Main Menu

জৈন্তাপুরে নাগা মরিচের ভাল ফলনে কৃষকরা খুশি

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ধান চাষের পরবর্তীতে অব্যবহৃত পতিত জমিতে মৌসুমী সব্জী চাষ করে লাখপতি হয়েছেন বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা। সব্জী চাষে সোনালী স্বপ্ন পুরন করতে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে একর পর এক নানা মুখী কৃষি বিপ্লব ঘটিয়ে যাচ্ছে। শিম, বরবটি, করলা, ভূইশষা, ক্যাপসীকাম মরিচ, তরমুজ, নাগা মরিচ উল্লেখযোগ্য।

পাশাপাশি শীতকালীন শাক সব্জী রয়েছে। কৃষক তাদের কৃষি বিপ্লব ঘটাতে বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে বাজারের চাহিদা মোতাবেক সব্জী চাষে তারা বেশি আগ্রহী। কম সময়ে অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষে তারা নতুন নতুন সব্জির বিপ্লব ঘটাচ্ছে। বিগত ২-৩ বৎসর হতে হাইব্রিড নাগা মরিচ চাষে ঝুকেছে উপজেলার কয়েক শত কৃষক পরিবার। কারন হিসাবে জানা যায় কোন কোন জমিতে এক ফসলা ধান উত্তোলনের পর ঐ জমি খালি পড়ে থাকে।

এসব জমিতে ২য় কিংবা ত্রীফসলা ধান চাষ হয় না। পতিত জমি গুলোকে চাষা বাধের আওতায় আনতে এবং বহুমূখী ব্যবহারের জন্য নানা প্রকার সব্জী চাষ শুরু করে কৃষকরা। তাতে তেমন লাভবান হতে পারছে না। তারা বাজারের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে খরচের তুলনায় দুই থেকে তিন গুন লাভের আশা নিয়ে নিজেদের জ্ঞান বুদ্ধি পরিকল্পনা অনুযায়ী নাগা মরিচ চাষে সোনালী স্বপ্ন দেখে। এতেই সাফল্য পায় কৃষক পরিবার। এই সাফল্য দিন দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের স্বপ্ন দেখায়, তারাও নাগা মরিচের চাষে আগ্রহী হতে শুরু করে।

বিগত বৎসর গুলোতে কয়েকটি কৃষক পরিবার নাগা মরিচ চাষ করে খরচের তুলনায় তিন/চার গুন লাভবান হয়েছে। নাগা মরিচ চাষে সাফল্য পাওয়ায় গত দুই বৎসরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নাগা মরিচের চাষাবাঁধ দ্রুত সম্প্রসারণ হতে শুরু হয়েছে। এছাড়া জৈন্তাপুর উপজেলার উন্নত নাগা মরিচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

সরেজমিনে উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের হেলিরাই চারিকাটা ইউনিয়নের রামপ্রসাদ এলাকা ঘুরে দেখা যায় কয়েকশত পরিবার নাগা মরিচ চাষে ব্যস্ত দিন পার করছে।
কৃষক সামসুল হক জানান- জমিটি ধান উত্তোলনের পর ৯ মাস খালি পড়ে থাকে। সুষ্ট পরিকল্পনা মোতাবেক কৃষির আওতায় ৫ বিঘা জমিতে উন্নত প্রজাতির নাগা মরিচ চাষ শুরু করেন। সার বীজ কীটনাশক পানি সেচ সহ বিঘা প্রতি খরচ প্রায় লাখ টাকার মত হয়েছে। মরিচের গাছ এবং যে ফলন এসেছে এছাড়া প্রাকৃতিক দূর্যোগ দেখা না দিলে প্রতি বিঘা জমিতে তিনি ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকার ফলন পাবেন বলে আশা করেন।

তিনি জানান ইতোমধ্যে বিঘা প্রতি ১০ হতে ১৫ হাজার টাকার মরিচ স্থানীয় বাজারে বিক্রয় হয়েছে। দু-এক সপ্তাহের মধ্যে নাগা মরিচ সিলেটের বাজারে সরবরাহ করতে পারবে। সঠিক সময়ের মধ্যে ফসল উত্তোলন করতে পারলে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা আয় হবে। তিনি বলেন উপজেলা কৃষিকর্মকর্তারা যদি কৃষকদের নাগা মরিচ চাষে কিংবা অন্যান্য সব্জী চাষে পরামর্শ, সহযোগিতা, রোগবালাইয়ের প্রতিকার সম্পর্কে মাঠ বৈঠকের মাধ্যমে অবহিত করতেন এবং কৃষি ঋন প্রদানের ব্যবস্থা করে দিতেন তাহলে অনেক কৃষক উপকৃত হতে পারতো।

কৃষক আতিকুর রহমান জানান গত বৎসর নিজের অর্ধবিঘা জমিতে নাগা চাষ করে মোটামোটি ভাল ফলন পেয়েছেন।
এ বৎসর তিনি আরও ৪ বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে চাষাবাধ শুরু করেন। তিনিও লাখপতি হওয়ার আশাবাদি। এভাবে অনেক কৃষক তাদের নাগা মরিচ চাষের ফলে লাখপতি হওয়ার সোনালী স্বপ্ন পুরনের কথা এ প্রতিবেদককে জানান।

কৃষক আব্দুস সবুর, খোরশেদ আলম, শাওন আহমদ দুলাল, মনজুর ইসলাম আরও বলেন- আমাদের হেলিরাই এলাকায় প্রায় ৭ হতে ৮শ’টি নাগা মরিচের বাগান করা হয়েছে। বাগানে কিছুটা রোগ বালাই দেখা দিয়েছে। রোগের আক্রমনে ফল আশা কিছু সংখ্যক গাছ মরে যাচ্ছে। এটা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কৃষি বিভাগের লোকজন মাঝে মধ্যে আসেন আর মাঠ গুলো দেখে যান। রোগে ও পোকা মাকড় দমনে তেমন কোন পরামর্শ আমরা তাদের কাছ থেকে পাচ্ছি না। তবে আমাদের মাঠ প্রতি কৃষি অফিস একটি করে ক্ষতিকর পোকা নিধন প্লাষ্টিকের কন্টিনার দিয়ে গেছেন।

কৃষকরা ক্ষোভের সাথে বলেন- শুনেছি কৃষকদের মধ্যে সরকার ভর্তুকির আওতায় সার বীজ কীটনাশক সরবরাহ করছে কিন্তু আমরা কখনো এই সুযোগ সুবিধা পাইনি। কেউ পেয়ে থাকলেও আমরা জানিনা। তবে আমাদের হেলিরাই গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ১জন কৃষকের মাঠে কৃষি প্রদর্শনী সাইনবোর্ড আছে, ঐ কৃষক কোন সুবিধা পেয়েছে কিনা আমাদের জানা নেই।

জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের প্রদর্শনী মাঠে গিয়ে কৃষক আব্দুল গফুরের সাথে আলাপকালে তিনি জানান- উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা ফোন করে অফিসে ডেকে নিয়ে আমাকে ২০ কেজী সার দিয়েছেন। পরবর্তিতে তারা আমার মাঠে প্রদর্শনী সাইবোর্ড লাগিয়েছেন। আমি ২০ কেজি সার পেয়েছি। এছাড়া মাঝে মধ্যে মাঠটি দেখে কিছু পরামর্শ দেন। তবে অন্য কোন কৃষক সার বা অন্য সুযোগ সুবিধা পেয়েছে কি না আমি জানি না। তবে কৃষক নিজেই প্রতিবেদককে বলেন প্রদর্শনীর মাঠের চাইতে অন্য মাঠে ফলন ভালে হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসাইন বলেন- উপজেলার হেলিরাই গ্রামের কৃষকরা নাগা মরিচ চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। এখানে আমাদের সুষ্ট পরামর্শে এবং দিক নির্দশনায় একটি প্রদর্শনী প্লট রয়েছে। কৃষকরা সার বীজ কিটনাশক পাচ্ছে না এ কথটি সঠিক নয়। সরকারি পরোদনার সহায়তার জন্য কৃষক নির্বাচিত করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। তাদের তালিকা অনুযায়ী আমরা সরকারের পরোদনার সহায়তা বিতরন করি।

অন্য প্লটের চেয়ে আপনার প্রর্দশনী প্লটটির অবস্থা ভাল নয় প্রশ্ন করলে তিনি অন্য প্রসঙ্গে কথা বলেন। তার দাবী আমি নাগা মরিচের মাঠে এসে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।

এছাড়া একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতায় প্রতিটি মাঠে কি ধরনের পোকা মাকড় অক্রমন করছে তা পরিক্ষার জন্য বিনামূল্যে প্রতিটি মাঠে একটি করে কন্টেনার স্থাপন করে দিয়েছি। নাগা মরিচ বা অন্যান্য সব্জী চাষে সরকারি কোন সহায়তা নেই, শুধুমাত্র পরামর্শ দেওয়াই কৃষি অফিসের কাজ।






Related News

Comments are Closed