Main Menu

জাবিতে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে(জাবি) পরিবেশ ধ্বংস করে যত্রতত্র গাছ কেটে ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম সহ অন্যান্য সংকট নিরসনে দ্রুত মাস্টারপ্লান প্রণয়নের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুপুর দেড়টায় নতুন কলাভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু করে ছাত্রীহল সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে নির্মাণাধীন আইআইটি ভবনের কাছে গিয়ে শেষ করে। তারপর সেখানে ছাত্রফ্রন্টের সদস্য মুস্তাফিজুর রাহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ধ্রুব বলেন ” যে প্রাণ প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ঊঠেছে, সেই প্রকৃতিকে ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাবি প্রশাসন। এই অপরিকল্পিত উন্নয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কাম্য নয়। তাই বনভূমি ধ্বংস করে অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে অনতিবিলম্বে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করার দাবি জানাচ্ছি। এভাবে গাছ কেটে বনভূমি ধ্বংস চালিয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষক শিক্ষার্থী মিলে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব এবং প্রতিহত করব।”

ছাত্রফ্রন্টের সদস্য সোহাগী সামিয়া বলেন, ” আপনারা জানেন সারা দেশে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে তার মূল কারণ লুটেরা শ্রেণী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন অপরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে সেই একই পরিচয় বহন করছে। প্রশাসনের পিছনে থাকে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ। তাই তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি, পানি দূষণ করে গাছপালা উজাড় করে মরুভূমি তৈরি করতে চায় ব্যাক্তিস্বার্থের কথা চিন্তা করে। আমরা জানি ভোগবাদীদের ভোগ এবং লিপ্সা শেষ হয় না। প্রশাসনের এই দায়সারা আচরণ ভিন্ন কিছু নয়। তারা যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ‌ নষ্ট করেছে সেভাবেই প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা চাই প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্ট, ইনস্টিটিউটের আলাদা ভবন, সেমিনার এবং গবেষণাগার থাকবে তবে তার আগে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করতে হবে। কিন্তু তাঁরা তা করেন না। কারণ প্রশাসনের মাথাব্যথা নিজেদের পকেট ভারী করা নিয়ে। কিন্তু আমরা তা হতে দেবোনা। আশা করছি সবাই এই যৌক্তিক আন্দোলনে সামিল হবেন।”

ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায় বলেন ” বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনের এই আচরণ নিঃসন্দেহে ফ্যাসিবাদী আচরণ। এর আগে তারা রাতের আঁধারে চোরের মতো গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করেছে। একইভাবে আইআইটি ভবন নির্মাণের জন্য অপরিকল্পিতভাবে সকলের অগোচরে বিশাল সংখ্যক গাছ কেটে ফেলেছে। এ থেকে বোঝা যায় চৌর্যবৃত্তি তাদের অস্থিমজ্জায় মিশে আছে। এভাবে উন্নয়নের নামে একের পর এক ধ্বংসাযজ্ঞ আমরা কখনও মেনে নেবোনা।”

তিনি আরও বলেন, “এতো অপরিকল্পিত ও যত্রতত্র ভবন নির্মাণ করেও তারা ৫২ তম আবর্তনের ক্লাস শুরু করতে পারেনি শ্রেণিকক্ষ সংকটের জন্য। তাই তারা অনলাইনে ক্লাস শুরু করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাগত শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করুক।”

ছাত্র ইউনিয়নের জাবি শাখার আহ্বায়ক আলিফ মাহমুদ বলেন, “এই সময়ে আমাদের সবার ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করার কথা ছিল, পড়াশোনা করার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গাছাপালা কেটে, প্রাণ প্রকৃতি উজাড় করে কংক্রিটের শহর বানাতে চায়।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসাশনের প্রধান কাজ শিক্ষার মান উন্নয় করা তারা তাদের সেই দায়িত্ব পালন করতে না পারলেও তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে ধারাবাহিক ভাবে প্রতারনা কে যাচ্ছে। কিছুদিন আগে তাদের অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। তখন তারা আমাদেরকে বলেছিল তদন্ত কমিটি গঠন করে আইবিএ ও আইআইটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিন্তু নামে তদন্ত কমিটি গঠন করলেও কোন সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই আইআইটি তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।আমরা মানব বন্ধের মাধ্যেমে জানিয়ে দিতে চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ–প্রকৃতির ধংস করে কোন উন্নয় চাই না। ”

ছাত্রফ্রন্টের সদস্য শারমিন আক্তার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রশাসনের এই আচরণ মূলত মানুষখেকো আচরণ। কারণ মানুষের বেঁচে থাকতে যে প্রাণ প্রকৃতি, তা তারা ধ্বংস করে মানুষের বসবাসের অনুপযোগী করে তুলতে চায়। অপরিকল্পিত উন্নয়ন বন্ধ করে যতদ্রুত সম্ভব মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছি ।”

Share





Related News

Comments are Closed