Main Menu
শিরোনাম
সুনামগঞ্জ সফরে ভারতীয় হাই কমিশনার         বিশ্বনাথে মেছো বাঘ আটক         ছাতকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাথীদের বিদায়ী অনুষ্টান         জৈন্তাপুরে ট্রাক চাপায় শিশু নিহত, অাহত ৫         ছাতকে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু         লাউড় রাজ্যের রাজবাড়িতে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের উৎখনন         সিলেটে মাজার জিয়ারতে স্পিকার শিরীন শারমিন         সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ’র পতাকা বৈঠক         জাফলংয়ে ভারতীয় তীর খেলার বইসহ আটক ২         কমলগঞ্জে চার খাবার হোটেলে জরিমানা         প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন         হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি        

কানাইঘাটে অবাধে আসছে ভারতীয় গরু-মহিষ

প্রকাশিত: ৬:৪৫:০০,অপরাহ্ন ০৭ নভেম্বর ২০১৮ | সংবাদটি ৪৫ বার পঠিত

কানাইঘাট সংবাদদাতা : সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের দনা ও লোভাছড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে আসছে ভারতীয় গরু মহিষ। আর এসব গরু মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসতে সক্রিয় রয়েছে স্থানীয় একটি গরু ব্যবসায়ী চক্র। সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারী এসব গরু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে প্রতি রাতে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে শত শত গরু মহিষ। স্থানীয় বিজিবি’র চোঁখ ফাঁকি দিয়ে গরু মহিষ ব্যবসায়ীরা রাতের আধাঁরে গরু মহিষ এনে সুরমা ও লোভা নদী পার করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিক্রি করছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। এতে কানাইঘাটের দনা ও লোভাছড়া সীমান্ত এলাকায় করিডোর অথবা বিট/খাটাল না থাকায় প্রতি বৎসর সরকার এখান থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলে এলাকার সচেতন মহল জানিয়েছেন।
অপর দিকে সীমান্তের অপার থেকে চোরাইপথে নিয়ে আসা গরু মহিষ গুলো প্রতিদিন রাতে ও ভোরে বিভিন্ন ছোট খাটো বাড়ী ঘরের কাচা রাস্তাঘাট ব্যবহার করার কারণে রাস্তাঘাট, ফলমূলের বাগান, সবজি বাগান, সুপারী বাগান মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। তাই এলাকাবাসী সরকারী ভাবে মূল রাস্তাঘাট ব্যবহার করে গরু মহিষ গুলো যাতায়াত করার জন্য সকল চোরাকারবারী গরু মহিষের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলার দনা ও লোভাছড়া সীমান্ত এলাকার শতাধিক গরু ব্যবসায়ী বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতি রাতে শত শত ভারতীয় গরু মহিষ অবৈধ ভাবে সীমান্তের ওপার থেকে এপারে নিয়ে আসার পর সোনারখেয়ড়-মন্তাজগজ্ঞ ভায়া সুরমা নদী পার হয়ে সড়কের বাজারে এনে বিক্রয় করা হয়। তাই প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সড়কের বাজারে গরু মহিষের হাটবাজার জমজমাট থাকে।
স্থানীয়রা জানান, সড়কের বাজারে নিয়ে আসার পর এসব চোরাকারবারী গরু ব্যবসায়ীরা তাদের অবৈধ ভাবে নিয়ে আসা গরু মহিষ গুলো এখানেই বিক্রয় করে দেন। তাই এসব গরু মহিষ সিলেটের অন্যান্য এলাকার ব্যবসায়ীরা সড়কের বাজার থেকে ক্রয় করে সড়কের বাজারের ইজারাদারের কাছ থেকে বৈধ বিক্রয় চালান রশিদ নিয়ে সিলেটের জকিগঞ্জ, কালিগঞ্জ, ছাগলী, চারখাই, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ সহ সিলেট শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে বিক্রয় করেন। এছাড়া সীমান্ত এলাকার মুলাগুল বাজার, কান্দলা নয়াবাজার, মন্তাজগঞ্জ বাজার, দনা বাজার, আন্দুর মূখ বাজার, সুরইঘাট বাজার, বড়বন্দ বাজার, বাদশা বাজারে সীমান্তের অপার থেকে নিয়ে আসা অধিকাংশ গরু মহিষ বিক্রয় হয়ে থাকে। এলাকাবাসী জানান, সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারীরা সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন রাস্তাঘাটের মূখে তাদের মনোনিত পাহারাদার বসিয়ে রাখে। আর উক্ত পাহারাদারদের ছত্রছায়ায় গরুর মহিষের লাইনম্যানরা কিলোমিটার প্রতি ৫ শত অথবা একটি গরু ১ হাজার টাকা, একটি মহিষ ২ হাজার টাকায় বিভিন্ন পয়েন্টে এক লাইনম্যানের কাছ থেকে অপর লাইনম্যানের কাছে পৌছে দেয়। যাতে করে আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আনা এসব গরু-মহিষ আটক করতে না পারে।
এদিকে কানাইঘাটের লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার শামছুল হক বলেন, সীমান্তের অপার থেকে চোরাকারবারীদের মাধ্যমে নিয়ে আসা গরু মহিষ আটক করতে আমরা ২৪ ঘন্টা ডিউটি করে থাকি। কিন্তু কোন ভাবেই এদেরকে পুরোপুরি দমন কিংবা বন্দ করা যাচ্ছেনা। কারণ অপারের চোরাকারবারীরা প্রতিদিন স্বল্প দামে গরু মহিষ এপারের চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রয় করে থাকে। সেই কারণে পাহাড় টিলা ও বন জঙ্গল ভেঙ্গে এপারের চোরাকারবারীরা গরু মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, বিগত ৩ মাসে লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্প সহ কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী ৪টি বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে অন্তত ১ হাজার গরু মহিষ আটক করা হয়েছে। তা ছাড়া আমরা কানাইঘাটের প্রত্যেকটি বিজিবি ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রায় প্রতিদিন ১০/১৫টি গরু আটক করে থাকি। অনেক সময় এসব গরু মহিষের চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে বিজিবি’র পক্ষথেকে মামলাও হয়েছে। তিনি বলেন, চোরাকারবারীরা বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে গরু মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসতে রাস্তাঘাটে তাদের পর্যাপ্ত সোর্স ব্যবহার করে। বিজিবি কোন সময় কোন রাস্তা দিয়ে টহলে যাচ্ছে তাদের সোর্সরা এসব খবরাখবর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চোরাকারবারীদের কাছে বলে দেয়। তাই অনেক সময় বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা গরু-মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসে। সীমান্ত এলাকার প্রতিটি রাস্তায় বিজিবি’র নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। যাতে করে কোন চোরাকারবারী ভারতীয় কোন গরু মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসতে না পারে।
অপর দিকে এলাকার সচেতন মহল মনে করেন যাতে সীমান্তের অপার থেকে গরু মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসা কোন ভাবে বন্ধ হচ্ছে না। সেজন্য কানাইঘাটের দনা ও লোভাছড়া সীমান্ত এলাকার সোনারখেয়ড় নামক স্থানে সরকারী ভাবে একটি করিডোর অথবা বিট/খাটাল স্থাপন করা হলে একদিকে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। অপর দিকে বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষার পর বৈধ ভাবে সুস্থ ও স্বাস্থ্য সম্মত গরু মহিষ গুলো দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে। তাই কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির সীমান্ত এলাকায় জরুরী ভিত্তিতে একটি করিডোর অথবা বিট/খাটাল স্থাপন করার জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।






Related News

Comments are Closed