Main Menu

ধর্মপাশায় দুই ইজিবাইক চালককে হত্যা, গ্রেফতার ৭

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় দুই ইজিবাইক চালক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৭জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। ঘাতকরা যাত্রী বেশে প্রথমে হুমায়ূন কবির (২০) ও পরে সাইকুল ইসলামকে (২৭) হত্যা করে।

সুনমাগঞ্জের ধর্মপাশা, নেত্রকোনা ও গাজীপুর জেলায় পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয় ও চুরি হওয়া ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।

শনিবার (৪ মে) দুপুর আড়াইটায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাজন কুমার দাস।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুধবহর গ্রামের রতন মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন দিলু (৩০), রফিকুল ইসলামের ছেলে আজিম উদ্দিন (২৫), রফিকের ছেলে নুরুল আমীন (২২), ময়না মিয়ার ছেলে রুবেল (২২), আবুল কাসেমের ছেলে জাকিরুল ইসলাম ইমুল (২৪), দক্ষিণ নোয়াগাঁও গ্রামের স্বপন মিয়ার ছেলে কাউছার নিয়াশ (২৫) এবং নেত্রকোনা জেলার সদর থানার ঠাকুরাকোনা গ্রামের মৃত গোলম রব্বানীর ছেলে সেলিম মিয়া (৩৫)।

পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাজন কুমার দাস বলেন, ইজিবাইক চালক হুমায়ূন সদর ইউনিয়নের দশধরী গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে ও সাইকুল একই ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ক্বারী মিয়া খানের ছেলে। গত ১৭ মার্চ হুমায়ূন ও ৮ এপ্রিল সাইকুল তাদের ইজিবাইকসহ নিখোঁজ হয়।

১৭ মার্চ সন্ধ্যায় দেলোয়ারের নেতৃত্বে আসামি রুবেল হুমায়ূনের ইজিবাইক দিয়ে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ইজিবাইক ভাড়া করে এবং কান্দাপাড়া এলাকার নিমাইকোনা বিলে ধান ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে দেলোয়ার তার সাথে থাকা গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সেখানে ফেলে আসে হুমায়ূনকে। পরে রুবেল ও জাকিরুল সেলিমের কাছে ৩০ হাজার টাকায় ইজিবাইকটি বিক্রি করে।

তিনি বলেন, ৮ এপ্রিল দুপুর ২টার দিকে রুবেল ও জাকিরুল সাইকুলের ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে নেত্রকোনার ঠাকুরকোনা বাজারে সেলিমের দোকানে যায়। সেখান থেকে সন্ধ্যার পর আতকাপাড়া গ্রাম সংলগ্ন মৎস্য খামারের কাছে আসে। সেখানে আগে থেকেই দেলোয়ার, নুরুল, কাউছার নিয়াশা, আজিম অবস্থান করছিল। সাইকুল ঘাতকদের পরিচিত হওয়ায় ইজিবাইকটি সড়কের পাশে রেখে সাইকুলকে সাথে নিয়ে গাঁজা সেবনের উদ্দেশ্যে মৎস্য খামারের উত্তর পাশে যায়। সেখানে তারা কিছুক্ষণ গাঁজা সেবনের পর রুবেল সুযোগ বুঝে তার কোমরের বেল্ট খুলে দেলোয়ায়ের হাতে দেয়। সে সময় অতর্কিতভাবে দেলোয়ার সাইকুলের গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে সেখানে ফেলে রেখে যায়। পরে সাইকুলের ইজিবাইকটি রুবেল ও জাকিরুল সেলিমের কাছে নিয়ে ৩৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে। ১৫ এপ্রিল আতকাপাড়া গ্রাম সংলগ্ন এলাকা থেকে সাইকুল ও ২৫ এপ্রিল কান্দাপাড়ার নিমাইকোনা বিল থেকে হুমায়ূনের মাথার খুলিসহ হাড় উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্সান শাহ্ বলেন, এ দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে আরও কেউ সম্পৃক্ত আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed