Main Menu
শিরোনাম
শমশেরনগরে রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান         বিশ্বনাথে ৯টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে জরিমানা         বালাগঞ্জে ডাকাতি, গৃহকর্তাসহ আহত ৪         কমলগঞ্জে আবেদনের ৫ মিনিটেই বিদ্যুৎ সংযোগ         বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল সিটি হবে সিলেট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী         বিশ্বনাথে ভারতীয় মদসহ আটক ১         তাহিরপুরে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ, আটক ১         গোয়াইনঘাটে ব্রীক ফিল্ডে শ্রমিক নিহত         ফুলতলী (র.)-এর ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে লাখো মানুষের ঢল         শাবি শিক্ষার্থী প্রতীকের আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন         সিলেটগামী বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাস খাদে, নিহত ৫         লাক্কাতুরা এলাকা থেকে চোলাই মদসহ আটক ২        

উমরা মিয়ার গাছের রাজ্য গ্রাম থেকে শহরে

প্রকাশিত: ৬:০৫:৫৬,অপরাহ্ন ১০ জানুয়ারি ২০১৯ | সংবাদটি ২৯ বার পঠিত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রকৃতিপ্রেমী উমরা মিয়ার বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের তাতীকোণা গ্রামে। সত্তরোর্ধ আব্দুল গাফফার উমরা মিয়ার শখ হচ্ছে গাছ লাগানো। পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও ১৯৭৫ সাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক, স্কুল ও কলেজে নিজ ব্যয়ে রোপন করে চলেছেন অসংখ্য গাছ। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ এলাকার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষের চারা রোপন ও পরিচর্যা করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ২০১০ সালের ৯ অক্টোবর সিলেট আদালত এলাকায় তাল, গোলাপ জাম, মহুয়া, কাঠবাদাম, জাউ সহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক বৃক্ষের চারা রোপন করেন। তিনি রোপনের পর থেকে সেগুলোর পরিচর্যা করে যাচ্ছেন। ফলে আজ গোটা আদালত এলাকায় লাগানো উমরা মিয়ার বৃক্ষের চারাগুলো পরিপূর্ণ বৃক্ষে পরিণত হতে চলেছে।

ব্যক্তি জীবনে দুই সন্তানের জনক উমরা মিয়ার পিতা মৃত হাজী আব্দুল আজিজ সৈয়দ মিয়া এবং মৃত মরহুমা নুরজাহান বেগম। স্কুল জীবন থেকে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তিনি। বৃক্ষের প্রতি অসীম ভালোবাসার ফলে মানুষের কাছে তিনি ‘বৃক্ষপ্রেমিক’ নামে পরিচিত। দৈনন্দিন জীবনে প্রাচীন আমলের গাছ-গাছড়াকেই তিনি আসবাবপত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। দুর্লভ সব বৃক্ষরাজি আর ফুলে ফুলে সাজানো রয়েছে তার বাড়িটি। প্রকৃতির রুপবৈচিত্রে সাজানো তার ওই বাড়িতে প্রতিদিনই আগন্তুকদের ভিড় লেগে থাকে। ওই বাড়িতে পদার্পন ঘটেছে দেশী-বিদেশী খ্যাতিমান ব্যক্তিদেরও।

উমরা মিয়ার বাড়িতে গড়ে তুলেছেন দুর্লভ সব বৃক্ষরাজির এক সংগ্রহশালা। বাড়ির প্রবেশ পথ থেকে বসত ঘরের ছাদ পর্যন্ত বিভিন্ন বিরল প্রজাতির গাছ-গাছালি এমনভাবে লাগিয়ে রেখেছেন, যেন গাছের জাদুঘর। সেখানে শোভা পাচ্ছে স্প্রে-ঝাউ, লেমন গাছ, গুরু-চন্দন, সেত-চন্দন, হলুদ গোলাপ, ইন্ডিয়ান ঝুরুন্ডা, বিøডিংহার্ট, ড্রাগন, ইপোর্কিয়া, নলীনি, এডোনিয়াম, অলকচুসহ দুর্লভ অনেক গাছ। তাঁর সংগ্রহশালায় রয়েছে হাল আমলের মহিষের শিং, প্রাচীন আমলের বৃক্ষের তৈরী চেয়ার-টেবিল, কুমির সদৃশ কাঠের সোফা, হেলান চেয়ার, হুক্কা, তছবিহ, খড়ম, তরবারী, শামুক, ঝিনুকের খোলস সহ আগেকার দিনের দিকদর্শন যন্ত্র।

বাংলাদেশ বনবিভাগের উচ্চ-পদস্থ কর্মকর্তারা ছাড়াও ২০০৭ সালে উমরা মিয়ার ওই বাড়িটি পরিদর্শন করেছেন সিলেটের শেকড় সন্ধানী গবেষক সৈয়দ মোস্তফা কামাল। এর আগে ১৯৯০ সালের ২৩ ডিসেম্বর বাড়িটি পরিদর্শন করেন তৎকালীন ব্রিটিশ সংসদীয় দলের নেতা মিষ্টার নরম্যান ও অ্যামেরিকান ম্যাডিকেল ডাইরেক্টর মিষ্টার রায়মন্ড ফিলিপস্।

বৃক্ষপ্রেমিক উমরা মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি নিঃসার্থভাবে নিজ খরচে বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে যৌতুকবিহীন বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন করে যাচ্ছি। ১৯৭৬ সালে হাইস্কুলে থাকাকালীন সময়ে সিলেটের প্রথম বেসরকারি নার্সারি ‘ইসলামপুর পল্লীশ্রী নার্সারী’ গড়ে তুলি। আমার একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সিলেটের নুরজাহান হোটেলের ৪র্থ তলায় ফুটেছিল বিরল প্রজাতির ‘নাইট কুইন’ ফুল।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন বলেন, উমরা মিয়ার লাগানো গাছ-গাছালি কোর্ট এলাকার পরিবেশকেই বদলে দিয়েছে। শুধু কোর্টেই নয়, তাঁর লাগানো গাছ বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটে শোভা পাচ্ছে।
সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট শামিউল আলম বলেন, আমরা তাঁকে বৃক্ষপ্রেমিক হিসেবেই চিনি। তিনি আমাদের বিশ^নাথের গর্ব। দেশ ও দশের কল্যাণে এক নিবেদিত প্রাণ উমরা মিয়ার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।






Related News

Comments are Closed