Main Menu

ত্যাগের মহিমায় পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ত্যাগের মহিমা নিয়ে হাজির ১০ জিলহজ। আজ সোমবার রাজধানীসহ সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম জাহানের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। আনন্দ আর খুশিকে ছাপিয়ে এ দিনটিতে বড় বিষয় ত্যাগের শিক্ষা। সামর্থ্যবান মুসলমানরা পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করবেন এদিন। কোরবানির মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজেকে সমর্পণই ঈদুল আযহার মূল মর্মবাণী।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে, আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানির বিধান নির্ধারণ করে দিয়েছি, যাতে তারা ওই পশুদের জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। আর তোমাদের প্রতিপালক তো এক আল্লাহই, তোমরা তারই অনুগত হও। (সুরা হজ : ৩৪)

সোমবার (১৭ জুন) ঈদগাহে জামাত আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঈদের আনুষ্ঠানিকতা। সকালে সর্বপ্রথম ঈদগাহে নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা, এরপর শুরু পশু কোরবানির পর্ব।

ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিন ছাড়াও পরের দু’দিনও পশু কোরবানি করার সুযোগ রয়েছে। সে হিসেবে ১৯ জুন বুধবার আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে। সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি করা ফরজ। কোরবানির পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ বিলিয়ে দিতে হয় গরিব-মিসকিনকে। আত্মীয়দের দিতে হবে এক ভাগ।

হাদিসে বর্ণিত আছে, ‘১০, ১১ ও ১২ জিলহজ—এই তিন দিন কোরবানি করা যায়। তবে প্রথম দিন কোরবানি করা অধিক উত্তম। এরপর দ্বিতীয় দিন, তারপর তৃতীয় দিন।’ আরেকটি হাদিসে আছে, জিলহজ মাসের ১২ তারিখ সূর্যাস্তের পর কোরবানি করা শুদ্ধ নয়।

রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত হয় সকাল সাড়ে ৭টায়। এছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম মসজিদসহ রাজধানীতে ১৮৪টি ঈদগাহ ও প্রায় দেড় হাজার মসজিদে ঈদের নামাজ পড়বেন মুসল্লিরা। দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্টিত হয় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ। এবার ১৯৭তম ঈদের জামাত হয় এ ঈদগাহে। অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানে।

কোরবানির ঈদ শুধু উৎসব না, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করার একটি মেলবন্ধন। ঈদুল আজহা সমাজে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যকে এক কাতারে নিয়ে আসে।

আধুনিক সমাজ যে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিন্তায় মগ্ন হয়ে গেছে, তা থেকে মুক্তির দিশারী হতে পারে পশু কোরবানি। সমাজ ও রাষ্ট্রে ভ্রাতৃত্ববোধ ও জাতীয় ঐক্য গড়ার শিক্ষা হতে পারে ঈদে পশু কোরবানি।

আর তাই ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, বিএনপিসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ত্যাগের শিক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) এর ঐতিহাসিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোরবানি ইবাদতের মর্যাদা লাভ করেছে। আল্লাহ যখন ইবরাহিম (আ.)-কে পরীক্ষা করার জন্য স্বীয় পুত্রকে কোরবানি করতে বললেন, তখন সঙ্গে সঙ্গে কোনো সংশয় তথা বিনা প্রশ্নে নিজ প্রিয় সন্তানকে কোরবানি করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান তিনি। কিন্তু আল্লাহর আদেশে দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অসামান্য এ ত্যাগের মহিমা জাগ্রত রাখতে সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পশু কুরবানি করেন।

Share





Related News

Comments are Closed