Main Menu
শিরোনাম
সুনামগঞ্জ সফরে ভারতীয় হাই কমিশনার         বিশ্বনাথে মেছো বাঘ আটক         ছাতকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাথীদের বিদায়ী অনুষ্টান         জৈন্তাপুরে ট্রাক চাপায় শিশু নিহত, অাহত ৫         ছাতকে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু         লাউড় রাজ্যের রাজবাড়িতে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের উৎখনন         সিলেটে মাজার জিয়ারতে স্পিকার শিরীন শারমিন         সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ’র পতাকা বৈঠক         জাফলংয়ে ভারতীয় তীর খেলার বইসহ আটক ২         কমলগঞ্জে চার খাবার হোটেলে জরিমানা         প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন         হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি        

জুড়ীর কমলা চাষীদের মুখে তৃপ্তির হাসি

প্রকাশিত: ৯:৫৫:০৭,অপরাহ্ন ০৩ নভেম্বর ২০১৮ | সংবাদটি ২৮ বার পঠিত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী জুড়ী উপজেলায় সুস্বাদু কমলার কদর বেড়েছে। ফলন বৃদ্ধিসহ বানিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে খাসি জাতের কমলা।

এবছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও বাগানে পোকা-মাকড় দমনে অভিনব পদ্ধতিতে সেক্সফরমুন ফাঁদ ব্যবহারের ফলে এ উপজেলায় কমলা লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের লালছড়া গ্রামে এ প্রতিবেদক এসব কমলা ও বাগানীদের তথ্য-উপাত্ত নিতে অনুসন্ধানে নামেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলার ছোট-বড় বাগানগুলো থেকে হেমন্তের বাতাসে ছড়াচ্ছে কমলার সুস্বাদু মৌ মৌ ঘ্রাণ । গাছের ডালে ডালে দোল খাচ্ছে পাকা ও আদাপাকা কমলা। প্রাকৃতির অপরুপ এ সৌন্দর্যে কৃষকের মুখে যেন অপার আনন্দের ছাপ। চারিদিকে এখন পাকা ও আদাপাকা কমলা পাড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হযেছে। অধিক মুনাফা লাভের আশায় ক্রেতা ও কৃষকরা পাকা ও আদাপাকা কমলা রাজধানী ঢাকা, ভৈরব ও সিলেটে পিকাপ ভ্যান, ট্রাকযোগে নিয়ে বিক্রি করছেন।

কমলা একটি ছায়া পছন্দকারি বৃক্ষ। অন্যান্য বৃক্ষের ছায়ায় কমলা আবাদের উপযুক্ত স্থান। ২৫/৩০ সেঃ মিঃ গড় তাপমাত্রা ও আংশিক ছায়াযুক্ত স্থান ওই চাষাবাদে সবচেয়ে বেশি উপযোগী। বসতবাড়ির উত্তর ও পূর্ব পাশে চাষাবাদ করলে ফলন ভালো হয় । প্রতিটির গাছের গড়ায়ু ৪০/৭০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৫/৭ বছর বয়স থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রতি মৌসুমেই কমবেশি ফলন দেয়। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে গাছ প্রতি ১০০/৩০০ অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব।

উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়েনের লালছড়া, শুকনাছড়া, ডুমাবারই, লাঠিটিলা, লাঠিছড়া, হায়াছড়া, কচুরগুল। সাগরনাল ইউনিয়নের পুটিছড়া ও পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের কালাছড়া, টালিয়াউরা এবং জায়ফরনগর ইউনিয়নের বাহাদুরপুরসহ অন্যান্য গ্রামের টিলাবাড়িগুলোতে কমলার পাশাপাশি বাতামি লেবু, আদালেবু, শাসনি ও জাড়া লেবুর বাগান রয়েছে। আর এ বাগানগুলোতে পেশা হিসেবে সর্বদা পরিচর্যা করা ওই গ্রামগুলোর মানুষের নেশায় রুপান্তরিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এক একটি বাগান থেকে প্রতি বছর ২/৩ লাখ টাকার ফলন পাওয়া যায়। কমলা চাষে যেমন খরচ কম, তেমন শ্রমও দিতে হয় না এমনটাই জানিয়েছেন অত্র বাগানগুলোর কৃষকরা। ফলে কমলা চাষে অত্রাঞ্চলের কৃষকরা আগ্রহী হওয়ার পাশাপাশি সাবলম্বিও হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৯১ হেক্টর জমিতে ৮৪টি কমলা বাগান গড়ে উঠেছে। তন্মধ্যে গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নে শতকরা ৮০ভাগ বাগান রয়েছে। অত্রাঞ্চলের অধিকাংশ কমলা খাসী জাতের চাষাবাদ হচ্ছে। ওই বাগান গুলো থেকে চলতি মৌসুমে ৪৫০মেট্রিকটন কমলা লেবুর ফলন প্রাপ্তির আশা রয়েছে।

লালছড়া গ্রামের কমলা চাষী মোরশেদ মিয়া (৪৫) বলেন, কমলা এক বছর ফলন বেশি হলে অন্য বছর কম হয়। প্রাকৃতির নিয়ম অনুযায়ী এবারে ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, এবারে কমলার বাজার মূল্য গত বছরের চেয়ে বেশি, আকারও বড় হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে ৪০হাজার টাকার কমলা বিক্রয় করেছেন। আরো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলে জানালেন।

সীমান্তবর্তি ডুমাবারই গ্রামের আব্দুন নূর (৮১) জানান, পোকা-মাকড় নিধনে সেক্সফরমুন ফাঁদ নামক নতুন পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। তাছাড়া এবারে বড় ধরণের কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগেরও সম্মূখীন হতে হয়নি।

জুড়ী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষ্ণ রায় বলেন, কমলা একটি ছায়া পছন্দকারী বৃক্ষ । শুধু একক বাগান হলে সানবার্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কৃষকরা যদি সঠিকভাবে সুষম সার ব্যবহার করে তাহলে ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি আকারও বড় হবে। এছাড়াও অত্রাঞ্চলের কৃষকরা মাল্টা, আদা, জাড়া ও বাতামি লেবু ফলনে আগ্রহ দেখাচ্ছে।






Related News

Comments are Closed