সর্বশেষ

সিলেট গৌরবের অংশিদার হলেন ডিসি রাহাত আনোয়ার

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম । প্রকাশিতকাল : ৭:৩২:১৮,অপরাহ্ন ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ | সংবাদটি ৩১৪ বার পঠিত

আহমেদ বকুল: যুগ যুগ থেকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ছিল। ছিল মাঠ; ছিলেন প্রশাসকগন। কিন্ত জেলা প্রশাসনের চৌহদ্দির ভেতর ছিলোনা কোন নতুনত্বের ছোঁয়া। খুবই সাদামাটা। অন্য দশটি হাইরাইজ ভবনের মত এই ভবনগুলোও। মাঠও ছিল একদম মামুলী। কিন্ত এই মাঠের বর্তমান অবস্থা একেবারে ভিন্ন!
বদলে গেছে জেলা প্রশাসনের মাঠ! বদলে যাচ্ছে আসপাশের চিত্র। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার তাঁর সৃজনশীল চিন্তনের মাধ্যমে এক নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন! জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের মাঠে গড়ে তোলেছেন আরেক সিলেট! ‘সিলেট গৌরব’নাম দিয়ে সিলেটের গৌরবকে তিনি ধারণ করেছেন নান্দনিকতার শৈল্পীক ছোঁয়ায়। কি নেই এই মাঠে!

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়ি ঘর, কীন ব্রীজ, সুরমা নদী, বিছনা কান্দি, নাগরী লিপি, তৈরী করা হচ্ছে চায়ের বাগান, কমলা লেবু ও পাহাড় পর্বতের রেপ্লিকা। বাউল শাহ আব্দুল করিম, সাধক রাধা রমণ দত্ত সহ অনেকের ত্রি ডি। দর্শনার্থী বসার জন্য মাশরুম আকৃতির ছাতাও আছে। পরিকল্পনা করা হয়েছে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ঠিক সামনের মাঠটিকেও ফুলে ফুলে সুভিত করা হবে। আর এসব পরিকল্পনার অনুঘটক হচ্ছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ রাহাত আনোয়ার।
যুগে যুগে মানুষ তার সৃজলশীল কর্মকান্ডের মাধ্যমে সমাজ- রাষ্ট্র ও বিশ্বকে একটি উচ্চতায় নিয়ে যান। এই সৃজনশীল মানুষদের অবদানে মানুষ উপকৃত হয়, আলোকিত হয়, বিকশিত হয়! মানুষের চিন্তা-চেতনায় প্রভাব বিস্তারকারী মানুষ বেঁচে থাকেন মানুষের অন্তরের গহীন ভেতর!

সরকারি টাকা অনেক সময় জলে যায় -এরকম একটি প্রবাদ আমাদের দেশে চালু আছে। কিন্ত এ ধারণাকে পাল্টে দেন অনেক সুচিন্তক কর্মকর্তা। তারা তাদের সততা, মেধা ও উদ্ভাবনী চিšা চেতনার স্ফূরন ঘটিয়ে সরকারি টাকাকে অনেক ভাল কাজে ব্যয় করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন!
এমনি এক কর্মকর্তা হলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার।
তিনি জেলা প্রশাসনের চৌহদ্দির ভেতর ‘সিলেট গৌরব’ প্রতিষ্ঠা করে নিজেকে সিলেট গৌরবের অংশিদার করেছেন। সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে আসার আগে মো. রাহাত আনোয়ার রংপুরের জেলা প্রশাসক ছিলেন। তাঁর বদলী রংপুরবাসী মেনে নিতে পারেনি! যার জন্য রংপুরের মানুষ জেলা প্রশাসক মোঃ রাহাত আনোয়ারকে সেখানে আরও অনেকদিন রাখার দাবিতে মানব বন্ধন করেছিল!
অত্যন্ত সদালাপি ও নিরহংকারাী সাদা মনের মানুষ মোঃ রাহাত আনোয়ার সিলেটে জেলা প্রশাসক হিসেবে আসার পর থেকে এই জেলার মানুষ তাঁর বিভিন্ন কর্মকৌশল ও দৈনন্দিন কর্মকান্ডে সন্তোষ্ট।

অধ্যাপনার পেশায় ছিলেন। তাই প্রশাসনে এসেও অধ্যাপনার টানে ছুটে যান বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনির্ভাসিটিতে। বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেকচার প্রদান করে শিক্ষার্থীদের মনোজগতকে আন্দোলিত করে চলেছেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া সিলেটের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেয়া যায় এ ব্যাপারেও রয়েছে তাঁর সময়পযোগী পরিকল্পনা। যার সুনির্দীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে তিনি নিরবে নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন। এই পরিকল্পনার সুফল একদিন সিলেটবাসী পাবে।

‘সিলেট গৌরবের’ এই রেপ্লিকাগুলো খুব যতœ সহকারে তৈরী করছেন সিলেট আর্ট এন্ড অটিস্টিক স্কুলের শিক্ষক চিত্রশিল্পী ইসমাইল গণি হিমন। তার সাথে সহযােগী হিসেবে কাজ করছেন চিত্রশিল্পী আলী দেলওয়ার। সিলেটের জেলা প্রশাসক মোঃ রাহাত আনোয়ার ‘সিলেট গৌরব’ প্রতিষ্ঠা করে নিজেকে সিলেট গৌরবের অংশ করে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেলেন! যুগ যুগ ধরে তাঁর এই অমর কীর্তি ইতিহাসের স্বাক্ষ্য বহন করবে।
‘বিশাল বিশ্বে অসংখ্য মানুষের ভীড়ে
কে কার মনে রয়?
শুধু বেঁচে থাকে তার কাজ অনন্তকালের স্বাক্ষর হয়ে
নাহি তার কোন ক্ষয়’।






Related News

  • গৌরব-সৌরভে এক খন্ড সিলেট
  • জৈন্তাপুরে ফাঁদ পেতে অবাধে পাখি নিধন
  • তথ্য প্রযুক্তির দাপটে বিশ্বনাথে হারিয়ে যাচ্ছে ডাকবক্স
  • ডিসেম্বরেই স্থানান্তর হচ্ছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার
  • সিলেট গৌরবের অংশিদার হলেন ডিসি রাহাত আনোয়ার
  • আবারো অপারেশন থিয়েটারে যেতে হবে খাদিজাকে
  • চলতি বন্যায় সিলেটে সড়ক মহাসড়কের বেহাল দশা
  • পুরুষের শুক্রাণু কমে যাচ্ছে, ‘বিলুপ্ত হতে পারে মানুষ’: গবেষণা
  • Comments are Closed