সর্বশেষ

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের জীবিত এক বীর সেনানী শাহ নূর মোহাম্মদ এর কথা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম । প্রকাশিতকাল : ৫:০৩:৩২,অপরাহ্ন ২৪ জুলাই ২০১৭ | সংবাদটি ২৮০ বার পঠিত

এম আহমদ আলী: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জীবিত এক শতায়ূ বীর সেনানী শাহ নূর মোহাম্মদ। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা । মৃত শাহ নাহার মোহাম্মদ ও অছিরা বিবির এই কৃতী সন্তানের জন্ম পহেলা জানুয়ারি ১৯২০ খ্রীস্টাব্দ। সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৩৮ সালে প্রবেশিকা শেষে ১৯৪২ সালে বৃটিশ রয়েল সেনা বাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগদান করেন শাহ নূর মোহাম্মদ। ১৯৪৩ সালে পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ট্রেনিং একাডেমিতে ইনস্ট্রাকটর ও হাবিলদার পরে অনারারী ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। ১৯৪৩ সালে ট্রেনিং শেষে তাকে ইতালিতে বদলী করা হয়। সেখানে ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে অংশ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধে পরাািজত হয়ে জার্মানরা আত্মসমর্পণ করে। ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে ছিলেন । যুদ্ধ শেষে বৃটিশ সরকার তাকে আমেরিকা ও বৃটেনে যাওয়ার প্রস্তাব করে। কিন্তু মায়ের অসুস্থতায় মায়ের সেবা করার উদ্দেশ্যে সরকারের অনুমতি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। দেশে আসার সময় বৃটিশ সরকার তাকে আত্ম কর্মসংস্থানের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে সম্মামনা সনদ প্রদান করে বিদায়ী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের মাধ্যমে দেশে পাঠায়। এসময় তিনি সড়ক পথে মিশর থেকে ইরাক পর্যন্ত আসেন। ইরাকে মুসলে হযরত ইউনূছ (আঃ) ও বাগদাদ শরীফে হযরত বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (রহ)এর রওজা জেয়ারত করেন। পরে ফিলিস্তিনে মসজিদে আল আকসায় যান। সেখানে জোহরের নামাজ আদায় করেন। সেখান থেকে মিশরের কায়রোতে গিয়ে পিরামিডের ভেতরে ঢুকে নীচে মুর্তি দেখেন। তিনি হযরত ইউসুফ (আ:) কে ফেলে দেয়া কুপে দুদিন চেষ্টার পর নেমে দেখে আসেন। তিনি জানান, কুপের কাছে নির্মিত মসজিদটি ভারতের মুম্বাইয়ের দানবীর মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলী নির্মাণ করে দেন। বোম্বে থেকে জাহাজে করে ইরাকের বসরায় যান তিনি। জাহাজের নাম ছিল আল মদীনা। জাহাজের মালিক ছিলেন চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সওদাগর আব্দুল বারি চৌধুরী। পরে সেখান থেকে তাকে ইটালী নিয়ে যাওয়া হয়। স্থল যুদ্ধে অংশ নিয়ে যুদ্ধের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, ইতালির ট্রান্ট, বারী, বারলেতা (ফলের বাগান সমৃদ্ধ) ও রোম শহরে (১৫ দিনের ছুটি) নেপেলে আগ্নেয়গিরি, মিলান, তরিন টাউনে দায়িত্ব পালন করেন। এটা ছিল জার্মান বর্ডারের কাছে। তিনি অন্যান্য ট্রেনিং সহ পারমাণবিক গ্যাস ছাড়ার ট্রেনিং গ্রহণ করেন। এসময় মুখে রেস বোটার লাগাতে হয় বলে জানান তিনি। এসময় অনেকের শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। তিনি এক্ষেত্রে সফল ছিলেন বলে জানান বিশ্বজয়ী এই সেনা কর্মকর্তা। তাকে সবাই বাঙ্গালী বাবু বলে ডাকতেন বলে জানান। পরবর্তীতে অবসর সময়ে তিনি ভারতের আসামে সরকারী ট্রান্সপোর্টে সহকারী স্টোর কিপার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট বৃটিশরা ভারত ছেড়ে দেয়ার পর কোম্পানীর কার্যক্রম আসাম থেকে শিলংয়ে বদলি করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি সিলেট জেলা স্বাস্থ্য সহকারী এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সেটেলমেন্ট বিভাগে বেঞ্চ সহকারী হিসেবে নতুন চাকরিতে যোগ দেন। এর পরে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রসেস সার্ভার হিসেবে যোগদান করেন এবং পরে তাকে বিশ্বনাথে সার্কেল অফিসের কার্যালয়ে বদলি করা হয়। পরে সেখান থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসর নেয়ার পর তিনি সিলাম পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লী হিসেবে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেন। শাহ নূর মোহাম্মদ বৃটিশ সেনা বাহিনীর সৈনিক হিসেবে ৩৯৪৫ স্টার ইতালি স্টার, ডিফেন্স মেডেল, ওয়ার মেডেল লাভ করেন। বর্তমানেও তিনি বৃটিশ আর্মির বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বোর্ড সিলেট এর সাবেক সচিব মেজর মোশারফ হোসেনের প্রতি কৃতঞ্জতা প্রকাশ করেন । ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে জালালাবাদ সেনানিবাসের ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজে তাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তার অবসর সময় কাটে আল্লাহর ইবাদত ও বই পত্রিকা পড়ে। তিনি কোরআন তেলাওয়াত সহ কাসাসোল আম্বিয়া এবং বিভিন্ন ইতিহাসের বই তিনি নিয়মিত পাঠ করেন। শতায়ূ এই সৈনিক এখনো হাটাচলা ও চোখে ভাল দেখেন। তার মানবিক গুনাবলী অসাধারণ। তার স্ত্রী ৪ পুত্র ৪ কন্যা সন্তান রয়েছেন। তারাও শিক্ষিত সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তিনি মৃত্যুর আগে সুখি সমৃদ্ধ দুর্নীতি ও শোষণ মুক্ত বাংলাদেশ দেখে যেতে চান। ইমান নিয়ে মরতে চান । এই দোয়া চান সকলের কাছে ।

 






Related News

  • মুক্তিযোদ্ধা ম. আ. মুক্তাদির বিপ্লবী চেতনার এক স্ফুলিঙ্গের নাম
  • সাংবাদিক সঞ্জিব চৌধুরী : অসাম্প্রদায়িক নিরহংকার মানুষের প্রতিকৃত
  • প্রবাস জীবনের ঈদ…
  • ঈদুল আযহার তাৎপর্য ও কুরবানীর শিক্ষা
  • বিশ্ব বরণ্য ওলী হযরত শাহ্ জালাল ইয়ামনী (রহ.)
  • জীবনের জন্য সবুজের বিপ্লব
  • দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের জীবিত এক বীর সেনানী শাহ নূর মোহাম্মদ এর কথা
  • আধুনিক কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রূপকার মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
  • Comments are Closed