Main Menu

জাবিতে পিডিএসইউ এর প্রথম প্রতিনিধি সম্মেলন

জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনগণতান্ত্রিক ছাত্র সঙ্ঘের(পি.ডি.এস.ইউ) আত্মপ্রকাশ ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৮ নভেম্বর (শনিবার) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে জনগণতান্ত্রিক ছাত্র সঙ্ঘের(পিডিএসইউ) ১১ সদস্য বিশিষ্ট প্রথম কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। চূড়ান্ত সাহা আহ্বায়ক, শাহরিয়ার আমীন এবং শামীম আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত প্রতিনিধি সভায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও জেলা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন হিরো চাকমা, মোয়াজ বিন সাইফুল, ফখরুল আহমেদ, রওনক জাহান অর্পা, রাহুল চন্দ্র দাস, মো. নাজিম উদদীন, মোরশেদুল আজাদী এবং সাদিক রহমান।

সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বি ডি রহমতুল্লাহ। তিনি বলেন, ” মুক্তির জন্য আমাদের খেয়াল রাখতে হবে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতির দেশ, সামন্ত শোষণ দেশ। সতের কোটি মানুষের তেরো কোটি কৃষক আর দেশের অধিকাংশ আয় এই কৃষি কাজ থেকে আসে। আমাদের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে গ্রামীণ উৎপাদনের উপর। অথচ সবচেয়ে বেশী শোষিত হচ্ছে এই গ্রামীণ কৃষক।”

তিনি আরও বলেন,” কোনোদিন কোনো ছাত্র সংগঠন এর আগে গ্রামে যায়নি। এদেশের কোনো সংগঠন মুক্তির দিশারী হতে পারে, মানুষের প্রিয় হতে পারে যদি তারা কৃষকের মুক্তির কথা বলে, তাদের‌ সান্নিধ্যে যেতে পারে। সংগঠনের ঘোষণাপত্রে দেখেছি সেই মুক্তির কথা। আশা রাখছি এই সংগঠন কাজে ও কর্মে তা প্রকাশ করবে।”

সভায় বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক সংগঠক আমিরুন নূজহাত মনীষা। তিনি বলেন “এমন একটি সময়ে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করেছে, যে সময়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময়টিতে আমাদের যেমন ফুসে উঠার কথা, এবার তা হচ্ছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ভিয়েতনামে আগ্রাসন চালাচ্ছিল, তখন এদেশের ছাত্ররা ভিয়েতনামের পক্ষে এদেশে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে। কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতি বাংলাদেশের ঐতিহ্য। আর এখন কৃষকরা তার ভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়েছে, কৃষকের সন্তান শহরে এসে দিনমজুর হতে বাধ্য হয়েছে।”

আহ্বায়ক চূড়ান্ত সাহা বলেন, “একদিকে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদসহ সকল সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসন, অন্যদিকে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের কবলে নদী ও মানুষের ক্ষয়। এদিকে সামন্তীয় কায়দায় নীপিড়ন চলছে। এই নীপিড়ীত মানুষের কোন ঐক্যবদ্ধ স্বর নেই। আজকে যখন মিরপুরে, গাজীপুরে শ্রমিকরা মারা যাচ্ছে তখন ছাত্র যুবাদের কোন বিকার নেই। ছাত্র যুবাদের চিহ্নিত করতে হবে, জনযুদ্ধের কোন বিকল্প নেই। ”

তিনি আরও বলেন, “ছাত্র যুবরা ক্রমাগত বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে কৃষক শ্রমিকের মুক্তির লড়াই থেকে। এই বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠে শ্রমিক কৃষক ও জনগণের লড়াই এর সহযোদ্ধা হয়ে উঠার আহ্বান জানাই ছাত্র যুবদের কাছে। রাজনৈতিক লাইনে কৃষক-শ্রমিকের সাথে একাত্ব হওয়া অনেক ছাত্র সংগঠনেরই নেই। জনগণ যদি পানি হয়, আপনারা মাছ হয়ে তাদের সাথে মিশে যেতে পারবেন।”

এছাড়াও চুড়ান্ত সাহার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক ছাত্রনেতা সালমান রহমান। বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।

Share





Related News

Comments are Closed