Main Menu

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-তামাবিল উভয় সড়কে পৃথক এসএমভিটি লেনসহ ৬-লেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (২৪ অক্টোবর) সকালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যদিয়ে এ কাজের উদ্বোধন করেন সরকার প্রধান।

সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পটুয়াখালীতে নির্মিত পায়রা সেতুর উদ্বোধনের পর ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-তামাবিল মহাসড়কের ৬-লেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণভবনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়া সিলেট থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসময় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সাংসদ হাবিবুর রহমান হাবিব, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. খলিলুর রহমান, জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকু রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে একটা সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছি। সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি। ৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে কিন্তু ধরলা সেতুও আমাদের সময় করা। যমুনা নদীর ওপর রেলসহ বঙ্গবন্ধু সেতু, এই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা। কাজেই এদেশে যতটুকু উন্নয়ন সেটা আমরাই করেছি। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দৃষ্টিনন্দন রেল স্টেশনসহ যত উন্নয়ন হয়েছে সবই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।’

স্বপ্নের এই মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত হলে বদলে যাবে সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র। নতুন গতি পাবে শিল্প-বাণিজ্য ও পর্যটনে। শুধু তাই নয়, ছয় লেন হয়ে গেলে এ মহাসড়ক দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ারও আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে সিলেটের মানুষকে প্রথম চার লেনের স্বপ্ন দেখান সাবেক অর্থমন্ত্রী আব্দুল মাল আব্দুল মুহিত। সেই স্বপ্নের ডালপালা মেলে সময়ে সময়ে। এরপর ২০১৭ সালে চীনা প্রতিষ্ঠান চায়না হারবারের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। কিন্তু নানা কারণে তাদের কাজ আর এগোয়নি।

এদিকে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি একনেকের সভায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি এ মহাসড়কটি ছয় লেনের ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর সর্বশেষ এডিবির দেয়া ঋণ অনুমোদনে নতুন আশার আলো দেখান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। এই প্রকল্পে এডিবির ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ১৩০ কোটি টাকা।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘সাসেক সিলেট-ঢাকা করিডোর সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তখন এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা।

২০১৫ সালে এ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি হয়। মূল সড়কের উভয় পাশে ধীর গতির যান চলাচলের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন নির্মিত হবে। বাঁক সরলীকরণসহ অধিকমাত্রার ট্রাফিক বিবেচনায় এনে ৮০ কিলোমিটার গতিবেগ নিশ্চিত করা হবে।

শিল্প ও বাণিজ্যে গতিশীলতা আনতে এশিয়া হাইওয়ে নেটওয়ার্ক, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাত দেশের জোট ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) করিডোর, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) করিডোরসহ আঞ্চলিক সড়ক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে চারলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

প্রকল্পের আওতায় আলাদা সার্ভিস লেনসহ সড়ক নির্মাণে অতিরিক্ত ৯৮৬ দশমিক ৪৭ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। এর জন্য মোট ব্যয় হবে চার হাজার ২৭৫ কোটি টাকা। ভূমি অধিগ্রহণে কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত ইউটিলিটিও স্থানান্তর করা হবে, নির্মাণ করা হবে ৩২১টি আরসিসি কালভার্ট। কালভার্টগুলোর মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১ হাজার ৩৮১ মিটার।

উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ বিশেষ করে ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান এবং চীনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

৬ লেন বিশিষ্ট মহাসড়কের উভয়পাশে ধীরগতির যান চলাচলের জন্য ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রশস্ত করাসহ প্রকল্পের আওতায় ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, ৭টি ফ্লাইওভার/ওভারপাস এবং ৬টি রেলওয়ে ওভারপাস থাকবে।

ঢাকা (কাঁচপুর) থেকে সিলেটের মোট দূরত্ব ২২৩ দশমিক ১২৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১১ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে বিশ্বরোড পর্যন্ত। এর উন্নয়ন এলওসির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং ২ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ভৈরব ব্রিজ বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রস্তাবিত সড়কের মোট দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ২০৯ দশমিক ৩২৮ কিলোমিটার।

Share





Related News

Comments are Closed