Main Menu
শিরোনাম
দক্ষিন সুরমায় রিক্সাচালককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১         গোয়াইনঘাটে বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১         বিশ্বনাথে বিএনপি নেতা ফয়জুর রহমানের ইন্তেকাল         শমশেরনগরে রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান         বিশ্বনাথে ৯টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে জরিমানা         বালাগঞ্জে ডাকাতি, গৃহকর্তাসহ আহত ৪         কমলগঞ্জে আবেদনের ৫ মিনিটেই বিদ্যুৎ সংযোগ         বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল সিটি হবে সিলেট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী         বিশ্বনাথে ভারতীয় মদসহ আটক ১         তাহিরপুরে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ, আটক ১         গোয়াইনঘাটে ব্রীক ফিল্ডে শ্রমিক নিহত         ফুলতলী (র.)-এর ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে লাখো মানুষের ঢল        

এখনও বিচারের পথ চেয়ে আছে মা-বাবা

প্রকাশিত: ১২:৫৪:৫৪,অপরাহ্ন ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ | সংবাদটি ৩০ বার পঠিত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আজ ৭ জানুয়ারি, ৮ বছর আগে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর-দিনহাটা সীমান্তের খিতাবেরকুঠি এলাকার কাঁটাতারে ঝুলছিল ১৪ বছর বয়সী ফেলানীর মরদেহ। সেদিনের ছবিটি সারা বিশ্বের মানুষের মনে নাড়া দিয়ে উঠেছিল।

জীবিকার সন্ধানে সেদিন মা-বাবার সঙ্গে ইটভাটায় কাজ করতে ভারতে গিয়েছিল কিশোরী ফেলানী। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরবেলা কাঁটাতারের প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে নিজ দেশে ফেরার চেষ্টা করে ফেলানী। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানীকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুলি করার পর তাকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। চার ঘণ্টা প্রাণ নিয়ে পানি পানি করে চিৎকার করতে থাকে ফেলানী। কিন্তু ভারতীয় নরপিশাচদের কাছে এক ফোটা পানিও পায়নি বাংলাদেশের কিশোরী ফেলানী। এক সময় কাঁটাতারে ঝুলন্ত অবস্থাতেই তার মৃত্যু ঘটে। দীর্ঘক্ষণ তার দেহ কাঁটাতারের বেড়ার ওপরেই ঝুলে ছিল।

বিএসএফ’র পৈশাচিক-বর্বোরচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুনিয়াজুড়ে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। কিশোরীর ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই হত্যাকাণ্ডের জন্য বিএসএফের তীব্র নিন্দা জানায়।

শুধু তাই নয় কথিত বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশীর এই দেশটির প্রতি ভারতীয়দের কেমন দৃষ্টিভঙ্গি সেটিও দেখতে পায় বিশ্ববাসী। ফেলানী হত্যাকে বাংলাদেশের ওপর ভারতের আগ্রাসী ভূমিকার নিকৃষ্ট উদাহরণ উল্লেখ করে নিন্দা জানায় বিভিন্ন সংস্থা।

বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড়ের পর বিএসএফের ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনেস্টেবল অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু বিএসএফ’র নিজস্ব আদালত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে (জিএসএফসি) ২০১৩ ও ২০১৫ সালে দুই দফায় যে প্রহসনমূলক বিচার হয়েছিল তাতে ফেলানি হত্যার সঙ্গে জড়িত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ রায়ে বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বাংলাদেশের সব শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে। ফলে মামলাটি আবার পুনর্বিচেনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফেলানীর পিতা নুরুল ইসলাম নুরু এবং ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) অভিযুক্তের শাস্তি এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে রিট আবেদন করেছিল। এখনো পর্যন্ত সেই আবেদনের শুনানি শুরু হয়নি। আজও সেই বিচারের পথ চেয়ে আছে হতভাগা কিশোরীর পরিবার।

ওই হত্যার পর থেকে সীমান্তে হত্যার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ভারত সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। ফেলানীর হত্যার পরও অসংখ্য বাংলাদেশিকে জীবন দিতে হয়েছে প্রতিবেশী এই দেশটির সীমান্তরক্ষীর হাতে।






Related News

Comments are Closed