Main Menu

ছাতকের স্কুলছাত্র ইমন হত্যায় ৪জনের মৃত্যুদণ্ড

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র শিশু ইমন হত্যা মামলায় ৪জনকে মৃত্যদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (৬ ফেব্রয়ারী) বেলা সাড়ে ১২টায় সিলেটের দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রেজাউল করিম আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষনা করেন বলে জানিয়েছেন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর।

দন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাতিরকান্দি গ্রামের সালেহ আহমদ, রফিক, জায়েদ ও ব্রাহ্মণ জুলিয়া গ্রামের সুজন। তাদের মধ্যে বাতিরকান্দি গ্রামের সালেহ আহমদ ছাড়া বাকি ৩জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

ইমনের বাবা জহুর আলী ছেলের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের বাতিরকান্দি গ্রামের সৌদি প্রবাসী জহুর আলীর ছেলে ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানার কমিউনিটি বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেনীর ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান ইমনকে ২০১৫ সালের ২৭ মার্চ অপহরণ করা হয়। পরে মুক্তিপনের টাকা পাওয়ার পরও অপহরণকারীরা শিশু ইমনকে হত্যা করে।

পরে ৮ এপ্রিল মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিলেটের কদমতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে শিশু ইমনের হত্যাকারী ঘাতক ইমাম সুয়েবুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিষের বোতল ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করে। এমনকি বাতিরকান্দি হাওর থেকে ইমনের মাথার খুলি ও হাতের হাড় উদ্ধার করে পুলিশ।

অপহরণ ও মামলা দায়েরের প্রায় সাড়ে ৭ মাস পর ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযুক্তদের মধ্যে ৩ জনকে বাদ দেন আদালত। অপর চার আসামীর মধ্যে ৩জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে ছাতকের বাতির কান্দি গ্রামের রফিক, জায়েদ ও উপজেলা ব্রাহ্মণ জুলিয়া গ্রামের সুজন। ঘটনার পর থেকে বাতিরকান্দি গ্রামের সালেহ আহমদ পলতাক রয়েছে।

চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র শিশু ইমন হত্যা মামলায় গত ২৪ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুরু হয়। গত সোমবার সকাল ১১টা থেকে আবার অসমাপ্ত যুক্তিতর্ক শুরু হয়। বিকালে যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আজ বুধবার রায়ের তারিখ ধার্য্য করেন।

আলোচিত এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন, বর্তমানে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শহীদুল আমিন ও সুনামগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিনহা, ডাক্তার, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নিহতের মা বাবাসহ ২৩ জন।

অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর বলেন, ইমন হত্যা মামলা একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। লোমহর্ষক এই হত্যার বিষয়ে আমরা আদালতে আসামীদের অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী এ কে এম শিবলী ও এ কে এম শামিউল আলম। আর আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন শহিদুজ্জামান চৌধুরী।






Related News

Comments are Closed