Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে একদিনে করোনা রোগী শনাক্ত ৪২ জন         শাবির ল্যাবে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত         সিলেটে একদিনে নতুন শনাক্ত ২৪ জন, সুস্থ ৪১         কমলগঞ্জে হামলায় সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য আহত         জামালগঞ্জ উপজেলায় নৌকার প্রার্থী ইকবাল বিজয়ী         হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহার         শ্রীমঙ্গলের ভূনবীরে নৌকা, মির্জাপুরে ধানের বিজয়         নবীগঞ্জে ‘বিকাশ’ প্রতারককে আটক করল জনতা         সাদিপুরে নৌকার প্রার্থী কবির উদ্দিন বিজয়ী         সিলেটে একদিনে সুস্থ ৬৪ জন, শনাক্ত ২১         হবিগঞ্জে চলছে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট         মৌলভীবাজারে ভূয়া ডাক্তার দম্পতিকে জেল-জরিমানা        

খ্যতিমান ফকির শাহ সুফি আফজল শাহ (রহঃ)

আনোয়ার হোসেন রনি: সুফি সাধক আফজল শাহ (রহঃ) আধ্যাত্বিক চেতনার মধ্যদিয়ে সাধারন মানুষ জীবন যাপন করেছিলেন। মানুষ স্বাপ্নিক। যার অন্তদৃষ্টিতে কিছু দেখেন তিনি দার্শনিক বলা হয়। তেমনি আমাদের মনো জগতে এক আন্দোলিত ও আলোকিত মানুষের নাম হচ্ছে সুফি-সাধক মরমী কবি আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রঃ)। তিনি আমাদের মাঝে নেই,তবুও এক অসম্ভব অনুভব। তার মানব কল্যাণ কম কান্ড প্রতিনিয়ত আমাদের মনকে দোলা দিয়ে যায়। আমাদের ফকিরি ধারায় আকাশে ধ্রবতারা হয়ে এ পৃথিবীতে বেচেঁ আছেন। আমাদের আধ্যাত্বিক মরমী সুফিবাদ সংস্কৃতির প্রজ্ঞা অভিভাবক হয়ে থাকবে এ পৃথিবীতে।তার নুর পরিচয়’ নাগরি লিপি গ্রন্থ নিয়ে দেশ-বিদেশে ৪০টি দেশে গবেষনার কাজ চলছে। সুফি সাধক আফজল শাহ সিলেটের নাগরি ভাষার আধ্যাত্বিক জগতে জীবনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে সর্ব মহলের কাছে এক অবিস্মরনীয় নাম।

তিনি যে, সামগ্রী জীবন দর্শনের মুখামুখি হয়েছিলেন- তা হচ্ছে ইসলামী দৃষ্টি সুফিবাদ জীবন। এ দৃষ্টি ভঙ্গিতে মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কর্মকান্ড একাগচিত্তে মনোনিবে করেছিলেন। তিনি স্বীয় সম্পত্তি ও উদারতার মাধ্যমে সকল ধর্মাবম্বী মানুষকে তার আলিঙ্গনে আনেন। তিনি ছিলেন খোদা ভীরু প্রেমিক। ইসলামের প্রতি অগাঢ় ভালোবাসা তাকে সংকীর্ণতার উর্ধ্বে এনে সর্বজন শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল। তার জীবনে ধ্যান সাধনা সচেতনা মানুষের মানবিক কল্যাণের আলোকে বর্তিকা। তিনি ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পদ সৌন্দর্যের প্রতীক। শ’শ’ বছরে লোক শিল্প সাহিত্যে সাংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র ভূমি শাহজালাল (রঃ) স্মৃতি ধন্য পূণ্যভূমি সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলাধীন ছাতক উপজেলার নাগরি ভার্ষার এক উজ্জল নক্ষত্র, নাগরি গবেষক সুফি সাধক আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ) তিনি সিলেটী নাগরি লিপিতে রচনা করেছেন ৭টি মুল্যবান গ্রন্থ। এই নাগরি বর্ণের রচিত তার অবিস্মরণীয় গ্রন্থের নাম হলো ‘নুর পরিচয়’। বাংলার লোক সাহিত্যে পুর্থিরাজ আধ্যাত্বিক সুফিসাধক হিসেবে বাংলাদেশের ভাবের জগতের সম্মানিত স্থান দখল করেছেন। সিলেটের নাগরি লিপির ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে রয়েছেন আফজল শাহ ওরফে আরমান আলীর স্বকীয়তা।

নাগরি লিপি বর্ণের প্রেমিক হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি নাগরি লিপির স্রষ্ঠা বলা হয়ে থাকে। কেউ বলে সুফি সাধক’কেউ বলে মরমী কবি’কেউ বলে আধ্যাত্বিক ফকির’কেউ বলে ওলি আউলিয়া’ হিসেবে শ্রদ্ধাপাত্র আফজল শাহ। নুর পরিচয় গ্রন্থের বহি বিশ্বের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, সুফিশাস্ত্র উল্লেখ্য করে আরো শক্তিশালী করে তোলেন। বৃহত্তর সিলেটের রিসালের মারিফাত সুফিবাদ কে আরো সমৃদ্ধ সমাদৃত করে গেছেন। আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ) ২২ জন খেলাফত প্রাপ্ত হলেন শাহ জমশেদ আলীকে খেলাফত প্রদান করার কিছুদিনের মধ্যে পরলোক গমন করেন। তিনি আফজল শাহ ওরফে আরমানী (রহঃ) খেদমতে বহু বছর ছিলেন পীর শাহ জমসেদ আলীর।তার মৃত্যু আসন্ন বুঝে একদিন তার সকল শিষ্যকে সমবেত করে দরগা শরীফের যাবতীয় কাজ কর্ম ও তার নাগরি ও উর্দ্দু গ্রন্থগুলি হেফাজতে রাখার নির্দেশ প্রদান এবং চারদিন পর ইন্তেকাল করেন। যথারীতি এই পুর্থিগুলো ও কয়েক খানা কিতাব সংরক্ষণ করেছেন। নাগরি লিপির পুর্থির মধ্যে ‘নুর পরিচয়’ পুর্থিখানায় গীতকাব্য, গজল দ্বিপতি,মরমীবাদ, ত্রিপদি ও হাইড় বিদ্যমান রয়েছেন। মাঝে মধ্যে ভক্তরা সমবেত হয়ে পুর্থি পাঠ করতেন। নাগরি লিপি কিতাব খানা আফজল শাহ নিজ হাতে রচনা করেছেন। এই কিতাব খানা তখন কেউ ভালো ভাবে পড়াতে পারতো না। এমনি দেশের সেরা ভাল উর্দ্দু জানে ওয়ালারা মাওলানা ও কিতাব খানার যথাযথ ভাবার্থ করতে পারেনি। শাহজালাল (রঃ) আধ্যাত্বিক রাজধানী বলে বিশ্বের মানচিত্রে সু-পরিচিত করে গেছেন। তার উত্তরসুরি হচ্ছেন বৃহত্তর সিলেটের এই মরমী কবি দার্শনিক শুধু আধ্যাত্বিক সাধক আফজল শাহ। উর্দুতে রচনা করে গেছেন সুফিশাস্ত্র গ্রন্থ রিসালায়ে মারিফত এবং সিলেটের নগরী লিপিতে রচিত তার অবিস্মরণীয় গ্রন্থের নাম হলো ”নুর পরিচয়” ।

সৃষ্টিতত্ব,দেহতত্ত¡,হরকতত্ত¡, সব মিলিয়ে শরীয়ত, মারেফত, হাকিকত, ও তরিকতের এক আশ্চর্য সমন্বয় ঘটিয়েছেন নূর পরিচয় গ্রন্থের মাধ্যমেই। নূর পরিচয় গ্রন্থের বিভিন্ন পর্বের রয়েছেন দেহতত্ত¡, মারিফত, ভাব সংগীত,পুথি, কবিতা, ও গান। এসব পুথি কবিতা গান সিলেট সুনামগঞ্জ ও ছাতককে আধ্যাত্বিক বাংলাদেশের রাজধানী মরমী মানচিত্রে দখল করে রেখেছে সম্মানিত স্থান।পুর্থি পাঠ গ্রাম বাংলার সাহিত্যে সংস্কৃতির এক অনন্য বাহক।কালের প্রবাহে এই পুর্থি সংস্কৃতি এখন অনেকটাই বিলিন হয়ে গেছেন। আধুনিক তার আকাশ সংস্কৃতি শহর ছেড়ে গ্রামকে গ্রাস করেছেন অনেকটাই। তার পর ও এই পুর্থি আবেদন এখনো একেবারে ফুরিয়ে যায়নি।হারিকেল মুশাল জ¦ালিয়ে পুর্থি পাঠের সেই গ্রাম্য বৈঠক হয়তো এখন আর দেখা যায় না ।তথ্যাপি ও যান্ত্রিক নগর সংস্কৃতির মাঝে কালে ভদ্রে উঠে আসে এ পুর্থির ভাষা। তাইতো সুর আর তালের আঙ্গিকে সাজানো গ্রাম পুর্থিও মধ্যে দিয়ে বাংলার ঐতিহ্য সামাজিকতা শোষন কিংবা বঞ্চনা কথাগুলো এখনো আমাদের আলোড়িত করে।পুর্থিসাহিত্য আরবী,উর্দ্দু ,ফারর্সী ও নাগরী ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেনীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পযর্ন্ত এর ব্যতিত্রæম কাল। এ সাহিত্যেও রচিয়তা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়। মধ্য যুগের বাংলা ভাষার যে ঐতিহ্য তৈরি হয়েছিল,তার সাথে এ কাব্যেও ভাষার মিল খোজে পাওয়া কঠিন । সিলেট অঞ্চলে মুসলমানদের কথাভাষা এর উৎস ছিল বলে মনে করা হয়।

তার মুশিদ হলেন জৈন্তাপুর উপজেলার খ্যতিমান সুফিসাধক হযরত সৈয়দ শাহ আনজির আলী (রহঃ) শিষ্যত্ব বরন করেন আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী। তার অনুসরনে পরবর্তীকালে বহু সংখ্যক মুসলমান ও খ্যাতিমান কবি এ জাতীয় কাব্য নাগরীভাষার ৮টি কাব্য রচনা করেছেন।সকল শ্রেনীর মানুষের কাছে ব্যাপক সর্বাধিক জনপ্রিয়তা ছিল।সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গেছে আকা বাকা ছোট নদী। আয়না নদীর নামেই তাকে সবাই চেনে। এই ছোট নদীর পাড়ে বিখ্যাত দেশের বরেণ্য খ্যতিমান সুফিসাধক আফজল শাহ ওরফে আরমান আলীর সুয়ে আছেন। এখানে অন্তিম শয়নে শায়িত এই মরমী কবির নামেই আজ থেকে দীর্ঘ দুইশত আট বছর বৎসর পূর্বে মরমী কবি আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ) শিবনগর গ্রামে ১৫ ফ্লাগুন ১২১৪ বাংলা জন্ম গ্রহণ করেন এবং মৃত্যু হয়েছেন ২ আষাঢ় ১৩৩৪বাংলা। তার ব্যক্তিগত কর্ম জীবন যেন এক রহস্যঘেরা ইতিহাস। তিনি ছিলেন এক পূণ্যময় কর্মের অধিকারী। জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত ধ্যান ধারনায় মগ্ন ছিলেন ।

আফজল শাহর্’ মুর্শিদজান ছিলেন হযরত সৈয়দ শাহ আনজির আলী (রহঃ) চিশতিয়া নকশ বন্দিয়া তরিকার আধ্যাত্বিক সুফি সাধক ছিলেন।তার পীরজান ছিলেন জহুর দেওয়ান শাহ’ সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার কদমপাটা গ্রামে তার মাজার অবস্থিত ।

রহস্য ঘেরা জীবন এই ফকির আফজল শাহ্ শৈশবে সিলেটের বিখ্যাত ঈদগাহ ময়দানে মোহররমের ১০ তারিখ লাঠি খেলা দেখতে গিয়েছিলেন আফজল শাহ। ১৭৮২ সালে সৈয়দ হাদি ও সৈয়দ মাহদী ইংরেজি বিরোধী বিদ্রোহী মোহাররমের দিনেই শাহাদত বরন করেন।সেই দিনটির স্মরনে লাঠিখেলা অনুষ্টিত হতো । এই লাঠি খেলা দেখতে গিয়ে বালক আফজল শাহ্ সঙ্গীদের কাছ থেকে অতল গভীরে রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে আফজল শাহ্ আর ফিরে আসেননি। ঈদগার পাশে একটি টিলার একপাশে একটি গাছের নিচে বিষন্ন বালক আফজল শাহ্ তখন বসে আছেন ধ্যান মগ্নে। হযরত সৈয়দ আনজির আলী শাহ(রহঃ) চোখে ধরা পড়েন তিনি।

হযরত সৈয়দ শাহ আনজির আলী (রহঃ) আফজল শাহ্কে বলে তার সঙ্গে যাওয়ার আহবান জানালে তিনি মায়ের কাছে ফেরার কথা বললেন। হযরত সৈয়দ শাহ সুফি সাধক আনজির আলী (রহঃ) তাকে মা’র কাছে পাঠিয়ে ক’দিন পর পুনরায় আফজল শাহ্-এর শিবনগরস্থল বাড়িতে এসে হাজির হয়েছিলেন। তখন আফজল শাহ মা’র কাছে এই পুত্রকে প্রার্থনা করলেন। মা’র মন উৎকন্ঠিত থাকত সব সময় আফজল শাহ কিংবদন্তী আছে। শৈশবে গভীর রাতে পাথর এনে নামতো তার বাড়ির সামনে এবং পাথরের উপর বসে তিনি কোথায় যেন উধাও হয়ে যেত। কখনো বন জঙ্গঁলে তাকে দেখা যেতো ধ্যান মগ্ন অবস্থায় বসে আছে। ফকির এর আহবানে উপেক্ষা করতে পারলেন না। বালক আফজল শাহ্, হযরত সৈয়দ আনজির আলী (রহ:) সঙ্গী হলেন। একাধারে দুই যুগে পীরের খেদমতে থেকে তাকে পীরজান শাহ জহুর দেওয়ান কাছে সৈয়দ আনজির আলী শাহ তার শিষ্য আফজল শাহ পাঠিয়ে দেন। সেখানে গিয়ে আরো ১২ বছর পীরজান শাহ জহুর দেওয়ানের কাছে তালিম গ্রহন করেন। শাহ জহুর দেওয়ানের বাড়ীতে হঠাৎ একদিন কদমপাটা গ্রামে সৈয়দ শানুর শাহ তার ঘরে আসেন। পর বলেন আরে বেটা তোমার ঘরে ”বাঘের গন্ধপাচ্ছি কেন? তখন শাহ জহুর দেওয়ান তিনি সৈয়দ শানুর আলী শাহকে বলেছেন সৈয়দ আনজির শাহ এই ছেলেটাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই ছেলে তোমার নাম কি? আফজল শাহ্ । তখন তিনি জহুর দেওয়ানকে বলছেন এটা এক বাঘ বাচ্ছা হচ্ছে । তাকে ভালো ভাবে তালিম দিলে সিলেটের সেরা আধ্যাত্বিক ফকির বনে যেতে পারে। সে আমার নুর নছিহত হার মানিয়ে ব্যাপক শত্তিশালী আধ্যাত্বিক ফকির হয়ে যাবে । পীরজান জহুর দেওয়ান শাহ এর তালিমে আফজল শাহ যখন আধ্যাত্মিক বিদ্যায় পরিনত মানুষ হলেন। তখন তার মুশিদজান হযরত সৈয়দ আনজির আলী (রহ:) তাকে চার তরিকার পীর কামেল ফকির নিয়ে বৈঠক করে আনুষ্টানিক ভাবে বিদায় দেন পীর কামেল ফকির আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী কে। সোনা রূপা হলুদ জলে স্নান করিয়ে সাদাবস্ত ও ৩২ টি অলংকার পরিয়ে নারী বেশে বিদায় নিলেন আফজল শাহ্কে। এরূপে ঘুড়ে বেড়ালেন সিলেটের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে হবিগঞ্জ,ভানুগাছ, লংলা, ইটা, তরক, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ,কুলাউরা,চুনারুঘাট, বানিয়াচং, সহ প্রভৃতি স্থানে। তার সিলেট মনিপুরা সম্প্রদায়ের প্রচুর শিষ্য হয়েছেন। অত:পর এক পর্যায়ে লোক চক্ষুর আড়ালে হাওরের মাঝখানে কচুরীপানার উপর শুয়ে রাত্রি কাটিয়ে দিয়েছেন বহু বছর। ততদিনে দীর্ঘ দাড়ি গোফ ও লম্বা চুলের আফজলশাহ, বালা বুলী ইত্যাদি অলংকার একপ্রস্থ সাদা বস্ত্রে ঢাকা শরীর। জীবনের যাবতীয় ভোগ বিলাস বঞ্চিত চেহারার এক আশ্চর্য দ্যূতি আলোকিত ব্যক্তিত্ব।

মুশিদজান ও পীরজান এর নির্দেশে সাধনার পর ফিরে আসলেন নারী টানে নিজ ঠিকানায়। সারারাত এবাদত বন্দেগী ভাব জগতে সুত্রে মুর্ছনায় হারিয়ে যাওয়া, চোখের লে আপ্লুত এক মরমী আধ্যাত্বিক সাধক ছিলেন। এবাদত বন্দেগী পর রাতেই বালিশের বদলে এক টুকরা কাঠে মাথা শুইয়ে থাকতেন। গুন গুন করে গান গেয়েছেন এবং আধ্্াযত্বিক ভাব জগতে বিশাল ভান্ডার ও দেশের বরেণ্য মরমী কবি গান সৃষ্টি করে গেছেন। তার একটি মুর্শেদি গান-

দয়াল মুর্শিদ দয়া কর আমারে
তুমি না করিলে দয়া কে করিবে আমারে
দয়াময় নামটি তোমার যাহির সংসারে
আউয়ালে আখেরে মুর্শিদ তোমার ভরসারে।।
সর্বগুণের গুণি তুমি আমি দুরাচাররে
তুমি আমার অন্তর যানি নামটি দয়াময়।।

গান কোকিল সুরে খেয়েছেন এবং শুনতেন, ব্যাপক গান রচনা করে গেছেন। তার নূর পরিচয় গ্রন্থে রয়েছেন তার রচিত বিভিন্ন দেহত্ব,মারিফত,শরিয়ত নিয়ে ভাব জগতের ফকিরি গান রচিত করেন তিনি। তিনি মানুষ পশু পাখি প্রাণীকুলের প্রতি ছিলেন অসীম স্নেহ মমতা আর পশু পাখির সাথে ছিল তার গভীর প্রেম। এই এলাকার পাখী শিকার নিষিদ্ধ ছিল। ভাব ভক্তি ভলোবাসার স্নেহের প্রতীক ছিলেন বলেই আরেক নাম ছিলেন ”সদাই সোহাগী”।

ইলমে তাসাউফ সম্পর্কে তার অসীম ভান্ডার ছিলেন তার প্রকাশিত পান্ডুলিপি রিসালায়ে মারিফত। সিলেটের মাটিতে তার আরেক মরমি কবি সৈয়দ শাহনুরের অবিস্মরণীয় মহান গ্রন্থ ‘নূর নছিহত’ আর আফজল শাহ- এর গ্রন্থের নাম নুর পরিচয় দ’ুটি সিলেটের নাগরি ভাষায় লেখা রয়েছে। আফজল শাহ্ জীবনে ১২টি বছর কেটেছেন শাহ জহুর দেওয়ান মৌলভীবাজার জেলার কদমপাটা গ্রামের বাড়িতে। আর আগেই উল্লেখ করা হয়েছেন তার মাজারে সৈয়দ শাহনুরের ”নুর নছিহত” এর একটি পান্ডুলিপি যতেœ রক্ষিত রয়েছে। যা সৈয়দ শাহনুর তাকে নিজ হাতে পীরজান জহুর দেওয়ান শাহ বসত ঘরে দিয়েছিলেন বলে মৌলভীবাজার জেলার কদম পাটা গ্রামের জন সাধারনের মাঝে জনশ্রæতি রয়েছে এখনও।

সিলেট বিভাগের চার জেলায় ও বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন নারী ও ভিক্ষুক ভেসে মরমী সাধক আফজল শাহ সফর করতেন। অসহায় মানুষের সুখ দুঃখের একমাত্র কান্ডারী ও বিপদে অগ্রসৈনিক ছিলেন। তার পুর্ব পুরুষরা ভারতে হায়দারাদ নামক স্থান থেকে তার বাবা এসেছেন। ভারত ও বাংলাদেশের কয়েক হাজার শিষ্যরা রয়েছেন দুই দেশের আনাচে-কানাচে। সর্ব ধর্মের মানুষের কান্ডারী ছিলেন তিনি। তিনি সব সময় নদীর পাড়ে, বনজঙ্গলে এবাদত খানা তৈরী করে বসবাস করতে পছন্দ করতেন তিনি। তার নদীর সাথে কি যেন মমতা ছিল তা বুঝা মুশকিল! জনশ্রæতি রয়েছে নদী কলতানে ঢেউয়ের তালে তালে এবং তার ¯িœগ¦ বাতাসের সাথে ছিল আত্মীয়তা সু-সম্পর্ক। সব সময় নদীর পাশে ও বনজঙ্গলে সময় অতিবাহিত করতে পছন্দ করতো। প্রচন্ড শীতের দিন ও গভীর রাতে তাকে নদীতে সাতাঁর কাটতে দেখা যেত। এই অলৌকিক সুফি কবি আধ্যাত্বিক দরবেশ এর জীবন ছিল ইলম্ েদ্বীনের খেদমতে নিবেদিত প্রান। দক্ষতার সাথে তার শিষ্যরা আদর্শ উপদেশ সংস্পর্শে ¯েœহ মমতায় অনেক শিষ্যরা ভবিষ্যত হয়েছিল আলোকোজ্জল। এই মনিষী যতদিন এ পৃথিবীতে ছিলেন ততদিন আল্লাহ তায়ালা ও তার রাসুল (সাঃ) এর সুন্তুষ্টি অর্জনের জন্য খেদমত আজ্ঞাম দিয়েছেন ইলমে দ্বীনের। তিনি ছিলেন নিঃস্বাধ কর্মবীর। মসজিদ এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ প্রতি ছিল অগাঢ় প্রেম প্রীতি ভালোবাসা। জীবনে ধ্যান সাধনার মধ্যে নতুন প্রজন্মের উপহার দিয়ে গেছেন নাগরি লিপি বর্ণের ৭টি মূল্যবান গ্রন্থের লোককাব্য সাহিত্যে ভান্ডার। জীবনের শেষ নিঃশ্বাসত্যাগ করার পূর্বে বটের নদীর পূর্বেপাড় থেকে পশ্চিম পাড়ে চলে গেছেন তিনি। জীবনের প্রতিটি বসন্ত কেটেছে জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমেই। সুফি সাধক নাগরি বর্ণের লেখক আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ)।তার চির অশ্লান রয়েছে তার জীবনের সমন্ত কীর্তিকলাপ। তিনি এখন জীবনে করেছিলেন গঠন যার প্রেম প্রীতি ভালোবাসা আজীবন মানুষের অন্তরে রয়েছেন বিদ্যমান। কবির ভাষায়- বলতে হলো।

এর মধ্যে রয়েছেন অনবদ্য ভাব সংগীত, মরমী কবিতা ও গান নবীর শানের পুর্থি সৃষ্টি করে গেছেন। সিলেটী নাগরি বর্ণের ভাষায় বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ ছাতক যথা বাংলাদেশের মরমীবাদকে সম্মানিত স্থানে পৌছে দিয়েছে । বৃহত্তর সুনামগঞ্জ শিল্পনগরী ব্যবসা বাণিজ্যিক একটি সু-প্রাচীন জনপদ। প্রায় সাতশ’ হিজরী থেকে মুসলমানদের আগমনের মধ্যেদিয়ে ধীরে ধীরে মুসলিম সাংস্কৃতি বিকাশ ঘটেছিল। ১৩০৩খ্রিষ্টাব্দে শাহজালাল (রঃ) ইয়ামনি সহ ৩শ’৬০ আউলিয়ার আগমনে সুফিবাদ ফকিরাদের প্রচলন শুরু করেন। এখানে আগত সুফি সাধকরা ইসলামিক আদর্শ ছড়িয়ে দিতে এখানকার আদিবাসীদের বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা দেন সুফি ফকির, সাধকরা। যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন আরবী নাগরি বর্ণের ভাষা, ফার্সী ও উর্দ্দু উল্লেখযোগ্য। এগুলোর সমন্বয়ে মরমী সাহিত্যে নাম জন্ম দেয়। এক নতুন সাহিত্যের নাগরি বর্ণের অফুরান্ত সুফিবাদের ভান্ডার। আজ কাল বলা হয় দুইশত আট বছর আগের নাগরি বর্ণের পান্ডলিপি আকারে তৈরী করে গেছেন আধ্যাত্বিক সুফিসাধক আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ)। কালের পরিবর্তনে এই মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে যেতে বসেছে। বাংলার নাগরি বর্ণের গবেষক ও প্রেমী হিসেবে বলা হতো আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী ও সদাই সোহাগী ওরফে বড় হুজুর (রহঃ) নামেই পরিচিত ছিলেন। তিনি নাগরি বর্ণের রচিত গীতিকাব্য পুর্থি গান ভাবসঙ্গীত, সুফি কবি সমৃদ্ধ করেছেন। এছাড়া তার ৭টি গ্রন্থে পীর দরবেশ ওলিদের জীবন ইত্যাদি বহু গ্রন্থ ছাতকে প্রাচীন সাহিত্যের স্বাক্ষর হয়ে আছে। ১৪০০ সাল থেকে এ অঞ্চলে নাগরী লিপি ভাষায় উদ্ভব ঘটে। সুফি কবি আফজল শাহ ওরফে আরমান আলীর মানব কল্যাণে অমৃতবানী রেখে গেছেন। আফজল শাহ শুধু ফকির নামেই পরিচিত ছিলেন না। তিনি একজন সুফিতাত্বিক লেখক ছিলেন।তিনি ভারতবর্ষের আকাশ বাণী বেতার কেন্দ্রে আফজলশাহ নিয়মিত গান রেকর্ড হয়ে কলিকাতা থেকে বেতারের মাধ্যমেই সম্প্রচার করা হতো। আফজলশাহ নিজ কন্ঠে অসংখ্য গান সম্প্রচার হয়েছেন।তার অসংখ্য জনপ্রিয় গান কলিকাতার আকাশবাণী বেতার কেন্দ্রে রয়েছে। এই গান গুলো বাংলার আনাচে-কানাচে বিভিন্ন সুরকারের নামেই প্রচার করা হচ্ছে। কালের পরিবতে এই জনপ্রিয় গান গুলো কলিকাতা বেতার কেন্দ্র রেকড থেকে উদ্বারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে এলাকাবাসির দাবি করেন। কারন এই গানের রেকর্ড বের হলে অনেক নামী-দামী কন্ঠ শিল্পীরা নকলবাজীতে ধরা পড়বে বলে সচেতন মহল দাবী করে আসছে। আজো ইতিহাস স্বাক্ষী আকাশবানী বেতার কেন্দ্রে আফজল শাহ নাম সুরকার গীতিকার হিসেবেই তালিকাভুত্ত কন্ঠ শিল্পী ছিলেন। তিনি নিয়মিত ভাবেই কলিকাতা আকাশ বানী বেতার কেন্দ্রে আসা যাওয়া করতেন।তার শরিয়ত, মারিফাত আধ্যাত্বিক বা তাসাউফের অনুশীলনের নস্ফ ব্যক্তিবর্গের জন্য উপকারী এবং আধ্যাত্বিক অনুশীলনের নসফ পরিশুদ্ধনের সর্বোপরি দৈহিক উন্নতি ও আত্মিক সমৃদ্ধির জন্য সমুজ্জ্বল ব্যবস্থাপনা হিসেবে সমাদৃত। তিনি মানবদেহের বিভিন্ন লতিফা সুক্ষ-অঙ্গগুলো খোদারী পরিচষায় সামথ্যবান হয়। বোধ শক্তি সম্পন্ন মন অধিকতর শক্তি অর্জন করে। প্রকৃত মুমিনের অন্তরে মৌলিক ঈমানের স্পৃহা সঞ্চারিত করে। মৃত অন্তরে জীবনী শক্তি সঞ্চালিত হয়। নফসের ক্ষতিকারক রোগ-ব্যাধি থেকে পরিত্রান করে খোদায়ী আরোগ্য প্রদান করে। এছাড়া তিনি তার শিষ্যদের মাঝে বিশাল অলৌকিক ক্ষমতা খেলাফতপ্রাপ্ত তৈরি করেছেন। হবিগঞ্জ মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ, সিলেট ও সুনামগঞ্জ সহ শতাধিক আস্তানায় হাজার- হাজার শিষ্য তৈরী করেছেন নিরবেই। উপজাতিরা বেশিরভাগ মানুষরা তার শিষ্যত্ব বরন করেছেন সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন মুসলমান হয়েছিলেন অসংখ্যা ব্যক্তি। এ লিপির ভাষায় হয় বিপুল সংখ্যক ইসলামী গ্রন্থ (কিতাব) সহ অনেক বই পুথিকার্ব্য, গজল, কবিতা, ধাঁ ধাঁ, ছিলক, জারী, সারি, মুর্শেদী ইত্যাদি। এ গুলো বাংলার লোক সাহিত্যের আওতাভূক্ত।

১৩০০ খ্রিষ্টাব্দের গুড়া থেকে পীর দরবেশ আউলিয়ারা আনিত সাংস্কৃতি ইসলামিক মতবাদ তখন সিলেটের তথা বিভাগের বিভিন্ন গ্রাম অঞ্চলে প্লাবিত করে ছিল, তখন থেকে সাধক ফকিরদের চেষ্টা প্রচেষ্টার ফলে মানুষকে শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তুলতে রচিত হয়, নাগরি ভাষা পুথিকার্ব্য, পুস্তক, রাগ ও মরমী সঙ্গীত।

প্রধান বিষয়বস্তু হলো- নামাজ, রোজা, হজ্ব, জাকাত, ইসলামী ইতিহাস, ঐতিহ্য, কাহিনী ইত্যাদি। যার থেকে ধীরে ধীরে পীর দরবেশ আউলিয়ার নির্জন বনঁজঙ্গলে সাধনাগারে আধ্যাত্বিক ওয়াজ নসিবত সহ হৃদয় হতে উচ্চারণ হতো ছন্দের। পরে এটাই মুর্শেদী বা ফকিরালী গান বা মরমী নামে খ্যাত অর্জন করেন।

বৃহত্তর সিলেটের পীর দরবেশ এর সংস্রব পেয়ে এ অঞ্চলের মানুষ যুগ যুগ ধরে ভাবের জগতের বাসিন্দার পরিনত হলো। যুগে যুগে এখানে জন্ম হয়েছে অসংখ্যক পীর ফকির সাধক ও মরমী কবিদের। মরমী সঙ্গীত ভাবের কথা, ভাব ছাড়া এর মর্ম বানী উদ্ধার করা সম্ভব নয়। আফজাল শাহ ওরফে আরমান আলী(রহঃ) নাগরি লিপি বর্ণের নুর পরিচয় গ্রন্থেই ৬২টি মরমী গান রয়েছে। সুফিশাস্ত্র রচনার জালালাবাদ ও সিলেট বিভাগে পাঁচশ মরমী কবি গ্রন্থে এসেছে তার তত্বকথা গানের পরিচয়। ডক্টর গোলাম কাদির এর গবেষণা অর্ভিসন্দর্ভে ‘সিলেটী নাগরী’ ভাষায় ও সাহিত্যে তার শিষ্য নসীম আলীর উপর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছেন। কিন্তু যতোটা প্রচার পাবার কথা ছিলো, সুফি কবি নাগরি লিপি ভাষার স্রষ্ঠা ফকির আফজল শাহ ওরফে আরমান আলীর(রহঃ) ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি। জীবিত অবস্থায় অর্ন্তমূখী প্রচার বিমূখ এই দরবেশ আফজল শাহ ছিলেন। যেমন ছিলেন প্রচার বিষয়ে উদাসীন, তার মাজারের বর্তমান খাদেম শাহ লিয়াকত আলী পীর আজোও অবধি সেই ফকিরি ধারাই অব্যাহত রেখে চলছে। যার ফলে গত এক শতাব্দীর ও অধিককাল ধরে লোক চক্ষুর আড়ালে রয়ে গেছেন এই আধ্যাত্বিক দরবেশ জীবন ও কর্মের মহতী অধ্যায়। বাংলাদেশ সুনামগঞ্জ জেলার এই নিভৃত পল্লীতে জীবন কাটিয়েছেন এই নাগরি লিপির স্রষ্ঠা সুফি কবি আফজল শাহ। তিনি রহস্যময়ী আজব মানুষ ছিলেন ব্যক্তিগত জীবনে। তাদের ফকিরি সিলসিলা যত্বে সংরক্ষন করে রেখেছেন। একটি প্রাচীন বাঁশের চোঙায় আদরে সেই দলির সংরক্ষণ করে রেখেছেন একপাশে। অন্যপাশে পবিত্র কাবা শরীফের পবিত্র গিলাফের একটি অংশ। কাঠের আলমারীতে যত্বে রক্ষিত রয়েছে সেই সব সুফিশাস্ত্র সমূহ- যা নিয়মিত পাঠ করেন বর্তমানে পূর্বের খাদেম অর্থ্যাৎ আফজল শাহ্। তার মাজারের খাদেম শাহ উসমান আলী সন্তানকে খেলাফত দান করেছিলেন। শাহ্ জমশেদ আলীর পীর’ শাহ্ মোশাহিদ আলী পীর ওরফে চান মিয়া’ শাহ্ জমশেদ আলীর তৃতীয় পুত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন ছৈলা আফজলবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মাজারের খাদেম শাহ মোশাহিদ আলী ওরফে চান মিয়া’র মারা যাবার পর মাজারের বতমান তার পুত্র রাসেল আহমদ খাদেম হিসেবেই রয়েছে। ভক্তবৃন্দরা তাকে আপন জন হিসেবে শাহ লিয়াকত আলী পীরকে মুল্যায়ন করেছে।

এই মাজারে রয়েছে সিলেটী নাগরি লিপিতে আফজল শাহ নিজের লেখা, ঘন্টানামা, বাটুরানামা, আলুয়ানামা, কলন্দরনামা, দস্তারনামাসহ পান্ডলিপি আছে এখানে। এসব পান্ডলিপির লেখক, সুফি কবি সাধক, আধ্যাত্বিক দরবেশ আফজল শাহকে নাগরি লিপি বর্ণের দার্শনিক। তাকে নাগরি লিপির প্রেমী বলা হতো! তার পূর্বপুরুষরা বাংলায় এসেছিলেন দক্ষিণ ভারত ও হায়দারাবাদ থেকে এসেছিলেন বাংলার বুকে। তার পিতা সিয়ালী শাহ ছিলেন উদাসীন মানুষ। দীর্ঘদিন এক জায়গায় বসবাস করতেন না। এক স্থানে বসবাস করতেন ঘরে গেরস্থালী হতো। পশু পাখির সাথে ছিল গভীর প্রেম। পশু পাখির কলতানে ভরে উঠতো বাড়ী ঘর, তিনি পাখি হয়ে উড়াল দিতেন নতুন ঠিকানার সন্ধানে।

সিয়ালী শাহ’র ছিলেন দুই পুত্র সন্তান। আফজল শাহ ছিলেন চির কুমার, আসকর শাহ যৌবনে কোথায় নিরুদ্দেশ হয়েছেন আজো রয়েছেন অজানা। আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রঃ) মাজার এর ছিলেন পূর্বে খাদেম। আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী ও বৃহত্তর সুনামগঞ্জ-সিলেট,মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ”বড় হুজুর” নামেই সকল শ্রেনীর মানুষের কাছে পরিচিত ছিলেন। শাহ জমশেদ আলী পীর সন্তান চান মিয়া মারা যাওয়ার পর বর্তমানে তার পুত্র শাহ রাসেল আহমদ খাদেম হিসাবে সেবা করছেন।

আফজল শাহ পীর ও মুশিদজান হযরত সৈয়দ আনজির আলী শাহ (রহঃ) চিশতিয়া নকশবন্দিয়া তরিকার ফকির ছিলেন। ফকির আফজল শাহ জীবনকর্ম ছিলেন নাটকীয়! আফজল শাহ তার মুশিদজান মদিনা মাদ্রাসার আল-মাদানী ডিগ্রীপ্রাপ্ত সুফি সাধক সৈয়দ শাহ ফকির আনজির আলীর সফর সঙ্গী হলেন।তিনি একাধারে ২৪ বছর পীরের খেদমতে থেকে তার খেদমত এবং বিদ্যা শিক্ষা গ্রহণ করেন।

আফজল শাহ, আরমান আলী ও সদাই সোহাগীকে ৩২টি অলংকার পড়িয়ে নারী বেশে বিদায় দেন।তখন তাকে সিলেটে কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, বানিয়াচং, মনিপুর, সিকাবিল, কান্দিগাঁও, আদমপুর। তিনি ঘুড়ে বেড়ালেন বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ঘোড়ামারা, লংলা, ইটা, তরফ, মনু ও ধলাই নদীর তীরে। অবশিষ্ট গ্রাম বর্তমান ভারতে অবস্থিত রয়েছেন। কুলাউড়া, হাকালুকি হাওরে, সুনামগঞ্জ দেখার হাওড়,দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডার খাল, টেংরা টিলার গ্যাস ফিল্ড এলাকার মহব্বত পুর, সিলেটের জিলকার হাওরের রয়েছে আফজল শাহ হাওড়ে দুমখাল জঙ্গলের পাঁচ পীরের আস্তানা লামাকাজি এলাকায় একটি বাড়ীতে পাঁচ পীরের সাধনা মগ্ন থাকেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছেন। এই বাড়ীর পুকুর পাড়ে একটি আসন ছিল আফজল শাহ,নচিবআলী শাহ, নাজিম শাহ, ছিলিম শাহ, আজিম শাহ, রমাই শাহ,আরকুম শাহ, আরব শাহ সহ এই বাড়ীর পুকুর পাড়ে আসন স্থানে প্রতিনিয়ত বসতো তারা। এই আসন আশপাশে এলাকায় প্রচুর বনজঙ্গল ছিল, বাঘ, ভাল্লুক সহ নানা জাতের পশু-পাখির আগমন ঘটতো প্রতিরাতে। জিলকার হাওরের- দুমখাল নামক স্থানেই জঙ্গল এলাকায় গায়েবী ভাবেই আজানের সুর ভেসে উঠতো। এই স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে বর্তমানে। এখন এ আসন স্থানে মোমবাতি জ্বালালে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ আলো বন্ধ হয়ে যায় । এই আসন স্থানে ধ্যান সাধনায় মগ্ন থাকা অবস্থায় আফজল শাহ, হঠাৎ করে সিলেটের জালালাবাদ ইউনিয়নের আলীনগর হয়ে সুরমা নদী পায়ে হেটে ও ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের রামপুর, উজিরপুর, নুরুল্লাহপুর, জামুরাইল, তাজপুর, ভরাংপাড়, পালপুর, তকিপুর, বেরাজপুর ও দিঘলী গ্রাম সহ শ’শ’ কলেরা রোগের মানুষ মারা যাচ্ছেন এক রোগকে হানা দিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে আবারো সুরমা নদীর পশ্চিম পাড়ে গোবিন্দগঞ্জ পুরাতন বাজার থেকে ছৈলা আফজলাবাদ রেল ষ্টেশন জঙ্গলের সামনে আফজল শাহ’অবস্থান নেন। সেখান থেকে তিনি তার নিজ বসত বাড়ি শিবনগর গ্রাম আসেন। শিবনগর গ্রামে সাবেক ইউপির চেয়ারম্যান কালা মিয়ার বাড়ির পুকুরে দক্ষিন পাড়ে আফজল শাহ’বাবা ও মা’র মাজার অবহেলায় রয়েছে। তার পিতা আধ্যাত্বিক ফকির ছিলেন সিয়ালীশাহ।আফজলশাহ’র পিতা-মাতার মাজার রয়েছে শিবনগর গ্রামেই। তার মা একজন ধামির্ক ছিলো ।

নোয়াপাড়া একটি বাড়ী,সামনে আসন নিয়েছিলেন আরেক আধ্যাত্বিক ফকির হেকিম শাহ ইয়ামন থেকে বাংলার গোবিন্দনগর মাদ্রাসার সামনে বিশাল বন জঙ্গল থেকে কয়েকজন চাউল ব্যবসায়ী তাকে উদ্ধার করেন। এ ফকির আর্বিভাব হবার পর দুই ফকির দুই মতামত নিয়ে প্রায় সময় একই বটের নদীর মধ্যে অলৌকিক ভাবে কারামত শুরু করেন দুই ফকিরের মাঝে। বটের নদীতে ভেসে আসা একটি মরা গরু নিয়ে অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে অত্র এলাকায়। তখন হেকিম শাহ বসবাস করতেন নদীর পশ্চিম পাড়ে কৃঞ্চনগর গ্রামে মধ্য স্থানে নদীর পুর্বপাড়ে বসবাস করতেন আফজল শাহ’ এই দুই ফকির অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়ে সকল শ্রেনীর মানুষকে অবাক করে দিতেন। মরা গরু জীবিত হলো ! যার মরা তার ঘাটে যায়, এই কথা বলার পর গরু আবার নদীর উজানে চলে গেছেন। ফকির হেকিম শাহ বসত বাড়ীর সামনে। তখন দুই ফকির কারামত এর অসংখ্যা জনশ্রæতি রয়েছে এলাকার মানুষের মুখে মুখে! এঘটনার পর শিবনগর গ্রামে ঠিক উত্তরে অবস্থান নিয়ে আফজল শাহ ধ্যান সাধনার আসন নিয়ে নোয়া পাড়া গ্রামেই চলে যান। এই গ্রাম থেকে আফজল শাহ’ একই এলাকার দিঘলবাগ গ্রামে নদীর পাড়ে আসন তৈরি করে ধ্যান সাধনায় কাটিয়েছেন দীর্ঘদিন ।
তিনি মৃত্যু বরন করার পর তাকে আয়না নদীর পশ্চিম পাড়েই তার মৃত্যু দেহ দাফন করা হয়েছে। এর পর থেকে সুফিসাধক আফজলশাহ ওরফে আরমান আলী(রহঃ) মাজার কৃঞ্চনগর গ্রামে অবস্থিত।

তিনি অনেক সময় রাতের আধারের নদীর পানিতে ডুব দিয়ে আজমী শরীফ ,মক্কা শরীফ, মদিনা শরীফ চলে যেতেন বলে জনশ্রæতি রয়েছেন।তিনি সিলেটের বিভাগের প্রত্যান্ত অঞ্চলে, মনিপুরী স¤প্রদায়ের সহ চারদিকে অসংখ্য শিষ্য রয়েছে তার। এক পর্যায়ে লোক চক্ষুর আড়ালে হাওড়ের মাঝখানে কচুরীপনা ওপর শুয়ে বহুবছর বসবাস করছেন। ততদিনে দীর্ঘ দাঁড়ি গোফ ও লম্বা চুলের আফজল শাহ, বালা, বুলি ৩২টি অলংকার, একপ্রস্থ সাদা বস্ত্র ঢাকা শরীর। জীবনের যাবতীয় ভোগ বিলাশ বঞ্চিত চেহারায় এক আশ্চর্যদ্যুতি, জলমল করতো তা চেহারার বদনখানী। ফিরে আসলেন নিজের নিজ ঠিকানায়। সারা রাত এবাদতে বন্দেগী। সুরের লহরীতে হারিয়ে যেত, চোখের লে আপ্লুত এক মরমী মানুষ। তিনি খুবই স্বল্পহারি ছিলেন।

মানুষ, পশু পাখি অর্থাৎ প্রাণীকূলের প্রতি ছিলো অসীম প্রেম মমতা! ভাব-ভক্তি ভালোবাসার প্রতীক বলেই তার আরেক নাম ছিল সদাই সোহাগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইলমে তাসাউফ তার অগাধ অসীম জ্ঞানের প্রতীক তার প্রকাশিত রিসালায়ে মারিফাত বা ইরশাদে আফজলিয়া বা গুলশানে মারিফাত! শাহ তার শিষ্যদের মধ্যে ‘হরফুল খামলত’ এর রচিয়তা নসীম আলী, নাজিম শাহ, হুনাম শাহ, নচিব আলী শাহ, আমির খাঁ, আমান শাহ, ফয়াজ মুন্সি, আব্বাস মুন্সী,ফয়জুল্লা মুন্সী,মৌলা শাহ, হাতিম আলী শাহ,আহমদ আলী শাহ,ছাবাল আলী শাহ,আরব শাহ,বিয়ানীবাজার সুতারকান্দি স্থল বন্দর ভারত সীমান্ত এলাকায় আরেক শিষ্য,দয়ামীর,নাজিম বাজার,রশীদপুর স্থানে চারশিষ্য সহ ২২জন খেলাফত প্রাপ্ত হন। প্রতি বছর ১৫ ফাল্গুন তারিখে আধ্যাত্বিক ওলি আফজল শাহ ওরফে আরমান আলীর (রহঃ) পবিত্র ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান খাদেম শাহ লিয়াকত আলী পীর একজন মনোযোগী পাঠক হিসেবে পরিচিত লাভ করেছেন। আধ্যাত্বিক সাধক নাগরি লিপি স্রষ্টা সুফি কবি আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ) মাজারের এক আশ্চর্য সুন্দর ফকিরি অনুভব আসে যে কোনো দর্শনার্থীর মনে করেন। দূর দুরান্ত থেকে অনেকেই আসেন এই ফকিরের মাজার।

ছাতক উপজেলার ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দক্ষিণে কইয়া হাওড়ে পশ্চিম পাড়ে ২৪ কেদার জায়গার উপর এই হাউলী বা ফকির আফজলশাহ’এর মাজার অবস্থিত । এই মাজারে রয়েছে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে সবুজ ছায়া ঘেড়ায় আম, কাঠাল, ুজাম, লিছু, বরই, আমড়া, জলপাই,সহ নানাজাতে ফলফলাদীর গাছ, তেমনি আছে নানা ধরনের ফুল ও ঔষধের গাছ।
আফজলশাহ’এর নিজ বাড়ী ছিলো শিবনগর গ্রামে । তার মৃত্যু পর মাজার হয়েছে হাউলী গ্রামে। এ নিয়ে পুর্ব ও পশ্চিম পাড়ে রয়েছে আফজলশাহ ফকির নিয়ে অলৌকিক কর্মকান্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনার ঝড় বইছে। আফজলশাহ’এর বেশী ভাগ সময় কাটিয়েছেন শিবনগর,নোয়াপাড়া ও দিঘলবাঘ গ্রামে আয়না নদীর পাশে। তিনি মৃত বরন করার পর তার লাশ নিয়ে ভত্তবৃন্দরা পুথি পাঠ করে কয়েকটি গ্রাম ঘুড়েই আয়না নদীর-পুবপাড় থেকে আয়না নদীর- পশ্চিম পাড়ে হাউলী গ্রামে তাকে দাফন করা হয়। এর পর থেকেই আফজল শাহ’এর মাজার অবস্থিত হয়।

আফজল শাহ ওরফে আরমান আলীর পিতার নিজ বাড়ীর শিবনগর গ্রামে সিয়ালী শাহ’ নাম রদবদল নিয়েই অলৌকিক ভাবেই নৌকার মতো দৌড় শুরু করার মতো ঘটনা ঘটেছে এ বাড়িতে। এ নৌকা দৌড় নিয়ে এখানে ব্যাপক কেরামতি হয় বলে জনশ্রæতি রয়েছে এলাকায়। এই বাড়ীর অধিকাংশ লোভী ব্যক্তি পাগল হয়ে মৃত্যু বরন করেছেন বলে গ্রামবাসি মুখে মুখে এ সংবাদ রয়েছে।

আফজলশাহ’র অলৌকিক কারামত দেখেই রেলষ্টেশন নামেই আফজলাবাদ নামকরণ করা হয়।একই নামেই একটি ইউনিয়ন নামকরন করা হয় এ খ্যতিমান ওলি আফজলশাহ ও আফজলাবাদ। বার বার রেলষ্টেশন এলাকায় কাজ শুরু করলে কাজের লোক কাজ ছেড়ে পালিয়ে যায়। বটের নদীতে ব্রীজ নির্মাণে কাজ শুরু করে ৭টি ব্রীজের পাইল উধাও হয়ে গেছেন পানি নিচেই! কাজের লোকের হাত পা অবশ হয়ে যান। এভাবেই বার বার চেষ্টা করে ব্রীজ নির্মাণ করতে পারেনি ঠিকাদার। পিলার খাড়ার পর কোথায় যেন চলে যায় পানি নিচে । এখান থেকে চিঠির মাধ্যমেই কলিকাতা পৌছিয়ে দেয়া হয় সমস্যা কঠিন হয়ে উঠেন। সেখানে কঠিন সমস্যা সংবাদ পাওয়ার পর প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী হঠাৎ রাতে স্বপ্ন দেখেন আধ্যাত্বিক একজন দরবেশ এখানে ধ্যান মগ্ন অবস্থায় রয়েছে। তখন প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী স্থানীয় ঠিকাদারকে জানান এখানেই একজন আধ্যাত্বিক পীর কামিল দরবেশ এখানে ধ্যান মগ্ন অবস্থায় বসে আছে। তার কাছে গিয়ে দুই হাত জোর করে ক্ষমা চাইতে হবে।তিনি অনুমতি না দিলে এই স্থানে ব্রীজ নির্মাণ করা কঠিন হবে আমাদের। তখন ঠিকাদার সরাসরি আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ) কাছে গিয়ে মিনতি করে আকুল আবেদন করেন যে, ব্রীজ নির্মাণের জন্য। সেই সময় তিনি আবেদন পেয়ে বলেছেন এখন তো আমি কিছু বলতে পারবো না। আগামী কাল যাহা বলার বলব। পরের দিন তিনি ঠিকাদারকে জানান ৭টি গরু জবাই করে কাঙ্গালীভোজন করতে হবে। তখন আফজল শাহ’র কথা মতো ঠিকাদার কাঙ্গালীভোজন করার পর ব্রীজ নির্মাণে কাজ শুরু করেন। তার পর কোন ধরনের সমস্যা আর হয়নি। তখন ঠিকাদার এখান থেকে চিঠি’র মাধ্যমেই কলিকাতার রেলবিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাবরে পাঠিয়ে দেন। কলিকাতা নির্বাহী প্রকৌশলী আফজলাবাদ রেলষ্টেশন নামকরণ ঘোষনা দেন। এর পর থেকে রেলষ্টেশনটি একজন আধ্যাত্বিক দরবেশের নামেই পরিচিতি লাভ করেন। এছাড়া ভারতের রেলবিভাগেই রেলগাড়ী চলাচল নিয়ে রাস্তা-ঘাটে জটিল সমস্যা ছিল, এসব সমস্যা সমাধান করে বাস্তবে ফকিরালী ধারায় প্রমান করেছেন আফজল শাহ। ভারতে রেলওয়ের রেলষ্টেশনের আফজলশাহ নাম বলেই রেল মাষ্টার সহ সবাই আকুল মিনতি করে আধ্যাত্বিক ওলি’এর চরনে হাজার সালাম গ্রহন করুন। ভারতবর্ষে রেল বিভাগে সাফল্য অবদান স্বীকৃতি ছিলেন আধ্যাত্বিক ওলি আফজল শাহ’র অবদান স্বীকৃত।আধ্যাত্বিক ওলি আফজল শাহ’ বাংলাদেশের মা-মাটি ও মানুষের কল্যানে যাহা করেছেন তা চেয়ে বেশী কাজ করেছেন ভারতের মানুষের কল্যানের জন্য ।তিনি দুই দেশে রয়েছে হাজার-হাজার শিষ্যরা।তার শিষ্যরা ফকিরি ধারায় অব্যাহত রেখেই অলৌকিক ভাবে অসংখ্য কেরামতি দেখিয়েছেন দেশ বিদেশে মাটিতে। দেশ স্বাধীনতার সময় মুক্তিযোদ্ধারা বার বার কামান নিক্ষেপ করে ও ব্রীজটি নষ্ট করতে পারেনি। এখনো রয়েছে সেই ুআমলের পুরাতন ব্রীজটি কালে স্বাক্ষী হয়ে আছে। এছাড়া পবিত্র রমজান মাসে সেহরী খাবার সময় ঘোষণা করা হয় একটি পুরাতন ডংকা আওয়াজ। প্রতিদিন সন্ধ্যায় আজো সেই শতাধিক বর্ষের পুরানো ডংকা বাজে প্রদীপ জ্বালানো হয় মাজারে। তার পরপরই মাজারের মসজিদে গড়ে মাগরিবের আজান। প্রার্থনায় সামিল হন সবাই। গভীর রাত হয়ে আসতে থাকে। দুরের জোনাক পোকার আলো চল চল জোছনায় প্লাবিত হয় রাতের পৃথিবী। দরদী কণ্ঠে মরমী গানের সুর ভেসে আসে রাতের নৈঃশব্দ ভেদ করে। ভাবের জগতে ভক্ত হৃদয় চোখের জলে সেই মহান পরমাত্মার জন্যে প্রকাশ করে তার আকুতি। জীবাত্মা ও পর মাত্মার যে মরমী বিরহ তার অবসান ঘটিয়ে সেই আধ্যাত্বিক ক্ষমতার অধিকারী সুফি সাধক আর মহামিলনের জন্যে অনিঃশেষ ধারায় বাজতে থাকতে করুন সুর লহরী!

আফজল শাহ একটি মরমী সঙ্গীত ঃ-
আব আতশ থাক বাদ কিলা পয়লা হইলা
শরিয়তের মাঝে তার ছিদরি না করিলা।
নুরের মাঝে জমা কথা সবেত বুলয়
এর লাগি পুর্থি নাম নুর পরিচয়।
এসব কুদরতি কথা কেহ নাহি জানে
ফকির লোকে জানে কেবল মুর্শিদের জবানে
আরমানের মুর্শিদ জান আনজির আলী নাম
মদিনা মনোহরে তার কদিমী মোকাম
আরমানের পিরজান জহুর আলী দেওয়ান
তার মুর্শিদ জান জঙ্গলীয়া মাস্তান
এসবের লেওড়ী জান আধম আরমান।।
অধম আরমানে কয় হইলাম কুলুটা
মুখ চাইয়া পাড়ার লোকে মোরে দেয় খুটা
মধু খাইয়া ভমরা হইল মগন
আমি নারী অবাগিনী সংশার জীবন
সইগো অধম আরমানে কয় হইলাম কুলুটা
মুখ চাইয়া পাড়ার লোকে মোরে দেয় খুটা গো।।

এছাড়া ও অসংখ্য ভাবের জগতের মরমী গান ও গজল রয়েছে নুর পরিচয় পান্ডলিপিতে, উর্দ্দু ফার্সী, আরবী, নগরী ভাষায় এসব বিষয় তিনি লেখে গেছেন ফকির আফজল শাহ্ ওরফে আরমান আলী (রহঃ) এসব ভাষা ছিলো তার অসাধারন জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তিত্ত¡। তার আধ্যাত্বিক বা তাসাউকের প্রতি ছিলেন অনুরক্ত ব্যক্তিবর্গে ও জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং আধ্যাত্বিক অনুশীলনের নফস পরিশুদ্ধনের সর্বোপরি দৈহিক উন্নতি ও আত্বিক সমৃদ্বির এক উজ্জল নক্ষত্র ,এর ব্যবস্থাপনা হিসেবে সমাদৃত করেন।

আফজালুল আরমান ঐত্তম সব আাংখা বা মনোবাসনা ছিলো মুনাভীর , আরবি কয়েকটি

বর্ণমালার আধ্যাত্বিক তাৎপর্য-
(আলিফ) সাত নুকতা দ্বারা।
(বা,তা,ছা) নয়টি নুকতা দ্বারা।
(জিম,হা,খা) পাঁচটি নুকতা দ্বারা।
(দাল,জাল) ছয়টি নুকতা দ্বারা।
(ছোয়াদ,দ্বোয়াদ) আটটি নুকতা দ্বারা।
(তোয়া,জোয়া) এগারটি নুকতা দ্বারা।
(আইন,গাইন) পাঁচটি নুকতা দ্বারা।
(ফা,ক্বাফ) চারটি নুকতা দ্বারা।
(ক্বাফ) পনেরটি নুকতা দ্বারা।
(লাম) দশটি নুকতা দ্বারা।
(মিম) চারটি নুকতা দ্বারা।
(নুন) নয়টি নুকতা দ্বারা।
(ওয়াও) বারটি নুকতা দ্বারা।
(হা) পাঁচটি নুকতা দ্বারা।
(ইয়া) সাতটি নুকতা দ্বারা।

এভাবে উক্ত বর্ণমালা বা হরফগুলোর নাম বা গুনাগুন জাওয়াহিরে খানেছা” কিতাবে বর্ণিত রয়েছেন।
আরো আছে,
(রা,ঝা) চারটি নুকতা দ্বারা।
তিনিই স্বয়: সম্পন্ন ও স্বনির্ভর ।

কিতাবের এই পবতটি নাম: সালিকুল মারিফাত বা রিসালায়ে মারিফত যা আধ্যাত্বিক কর্মকান্ডের পরিচায়ক। সকল প্রশংসা আলাøহ রাব্বুল আলামীনেরই সব্যবস্থায় প্রাপ্য। আর উত্তম হচ্ছেন পরিনাম রয়েছে মুত্তাক্বীন পরহেজগার বান্দাদের জন্য। আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন মহান সম্মানী। তার অনুগত বান্দা বা নবী (সা:) এর সাহাবিগন মষাদাশীল ও সম্মানীত স্থানে।কুতুবে মুনাব্বিহাত:- এর মাঝে বর্ণিত রয়েছে হযরত আলী (রা:) এরশাদ করেন:-আল্লাহর সুন্নাত বা পন্থাহছে রাসুল (সা:)এর সুন্নাত ও আউলিয়ায়ে কেরামগনের সুন্নাত বা পন্থা। তার রিসালা হচ্ছে যে, মারিফাত শব্দটিতে চার-চারটি অক্ষর মাত্র। হে আমার বন্ধুরা। তোমরা জেনে রাখো ফকির বা দরবেশ হওয়া বড় নেয়ামত ও সৌভাগের ব্যাপার। এ ধরনের নেয়ামত দুনিয়াতে আর নেই। এই পরশ নেয়ামতে যে ব্যাক্তি পৌছিয়াছে সে খুবই সৌভাগ্যবান হিসেবে করা যে, সত্যিকার ফকিরি বা দরবেশী জীবন অত্যন্ত কঠিন। কারন অনেক কঠিন অনুশীলন ও ত্যাগ তিতিক্ষা ও সাধনায় মাধ্যমে এর সুফল পাওয়া যায়। আর যে ব্যাক্তির ফকিরি খেলাকত লাভ করার ইচ্ছা আছে। তাকে একজন কামিল পীরের আস্তানায় গমন করনে হবে এবং সবিনয়ে আরজ করিবে যে আমাকে ফকিরি সাধনায় তালিম বা দীক্ষা দিন। তখন পীর সাহেবের জন্য উত্তম হলো জরুরী ভিত্তিতে নবীন ও ভক্তকে আধ্যাত্মিক সাধনাবলি ও অনুশীলন সংক্রান্ত যতসব কথা-বার্তা আছে, দীক্ষা দেয়া। আরবি (রা) হরফ দ্বারা (রিয়াযাত) বা রূহানী মেহনত ও অনুশীলন বুঝায়। তাই প্রথমে (রা) হরফ সংক্রান্ত যত রহস্যেময় তথ্য আছে তাহা স্পঠ করে শিক্ষা দেবেন। এই ভাবে নামাজ রোজাসহ যাবতীয় আহকাম-আরকান তাকে শিক্ষা দেবেন তার আত্মায় সব প্রকার সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। আধ্যাত্বিক ফকিরি দরবেশ কাকে বলে এসব বিষয় আফজল শাহ্ আরমান আলী (রহঃ) কোরআন হাদিসের উপর সু গভীর মতামত উল্লেখ করে গেছেন। আধ্যাত্বিক ফকির হিসেবে তিনি ছিলেন এক কিংবদন্তী তূল্য প্রতিভার অধিকারী। কালের পরবর্তীতে আমাদের রতœগর্ভ -মুল্যবান সম্পদ আজ হারিয়ে যাচ্ছেন পৃষ্টাকতার অভাবেই। আধ্যাত্বিক সুফিবীদ হিসেবে প্রসিদ্ধি পারে বিশ্বের মানচিত্রে। তার অপ্রকাশিত পান্ডলিপি গুলো প্রকাশিত হলে আধ্যাত্মিক ও ফকির সমস্যা সমাধান খোঁজে পাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

আফজল শাহ শিষ্যদের মধ্যে হরফুল খাসলত এর রচয়িতা নাজিম আলী শাহ, নাজিম শাহ,লামাকাজি এলাকার মোল্লারগাও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের উত্তর পাশে মাজারটি অবস্থিত। হুনাম শাহ জগন্নাথ পুর উপজেলার সিরামিসি গ্রামে মাজার অবস্থতি। নচিব আলী শাহ ময়মনসিংহ তার মাজার অবস্থিত। আমান শাহ বাঘের খাল,ফয়াজ মুন্সী রাধানগর,হায়দর আলী শাহ শিবনগর, দিলমামন শাহ শিবনগর সহ অসংখ্য শিষ্য নাম অজানা রয়েছে আজোও। ২২ জন খলিফা রয়েছে আফজল খেলাফত প্রাপ্ত হয়েছিলেন প্রথম খলিফা হলো দীঘলবাঘ গ্রামে আমির খাঁন,২য় খলিফা হবিগঞ্জে শহরে মাওলা শাহ,৩য় খলিফা হচ্ছে নাজিম শাহ সিলেটের মোল্লার গাও সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে পাশে তার মাজার রয়েছে। নোয়াপাড়া দীঘলবাঘ গ্রামে আফজল শাহ’র আরেক বাড়ি এ বাড়িতে মৃত আগ পযন্ত নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে ধ্যান মগ্ন অবস্থায় কাটিয়েছেন। তার এ বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সে বাড়িতে এখনো আফজলশাহ বসার স্থান ও মৃত পর গোসলখানায় স্মৃতি আজো ও রয়েছে। এ বাড়ির পাশে এখনো কেউ নাপাক অবস্থায় গেলেই সঙ্গে জ্বর সহ নানা রকম রোগ দেখা দেয় বলে দীঘলবাঘ ও নোয়াপাড়া গ্রামবাসি জানিয়েছে। এ গ্রামে বাস্তবে তার অনেক মুল্যবান আলামত পড়ে আছে। তার এক খলিফা হবিগঞ্জ শহরে তার মাজার মাওলা শাহ আয়না নদী থেকে মাছ শিকারে পল দিয়ে পানি নিয়ে এসেছেন মুশিদ আফজলশাহ’র কাছে। আফজলশাহ এ চিত্র দেখেই অবাক হয়ে যান এবং তার উদ্দেশ্যে বলেছেন মাওলা শাহ’তুমি এখান থেকে চলে যাও হবিগঞ্জ শহরে। সেখানে গিয়ে ইসলামের বানী প্রচার করুন।

সুফি সাধক আফজল শাহ্ (রহ:) মাজারে এক আর্শ্চষ্য, অপুর্ব সুন্দর মনোরম পরিবেশ সবুজ শ্যামল ঘেরা রকম কাকলি পাখির আওয়াজ।কইয়া বিলের পাড়ে নিরব নির্জন স্থানে খোলা আকাশ ও সবুজ ক্ষেতের পুর্ব পাশে রয়েছেন বরেণ্য সুফি কবি আফজল শাহের মাজার! এখানে যে কোনো দর্শনার্থীর মন প্রান কেড়ে নেবেন অপুর্ব প্রাকৃতিক দূশ্যে। গোবিন্দগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে তার দুই কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত এই হাউলীর গ্রাম। তার নামেই আফজলাবাদ রেলষ্টেশন ও আফজলাবাদ ইউনিয়ন নামকরন করা হয়।

ফকির আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ) এক প্রচার বিমুখ আধ্যাত্বিক সাধক ও আল্লাহর খোদাভীরু ওলি ছিলেন।তার লিখিত বিভিন্ন কিতাবাদী থেকে প্রমান পাওয়া গেছেন তিনি একজন বড় মাপের সাধক ও কোরআন ও হাদীস শরীফে প্রজ্ঞা পীর কামেল আলেম যিনি। নিয়মিত কোরআন হদিস নিয়ে বৈঠক অনুষ্টিত হতো। তার শিষ্য ও ভক্তদের মাঝের অনেক চার তরিকাপন্থী প্রজ্ঞা পন্ডিত ছিলো আফজল শাহ।

তার খানকায়ে ইলমে শরীয়ত’মা’রেফত’তরিকত’ হকিহত’ আলোচনা ও পষালোচনা আফজল শাহ ওরফে আরমান আলী (রহঃ) রচিত রিসালাতে মা’রিফাত গ্রস্থ খানার অনুবাদ করেন মোহাম্মদ মোছাব্বির সহকারী অধ্যাপক আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক । ভূমিকায় ছিলেন ডক্টর মোহাম্মদ সাদিক ২০০৪ সালে ”রিসালায়ে মা’রিকত” নামক বই প্রকাশিত হয়। তিনি কোরআন হাদিসের প্রতি বিশাল জ্ঞানের ভান্ডার নতুন প্রজন্মে জন্য রেখে গেছেন অমুল্য সম্পদ।

নুর পরিচয় নাগরি লিপি ২০১১ সালে মে মাসে শাহবাগ আজিজ সুপার মাকেট ৩য় তলায় উৎস প্রকাশনার মোস্তফা সেলিম প্রকাশক নুর পরিচয় নাগরি লিপি বই বের করেন।
জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তার সোনাঝরা দিনগুলি বইয়ের ৪২থেকে ৪৫ পাতায় আফজলশাহ ছিলেন সাধারন পরিচয় ছিলো ”সদায় সোহাগী ” লম্বা জোয়ান। দাড়িঁগোপা কামানো,সাত খোঁপা মাথায়।মেয়েলি ছাদের চেহারা। চোখ দুটো আবেশে বিভোর । গলায় বন ফুলের মালা ।কানের অপর এ দেশীয় ফুল দেখলে মনে হতো লোকটা বুঝি ফুল বিলাসি !তার মামা বাড়িতে এতো কদর এ ফুল বিলাসের জন্য ছিলো না। ছিলো তার মারিফতে উন্নত পযায়ের জন্য। ১৯৩৪ ইংরেজি কোলকাতা থেকে উরুস উপলক্ষে আজমীর শরীফে গিয়ে নানা লোকের আনাগোনার মধ্যে অবিকল সেই সদায় সোহাগী লোকটি মতো একজন লোককে দেখে তিনি সৈয়দ আব্দুল হাামিদকে প্রশ্ন করেন উনি কে?প্রশ্ন করলে তিনি বলেন ”ইয়ে এক সদা সোহাগ” অথাৎ এক লোকটি এক সদায় সোহাগী। তা হলে আমাদের দেশের মত উত্তর ভারতেই সদায় সোহাগী রয়েছে। বেশ তো । ওরা ও কি আমার পৃর্বপরিচিত সেই সদায় সোহাগীদের মত নির্বাক? না ওরা সম্পৃর্ন সবাক এবং খুব ভাল গান ও গাইতে পারেন।

যখন চুল-দাড়ি পাকতে শুরু হলো তখন আনন্দবাজার লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত দেশ পত্রিকায় ললিতা সখীর বিবরন পড়ে অবাক হলেন। ললিতা নাম নিলে ও আদলে তিনি এক পুরুষ মানুষ। শ্রীরাধিকার অষ্ট সখীর অন্যতমা ললিতা যেভাবে শ্রীকৃঞ্চ প্রেমে বিভোরা হয়ে তাকে তার সমগ্র চেতনার মধ্যে পরিব্যাপ্ত করতে চেয়েছিলেন, এ ললিতা সখীও তাই চাইতেন। বৈঞবের সখ্য দাস্য প্রভৃতি বিভিনভাবে বিভোর হয়ে শ্রীকৃঞ্চের আরাধনা করেন্। সখারুপ সখীরুপে সাধনা করতে যেমন তাকে পাওয়া যায়,তেমনি দাস বা দাসিরুপে তার সেবা করলে তাকে পাওয়া যায় বলে তাদের ধারনা রয়েছে। এ মুসলি সদা সোহাগ বা সদায় সোহাগীদের রীতিনীতি এ রুপ মতবাদের কোন প্রভাব পড়েছে কিনা গবের্ষনার বিষয়।

৭দিনের ওরুস মেলা
আয়োজন হলো!

আফজলশাহ ৭দিনের ওরুস মেলা আয়োজন করা হলো। এ মেলায় ৪ হালি চাউলের রুট শিরিনী সিয়া গাইলে কোটে তৈরি করা নিদের্শ প্রদান করেন। সকল মানুষ মতামতে নিয়ে আফজলশাহ ৭দিনের মেলার আয়োজন করেছিলো। প্রথমে শুরু হয়ে তিনদিনের মাথায় গিয়ে ৩হালি চাউলের রুট শিরিনী চলছিল। এ সময় যারা তৈরি কাজে ছিলো তাদের সবার হাত দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসছে। এসব দেখার পর তিনি তার হাতে আশার পানি দেয়ার সঙ্গে হাত দিয়ে রক্ত বন্ধ ও অসুস্থ ভাল সবার হয়ে গেছে। এ মেলায় নানা জাতের প্রায় ৩০,৪০হাজার মানুষের আগমন ঘটেছিল বলে এলাকায় জনশ্রতি আছে।

২টি পাখি দিয়ে ২০জন
খাবার খেয়ে ও শেষ হচ্ছে না !

আজব কান্ড হচ্ছে, ২টি টুপি পাখি দিয়ে ২০জন খাবার খেয়ে ও শেষ হচ্ছে না। এমন ঘটনা ঘটেছে আফজলশাহ প্রধান খলিফা আমির খাঁনের বাড়ি দীঘলবাঘ গ্রামে। তার মুশিদ আফজলশাহকে ২টি টুপি পাখি তৈরি করে দাওয়াত দেয়া হয়। আফজলশাহ সঙ্গে ২০জন চলে যাবার পর আমির খান দুর চিন্তা করছেন। এ সময় তার মুশিদ বলছেন এগুলো তুমি টাকনা দিয়ে নিয়ে আসুন আমার কাছে। তার মুশিদের কথামতো আমির খানঁ ভাত ও দরকারি টাকনা তার সামনে নিয়ে যান। তিনি ভাত ও দরকারি সবাই দিয়ে তিনি ও খেয়ে তার শিষ্য আমির খানঁ বলেন, এগুলো এখান থেকে নিয়ে যাও,পরিবারে সবাই নিয়ে খেয়ে নেন। এপর দরকারি শেষ হচ্ছে না। পরে এগুলো নদীতে ফেলে দেয়ার তাগিদ দেন।

আজো ও রুট
শিরিনীর চল অব্যাহত
আজো ও রুট শিরিনীর চল অব্যাহত রেখেছেন এলাকাবাসি কয়েক গ্রামে মানুষ আজো ও আফজলশাহ উপদেশ পালন করছেন। গ্রাম গুলো হচ্ছে দীঘলবাক,নোয়াপাড়াসহ কয়েক গ্রামে মানুষ প্রতি বছরে পৌষ ও মাঘ’এর মাসের ২য় সপ্তাহ রুট তৈরি করে শিরিনী করেন এলাকাবাসির লোকজন।এ রুট শিরিনী মানুষের মধ্যে বিতরন করা আগে ”পানির পীর” দিতে হয়। এভাবে এখনো অব্যাহত চলছে।

সাত রাজার ধন-
সম্পদ পানির নিচে
সাত রাজার ধন-সম্পদ পানির নিচ থেকে ভেসে উঠার চেষ্টা করেছিলো। সম্পদ না তোলার কারনে বাড়িতে মানুষ উপর ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি সাধিত হয়ে আসছে। হঠাৎ করে আফজলশাহ’্র প্রধান শিষ্য আমির খানঁ দীঘলবাক গ্রামে তার বাড়িতে একটি পুকুর খনন করেছে। পুকুর খনন করে পানি উঠার সময় চারটি পার এক হয়ে যাচ্ছে এবং নিচ থেকে পানি উপর উঠা নামা করছে। এ অবস্থায় দেখে আমির খানঁ দৌড়ে তার মুশিদ আফজল শাহ কাছে গিয়ে বিস্তারিত খবর বলার পর তিনি বলেন এখন গিয়ে দেখেন চারটি পার সমান জায়গা চলে গেছে। পরে আমি আসছি। চারটি পার সমান জায়গা চলে যাবার পর পুকুরে পানি নিচ থেকে উপর শব্দ বের হয়ে আসছে। এ চিত্র দেখে তার মুর্শিদ আফজলশাহ তার হাতে আশা দিয়ে পানির উপর আঘাত ধ্যানে চলে যান। ঘন্টাখানি পর বলেন,সাত রাজার গোপন ধন-সম্পদ পানির নিচ থেকে উপর উঠতে চায় শর্ত মোতাবেক। তখন আমির খানঁ তার মুশিদ বলেন এসব শর্ত কেউ মানতে পারবে,আজীবনের জন্য এগুলো বন্ধ করে দেয়ার জোর আকুতি জানিয়েছে তার মুশিদের কাছে। তার মুর্শিদ আফজলশাহ এগুলো কখনো পানির নিচ থেকে উপরে উঠতে পারবে বলে আদেশ করেন। আমির খাঁেনর ৪ পুত্র। তারা হলেন,আহমদ আলী খাঁন,আত্রæমন আলী খাঁন,আসকর আলী খাঁন,আরজদ আলী খান। এ বাড়িতে আফজলশাহ হাতে লেখা নুর নছিহত নামে একটি পুথিঁ আছে বলে একাধিক ব্যক্তিরা সত্যতা স্বীকার করেন। আহমদ আলী খাঁনের পুত্র উস্তার আলী খাঁন মৃত পর তার পুত্র শাহাবুদ্দিন তার বংশের ফকিরালি ধারায় কাজ শুরু করেছেন।

জৈন্তাপুর পাহাড় থেকে বিশাল একটি গাছ নদীর
পানির উপর দিয়ে ভেসে আসে গোবিন্দগঞ্জ-এলাকায়
জৈন্তা পুর পাহাড় থেকে বিশাল একটি গাছ নদীর পানির উপর দিয়ে ভেসে আসে গোবিন্দগঞ্জ-এলাকায়।এ গাছ সুরমা নদীতে টুকের বাজার এলাকায় আটক করে অসংখ্যা মানুষ বিপদ গ্রস্ত হয়েছেন বলে গোবিন্দগঞ্জ জনশ্রæতি ও রয়েছে।
এ বিশাল গাছের নিচে বসে আফজলশাহ ধ্যান মগ্ন অবস্থায় একযুগ কাটিয়েছিল্। হঠাৎ একদিন গাছ আফজলশাহ কে প্রশ্ন করেছে তাকে কোন কাজে ব্যবহার করবে কি-না, এ প্রশ্নের উত্তরের তিনি বলেন যদি আল্লাহ হুকুম হয়,তবে শিরিনী কাজে লাগতে পারে বলে ইশারা দেন। জৈন্তা পাহাড়ে গাছের মালিক গাছটি কর্তন করে তার টিলার উপর দড়ি দিয়ে বেঁেধ রাখা হয়। প্রবল বৃষ্টি পানিতে গাছটি টিলার উপর থেকে নিচে নেমে আসছে। একটি খাল দিয়ে বিশাল গাছটি সুরমা নদীতে ভেসে আসে। জৈন্তাপুর পাহাড় থেকে সিলেটের সুরমা নদীর টুকের বাজার এলাকায় গাছটি ধরা পড়ে। তারা সুরমা নদীর পাশে গাছটি বেঁেধ রাখা হয়। ওরা রাতেই স্বপ্নে দেখেছেন বিশাল গাছটি ছেড়ে দেয়ার আদেশ করা হলো। পরে দিন তারা বিশাল গাছটি সুরমা নদীতে বাধাঁ গাছ ছেড়ে না দেয়ায় কারনে বিপদ গ্রস্ত হচ্ছে ওরা। পরে পৃথক পৃথক স্থানে আটকের পর তারা একই ধারায় বিপদ গ্রস্ত হন। পরে বিশাল গাছ সুরমা নদী থেকে বটের নদী থেকে ছৈলাআফজলাবাদ ইউপির ও গোবিন্দগঞ্জ সৈয়দের ইউপির মধ্যবতী স্থান হচ্ছে বটের নদী। এ নদী পুর্ব পাড়ে হচ্ছে শিবনগর ও জামালখালি হচ্ছে পশ্চিম পাড়ে এদিকে সেদিক বিশাল লম্বা গাছ আটক যায়। এ গাছ আটকের পর এ ঘটনাটি রাতেই শাহ সুফি আফজলশাহ’র শিষ্য শাহ জমসেদ পীর স্বপ্নে যোগে দেখেন গাছ আফজলশাহ মাজার প্রাঙ্গনে যাবে। পরে দিন শাহ জমসেদ পীর তার দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পেয়ে নদীর দু’পাড়ে হাজার হাজার গাছটি চেইন দিয়েবেঁেধ পার থেকে লামানো যাচ্ছে। এ চিত্র দেখার পর শাহ জমসেদ তার শিষ্য শ্রীনগর গ্রামে আকই নামে এক ব্যক্তি আদেশ দেন, গাছের উপরে উঠে’’পীর নাম ও মুশিদ নাম লয় ভাই ও দীলে সয়দায় বিরাজ করে’’ এ সারি গাইয়া আল্লাহ নাম নিয়ে বাঁশের লগি দিয়ে ধাক্কা দেয়ার সঙ্গে বিশাল গাছটি বটের নদীতে মানুষ সহ ডুবে কয়েক ঘন্টা নিখোজ হয়। গোবিন্দনগর ফজলিয়া আলিয়া মাদ্রাসার সামনে বিশাল ডর ছিলো সে সময় এ ঘটনা ঘটেছিল। নদীর দু’পাড়ে হাজারো মানুষ শাহ জমসেদ আলী পীরকে দায়ি করায় তিনি বিপদ গ্রস্ত হয়ে ছোট নৌকার ভিতরে আল্লাহ নামে শুকরিয়া নামাজ পড়ে আকুতি মিনতি করে প্রাথনা করতে থাকে। প্রায় ৫ ঘন্টার পর মানুষ সহ নদী নিচ থেকে পানির উপরে বিশাল গাছ ভেসে উঠার পর দু’পাড়ে মানুষ আল্লাহ নামে জিকিরে আওয়াজ উঠে। ভাসমান এ গাছ টি মানুষ সহ তড়িগতি আফজলশাহ’র মাজার প্রাঙ্গনে সমানে গিয়ে পশ্চিম পাড়ে উঠে। পরে দিন শাহ জমসেদ আলী পীরের নিদেশে কয়েক ব্যক্তি মিলে গাছ কাটা ছেড়া শুরু করেছে। এ গাছ দিয়ে ৪০টি গরু দিয়ে শিরিনী করে ও শেষ হয়নি। পরে একটানা এক বছর পযর্ন্ত কাটা গাছের লাকড়ি ব্যবহার করেছেন। এ পর থেকে শাহ জমসেদ পীর বংশধরা টাকা পয়সা পরিবর্তন হয়েছেন বলে এলাকায় জনশ্রæতি আছে।

 

0Shares





Related News

Comments are Closed