Main Menu

সিলেটে ভাসমান বেডে সবজি চাষ জনপ্রিয় হচ্ছে

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) এর সহযোগিতায় সিলেটের বিভিন্ন স্থানে ভাসমান বেডে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে করে কৃষক পতিত পুকুর কিংবা বিলে কচুরিপানা পচিয়ে বেড তৈরি করে এর ওপর নানা জাতের সবজি চাষ করছেন। এ পদ্ধতিতে আবাদকৃত সবজির ফলনও ভালো হচ্ছে। এক্ষেত্রে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এখানে ভাসমান সবজি চাষে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। পাশাপাশি কারিগরি সহায়তাও দেয়। ভাসমান বেডে সবজি চাষে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। তাছাড়া কোনো কীটনাশকও দিতে হয় না। ফলে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন হচ্ছে। যার ফলে পারিবারিক চাহিদা মিটানোর পর কৃষকরা উদ্বৃত সবজি বাজারে বিক্রী করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের রুস্তমপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উক্ত এলাকার কৃষক ফারুক আহমদ ভাসমান বেড তৈরি করে তার ওপর চাষ করছেন টমেটো, বেগুন, কাচা মরিচ, লাল শাক, কলমি শাক, ঢেঁড়শ, বরবটি, লাউ ও সিম। এতে দেখা যায় মাসখানেকের মধ্যেই সবজি বাজারজাতের উপযোগী হয়ে পড়ে। যা একদিকে তাদের পুষ্টির চাহিদা মিটাতে সক্ষম হচ্ছে, অন্যদিকে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন। এসব এলাকায় ভাসমান বেডে সবজি চাষ নতুন বলে কৃষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষক মারুফ আহমদ জানান, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সিলেটের সহযোগিতায় “ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ” প্রকল্পের আওতায় ভাসমান বেড তৈরি করে তাতে নানা জাতের সবজির চাষ করেছেন। আগামীতে তিনি আরও বেশি বেড তৈরি করে সবজি চাষ করবেন বলে তিনি জানান।

কৃষক মারুফ আরো জানান, ২০ ফুট গভীর পানির ওপর ভাসমান বেড করা খুবই কষ্টসাধ্য। কষ্ট হলেও আমরা সাফল্য পেয়েছি। বাজারে এই বেডের সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

ভাসমান বেডের তত্তাবধানের নিয়োজিত বৈজ্ঞানিক সহকারী মোঃ কাওছার বলেন, একই বেডে এক সবজি তোলার পর অন্য সবজি চাষ করা যায়। ভাসমান বেডে উৎপাদিত সবজি জৈব পদ্ধতিতে তৈরি হয় বলে প্রযুক্তিটি পরিবেশ বান্ধব ও সবজি স্বাস্থ্য ঝুঁকিমুক্ত। তাছাড়া খরচও তুলনামূলক কম। ফলে কৃষক বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট (বারি) সূত্রে জানা যায়, সরেজিমন গবেষণা বিভাগ বারি সিলেটের ব্যবস্থাপনায় প্রকল্পের মাধ্যমে এতদ্বাঞ্চলে ভাসমান বেডে কৃষকদের সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার রুস্তমপুর, হাজীপুর, ফেঞ্চুগঞ্জের কটালপুর এলাকায় ৪৬টি বেডের মাধ্যমে এসব এলাকায় সবজি উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদিত সবজি চাষে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার লাগেনা। ফলে সবজির গুনগত মান ও স্বাদ অক্ষুন্ন থাকে। তিনি আরো জানান, ভাসমান বেডে সবজি চাষ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায়ও ভাসমান বেডে সবজি চাষ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। ইতিমধ্যে এ প্রকল্পের মাধ্যমে পরীক্ষামূলক ভাবে সুনামগঞ্জ জেলার সদর ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জ এলাকায় অনুরূপ সবজি চাষ করা হয়েছিল।

কটালপুর গ্রামের কৃষক মোঃ বেলাল মিয়া জানান, এ পদ্ধতিতে একই বেডে এক সবজির পর অন্য সবজি চাষ করা যায়। সবজি খেতে স্বাদ বলে বাজারের অন্য সাধারণ সবজির চেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। তাছাড়া খরচও তুলনামূলক কম। ফলে বেশি দামে বিক্রি করা যায়।

সরেজমিন গবেষণা বিভাগ (বারি) সিলেটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল জানান, সিলেট অঞ্চলে এখনো সবজির ঘাটতি রয়েছে। এখানকার সকল এলাকায় সবজি চাষ হয়না। তাছাড়া এখানকার অনেক পুকুর এবং খাল-বিল প্রায় সারা বছরই পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসব জায়গায় ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে এর ঘাটতি পূরণ সহ আর্থিক ভাবে কৃষকরা লাভবান হবেন। তাই এই প্রযুক্তিতে পানির উপরে স্বল্প খরচে ভাসমান বেডে সবজি চাষের ব্যাপারে কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কৃষি বান্ধব সরকারের সার্বিক সহযোগিতায় কৃষকদের কল্যাণে এ পদ্ধতির সবজি চাষে দিন দিন সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।






Related News

Comments are Closed