Main Menu

জামিন পেলেন সুনামগঞ্জের পঙ্গু তারা মিয়া

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: পঙ্গু তারা মিয়া, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা দেয়া হয়েছিলো, তাকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল বুধবার তিনি হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন পেয়েছেন। তবে জামিনের সময় শেষ হয়ে গেলে তারা মিয়াকে সুনামগঞ্জের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২৩ জানুয়ারী) হাইকোর্টের বিচারপতি রইছ উদ্দিন ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বুধবার জামিন শুনানিতে অসুস্থ এবং প্রতিবন্ধী তারা মিয়ার ছবিসহ দেশের একটি শীর্ষ ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়।

প্রতিবন্ধী একজন মানুষ তারা মিয়া। ডান হাত একেবারেই নাড়াতে পারেন না তিনি। তিনিই নাকি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে নির্বাচনের দুই দিন আগে হকিস্টিক, রড নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছেন। পুলিশের মামলায় সেই সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থেকে ঢাকায় গিয়েছিলেন হাইকোর্টে হাজিরা দিতে।

আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সেই প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক তারা মিয়ার ৬ সপ্তাহের জামিন মঞ্জুর করেন।

পুলিশের করা ওই মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থাৎ নির্বাচনের দুদিন আগে বিকাল ৪টার পর সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থানার ভীমখালী ইউনিয়নের মল্লিকপুর বাজারে চাপাতি, হকিস্টিক ও লোহার রড় নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে। মামলায় ৫২ জনকে আসামি করে পুলিশ। তারা মিয়া সেই ৫২ জনের একজন।

জানা গেছে, ডান হাতটি অস্বাভাবিক চিকন, নাড়াতেই কষ্ট হয়। কিছু ধরতে বা কাজ করতে পারেন না ডান হাত দিয়ে। এমনকি ডান হাতে খেতেও পারেন না। এটি তার জন্মগত সমস্যা। বাম হাত তুলনামূলকভাবে লম্বা এবং বাঁকানো। খুব কষ্ট করে বাম হাত দিয়ে খেতে হয়। ছবির এই মানুষটির ডান হাত অচল, বাম হাতও প্রায় অচল। তিনি সুনামগঞ্জের অধিবাসী, নাম তারা মিয়া। তারা মিয়া চাপাতি, হকিস্টিক ও লোহার রড হাতে নিয়ে আক্রমণ করেছেন পুলিশের ওপর। ভিক্ষা করে জীবনযাপন করা তারা মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ এমন অভিযোগ এনে মামলা করেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থাৎ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন আগে বিকাল ৪টার পর মল্লিকপুর বাজারে এই আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ৫২ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। তারা মিয়া সেই ৫২ জনের একজন।

ঘটনার দুদিন পর জামালগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলায় তারা মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়।

ঢাকায় হাইকোর্ট চত্বরে দ্য ডেইলি স্টারের এই সংবাদদাতাকে তিনি বলেন, “আমার হাতের যখন এই অবস্থা তখন আমি কীভাবে পুলিশকে আক্রমণ করতে পারি? একদিকে ডান হাত ব্যবহার করতে পারি না, অন্যদিকে বাম হাতটাও তেমন কাজ করে না।” উচ্চ আদালতে অন্তর্র্বর্তীকালীন জামিনের আশায় আসা ৪৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আরও বলেন, “আমি রাজনীতি করি না। আমি ভিক্ষা করে জীবন চালাই। আমার পরিবারের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

জামালগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, মামলাটিতে অভিযুক্ত হিসেবে ৫২ জনের নাম রয়েছে। অজ্ঞাত রয়েছেন আরও ৭০ থেকে ৮০ জন। মামলার বিবরণীতে রয়েছে, সেদিন (২৮ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে মল্লিকপুর বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে ‘ধানের শীষের’ পে মিছিল বের করে। তারা রাস্তা আটকায় এবং পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। এতে অভিযোগকারীসহ ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ বিষয়ে তারা মিয়া জানান, “আমি কখনো কোনো মিছিলে অংশ নেই নাই। আর পুলিশকে আক্রমণ করা তো দূরের কথা।” এরপর তাকে দেখা যায়, উদ্বেগের সাথে আদালত চত্বরে এদিক-ওদিক হাঁটাহাঁটি করতে।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. আবিদুল হক। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুদিন আগে গত ২৮ ডিসেম্বর ষড়যন্ত্র ও হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা, হকিষ্টিক, লাঠিসোটা, বাঁশ, রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ এনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ থানার এসআই মো. তারিকুল ইসলাম।

এদিকে, তার ছবি সহ প্রতিবেদন ওই ইংরেজী দৈনিকে প্রকাশিত হলে সারা দেশে একাদশ নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের গায়েবী মামলা নিয়ে ফের নানামুখী সমালোচনা শুরেু হয়।






Related News

Comments are Closed