Main Menu

ছাতকে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ছাতক প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে মাঠে মাঠে এখন দোলা দিচ্ছে সোনালী আমন ধান। পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ ছাড়াই বেড়ে ওঠা সোনালী ধানে ভরে গেছে মাঠ। দিগন্ত জোড়া সোনালী ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বিকশিত করে তুলেছে। মাঠের পর মাঠ ছড়ানো আধাপাকা ধানের সোনালী আভা ও মনমাতানো মৌ-মৌ গন্ধে যেন দিগন্ত ছেঁয়ে গেছে।

মাঠে হাওয়ার তালে তালে দোলছে কাঁচা সোনায় রাঙ্গানো আমন ধানের শীষ। নবান্ন উৎসবকে সামনে রেখে আর ক’দিন পরেই গ্রামে-গ্রামে চলবে স্বপ্নের সোনালী ফসল ঘরে তোলার কাজ। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন হয়েছে বলে কৃষকরা দাবী করছেন।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ৪শ’ ৯০ হেক্টর জমি। আবহাওয়া পক্ষে থাকায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামের মাঠ এখন সোনালী আমন ধানে ভরে গেছে। মাঠজুড়ে যে দিকে চোখ যায় সে দিকেই দেখা যায় শুধুই সোনালী ধানের শীষ। মাঠজুড়ে এখন দোলা দিচ্ছে সোনালী ধান। ধানের নাচন দেখে কৃষকদের মুখে ফুটে উঠেছে স্বপ্ন বিভোর সোনালী হাসি। তবে ধান কেটে ঘরে তোলার পূর্বক্ষণে শেষবারের মতো ধান ক্ষেত পরিচর্চায় কোথাও কোথাও কৃষকদের মাঝেও দেখা মিলেছে ব্যস্ততার। আধাপাকা ধানকে ইঁদুরের আক্রমন থেকে বাঁচাতে ধানক্ষেত পরিচর্চায় কৃষকরা কাটাচ্ছেন ব্যস্ত সময়।

উপজেলার কালারুকা, জাউয়াবাজার, দক্ষিণ খুরমা, উত্তর খুরমা, ভাতগাঁও, দোলারবাজার ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের একাধিক কৃষক জানান, চারা রোপনের পর পোকা-মাকড়, শীষ ও পাতা মরা রোগে ধানের কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় এবং মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া পক্ষে থাকায় এবার চাষাবাদকৃত আমন ধান বিগত বছরের চেয়ে ভালো হয়েছে। আর কয়েকদিন পর ধান কাটা শুরু করা যাবে। বিগত বছরের চেয়ে এবার অধিক ফসল ঘরে উঠবে বলে কৃষকরা জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম বদরুল হক জানান, বর্তমানে কৃষিবান্ধব সরকার কৃষি ও কৃষকের কল্যানে সময় উপযোগী পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরে আমন ধানের ফসল খুবই সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের ছাতক উপজেলা খাদ্যে সয়ং সম্পূর্ন এবং কৃষকরা শীগ্রই ধান কেটে ঘরে তোলার কাজ শুরু করবেন।






Related News

Comments are Closed