছে বৃটেনে।

এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক মন্ত্রী পরাজিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের মন্ত্রিসভার অন্তত নয়জন সদস্য হেরেছেন। আগের রেকর্ডটি হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। সে নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির সরকারের সাতজন মন্ত্রী পরাজিত হয়েছিলেন।

Manual1 Ad Code

এদিকে, শোচনীয় পরাজয়ের পর বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে রাজা চার্লসের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। রাজা তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে দিয়ে তিনি কনজারভেটিভ দলের নেতৃত্ব থেকেও পদত্যাগ করলেন। বাকিংহাম রাজপ্রাসাদে রাজার সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। তারপর রাজাপ্রাসাদ থেকে পতাকাবিহীন একটি কালো গাড়িতে বেরিয়ে যান ঋষি সুনাক। এরপর রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করেন লেবার পার্টির নেতা কিয়ের স্টারমার। রাজার সঙ্গে একান্ত বৈঠকে তিনি সরকার গঠনের অনুমতি চান। রাজা চার্লস তাকে সেই অনুমতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন। প্রথা অনুযায়ী ‘কিসিং অব হ্যান্ডস’-এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন।

ওদিকে ঋষি সুনাকের বিদায় এবং নতুন প্রধানমন্ত্রীর অভিষেক উপলক্ষে বাকিংহাম রাজাপ্রাসাদের বাইরে সকাল থেকে বিপুল পরিমাণ উৎসুক দর্শনার্থীর ভিড় জমে। ঋষি সুনাক পদত্যাগ করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় হাত নাড়িয়ে তাকে বিদায় জানান তারা। একইভাবে কিয়ের স্টারমারের আগমনে উল্লসিত হয়ে ওঠেন জনতা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। এবারের নির্বাচনে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৯৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। ৩৫টি রাজনৈতিক দল মাত্র একজন করে প্রার্থী দেয়। রেকর্ড ভেঙে এবার ৪ হাজার ৫১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একেকটি আসনে গড়ে ৭ জন করে প্রার্থী। ৩১৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ৪৫৯ জন।

Manual6 Ad Code

দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দল হবে। আর দলটির নেতা প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা হবেন। ৯ জুলাই নতুন পার্লামেন্ট সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ জুলাই রাজা তৃতীয় চার্লসের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code