সর্বশেষ

তানোরে আমণখেতে ইঁদুরের উপদ্রব

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম । প্রকাশিতকাল : ১১:২২:৪৭,অপরাহ্ন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | সংবাদটি ৩০ বার পঠিত

আলিফ হোসেন, তানোর থেকে: রাজশাহীর তানোরসহ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলে চলতি মৌসুমে আমণখেতে ইঁদুরের উপদ্রবে কৃষকরা রীতিমত দিশেহারা হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, চলতি মৌসুমে তানোরসহ বৃহত্তর বরেন্দ্র অঞ্চলের আমণখেতে ইঁদুরের আক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এদিকে এসব এলাকায় আমণখেতে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করছে কলা গাছ, পলিথিন ও অডিও ক্যাসেটের ফিতা।
তানোরের শুকদেবপুর গ্রামের চাষি আলম মন্ডল (৩২) তাঁর আমণখেতে ইঁদুর তাড়াতে কলা গাছ ও লাঠি পুঁতে তাতে পলিথিন ব্যাগ অডিও ক্যাসেটের ফিতা টানিয়ে কিছুটা সফলতা পেয়েছেন।
তানোর উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউপির বেড়লপাড়া গ্রামের কৃষক ভুলু (৩৩) বলেন, চলতি মৌসুমে তার চার বিঘা আমণ চাষ করেছেন। আবহাওয়া ভাল থাকায় তার খেতে ধান ভালোই আছিল। কিন্ত তাঁর ধানের বেশিরভাগ ইঁদুর কেটে সাবাড় করে ফেলেছে। অথচ তিনি কৃষি বিভাগের কাছে থেকে এখানো তেমন কোনো পরামর্শ পাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আমণের শেষ সময়ে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবার ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। তিনি বলেন, শুধু বিষ টোপ নয়, কলাগাছ, লাঠি কিংবা বাঁশের কঞ্চিতে পলিথিন বেধে দিলে ও রাতে ফসলের খেতে টায়ার পোড়ানো পদ্ধতি ব্যবহার করলে ইঁদুরের উপদ্রব কম হবে।
রাজশাহী ধান গবেষণা ইন্সইিটিউটের প্রধান কর্মকর্তা কৃষি বিশেষজ্ঞ ড, রফিকুল ইসলাম জানান, ইঁদুরের দ্বারা দেশে বছরে ফসলের ক্ষতি হয় প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বেশি। বিগত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ইঁদুর দ্বারা মোট ৭২৩ কোটি ৬২ লাখ ৭ হাজার ৩৫৫ টাকার শুধু ধান, চাল ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আর্ন্তজাতিক ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের ২০১৩ সালের এক গবেষণার উদাহারণ দিয়ে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে ইঁদুর ৫০ থেকে ৬০ লাখ মানুষের এক বছরের খাবার নস্ট করে। তাই ইঁদুর দমন বা প্রতিহত করতে কৃষকদের সচেতন হতে হবে।
রাজশাহী জেলা কৃষিস¤প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আমণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার ২২৪ হেক্টর। এর মধ্যে পোকা দমণের পদ্ধতিতে পাচির্ং-লগ, লাইন এবং ধনিচা গাছ লাগনো হয়েছে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে। এছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আমণের চাষাবাদ হবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরের উপরে।
তানোর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারি কর্মকর্তা সমশের আলী বলেন, এই ইঁদুর গাছে এমনকি অনেক সময় পানির উপর খড়কুটে দিয়ে বসবাস করে। এই ইঁদুর দাঁতের বৃদ্ধি রোধ করার জন্য সামনে যা পায় কেটে তছনছ করে দেয়। আমণখেত বাতাসে দোলে এমন পাতা যুক্ত ছোট কলা গাছ রোপণ করে খুঁটির সঙ্গে পাতলা পলিথিন বেঁধে দিয়ে ইঁদুর তাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে কৃষকদের। তিনি বলেন, বাতাসে কলা পাতা নড়লে বা পলিথিন নড়লে মানুষ আছে ভেবে ইঁদুর পালিয়ে এছাড়াও রাতে ফসলের খেতে টায়ার পোড়ানো হলে ইঁদুরের উপদ্রব কমে।
রাজশাহী কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দেব দুলাল ঢালি জানান, ইঁদুর একটি জাতীয় সমস্যা ইঁদুর যা খায় তার থেকে বেশি ফসল নস্ট করে। তাই কৃষকদের পোকা দমনে যেমন পরামর্শ দেয়া হয় পাশপাশি ইঁদুর দমনেও নানা পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুর তাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের পদ্ধতি ব্যবহার করে ইঁদুরকে পুরোপুরি দমন করে ফেলতে হবে। যাতে তারা আর বংশ বিস্তার করতে না পারে।






Related News

  • সবজি উৎপাদনের কলাকৌশল বিষয়ে কৃষক প্রশিক্ষণ
  • ডোমারে মালটা চাষে সফল আব্দুল্লাহ
  • চুয়াডাঙ্গায় আমের সঙ্গে মানকচু চাষ
  • তানোরে আমণ চাষে পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে
  • নদীতে ভাসমান সবজি চাষ করে সফল সহিদ তালুকদার
  • তানোরে আমণখেতে ইঁদুরের উপদ্রব
  • পার্বতীপুরে হাইব্রীড এসিআই আমন ধান কাটা উদ্বোধন
  • দক্ষিণ সুরমায় কৃষকদের সাথে বিএডিসি উপ-পরিচালকের মতবিনিময়
  • Comments are Closed