Main Menu
শিরোনাম
সুনামগঞ্জ সফরে ভারতীয় হাই কমিশনার         বিশ্বনাথে মেছো বাঘ আটক         ছাতকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাথীদের বিদায়ী অনুষ্টান         জৈন্তাপুরে ট্রাক চাপায় শিশু নিহত, অাহত ৫         ছাতকে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু         লাউড় রাজ্যের রাজবাড়িতে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের উৎখনন         সিলেটে মাজার জিয়ারতে স্পিকার শিরীন শারমিন         সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ’র পতাকা বৈঠক         জাফলংয়ে ভারতীয় তীর খেলার বইসহ আটক ২         কমলগঞ্জে চার খাবার হোটেলে জরিমানা         প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন         হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি        

‘বাংলাদেশে এখন ঝুপড়ি নেই আলোর ঝলমলের দেশ’

প্রকাশিত: ৪:৩৯:০৪,অপরাহ্ন ১৯ অক্টোবর ২০১৮ | সংবাদটি ৩১ বার পঠিত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেছেন, বাংলাদেশে এখন ঝুপড়ি নেই। আলোর ঝলমলের দেশ। বাংলাদেশ যতটুকু উজ্জল হয়েছে সেটাকে অন্ধকার করা যাবে না।
আজ শুক্রবার সকালে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে এক সমাবেশে তিনি একথা বলেন। উপজেলার একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী। এর আগে তিনি সদর উপজেলার ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এসময় তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ নিয়ে অনেক বেশি চিন্তাভাবনা ছিলো। এটা নিয়ে সরকার বেশি কাজ করেছে। আমরা শতভাগ সফল হয়েছি।
তিনি বলেন, বিদ্যুতের উৎপাদন ছয়গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সারা দেশে এখন বিদ্যুতের সংকট নেই। পুরো দেশ বিদ্যুতের আলোয় ঝলমল করছে। মানুষের জীবনমান এখন উন্নয়ন হয়েছে। ফলে উৎপাদনও বেড়েছে।
সর্বত্র মানুষের মঙ্গলের সুযোগ করে দিতে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত দশ বছরে শেখ হাসিনা ঘোষিত সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনেকাংশে পূরণ হয়েছে। অবশিষ্ট কাজগুলো পূরণ করতে এবং সরকারের উন্নয়ন ও জনবান্ধব উদ্যোগকে আরো তরান্বিত করতে জনগণের ঐক্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রী নিজের অতীত স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাজনীতি ও জীবনের স্বপ্নের কথা বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, একসময় দেখতাম বাংলাদেশে চারিদিকে হাহাকার, দারিদ্রতা, মানুষের আর্তনাদ। এসব দেখে অনেক কষ্ট পেতাম। আমার জীবনের স্বপ্ন ছিলো সুযোগ পেলে এসকল মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কিছু করব।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, আমার সেই ইচ্ছে পূরণ হয়েছে। আমার জীবনের অবসরকালীন সময়ে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার সুবাদে এটা সম্ভব হয়েছে। আমি মনে করি, এক্ষেত্রে সফল হয়েছি। এজন্য আমি তৃপ্ত এবং আনন্দিত।
তিনি বলেন, এটা সম্ভব হয়েছে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন একটি দেশপ্রেমিক সরকার বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কারণে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি বলে এসকল কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তাই আমি আমার সংসদীয় আসনের জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ।
দেশের দারিদ্রতার হার হ্রাস প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে দারিদ্রতার হার ছিলো ৫৮ শতাংশ। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে তা এখন ২২.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী পাঁচ বছর সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে সেটা ১০শতাংশে নেমে আসবে।
তিনি বলেন, ১০ শতাংশ যারা দরিদ্র থাকবে তাদের মধ্যে শারিরিক প্রতিবন্ধী, বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী, বিধবাসহ বিভিন্নশ্রেণির মানুষ। যাদেরকে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনির আওতায় সবধরণের সহযোগিতা পাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও পাবে। উন্নত দেশগুলোতেও এরকম ব্যবস্থা রয়েছে।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজাম মুনিরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘস্থা বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প পরিচালক ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আকবর হোসেন, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ।
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প সিলেটের সমন্বয়ক ও বিআরডিটিআই এর উপপরিচালক মো. গোলাম ছারুয়ারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড ও এসডিএফ এর পরিচালক সৈয়দ এপতার হোসেন পিয়ার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এএস মহসীন, কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নিজাম উদ্দিন, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আফছর আহমদ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সুফলভোগী সদস্য মাসুম আহমদ ও শিরিন আক্তার প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সিলেট ব্যুরো প্রধান মকসুদ আহমদ মকসুদ, সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনফর আলী, মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম টুনু, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বিলাল প্রমুখ।
যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী :
মন্ত্রী সকালে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে একসঙ্গে ৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। একই সময়ে আরো ৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের জামেয়া রাহমানিয়া তায়ীদুল ইসলাম ফতেহপুর কামিল মাদরাসার একাডেমিক ভবন উদ্বোধন, লালারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের প্রধান ফটক এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের উদ্বোধন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক সিলেট সদরের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন, ধোপগুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, খাদিমনগর আরএইচডি-সাহেববাজার জিসি সড়ক উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, সেনানিবাস সিলেটের উদ্বোধন, টুকেরবাজার মইয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, শাহ খুররম ডিগ্রি কলেজের পাঁচতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন, পীরেরচক-মিরেরচক সড়কের চেইনেজ রাস্তা ও আরসিসি গার্ডার ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ছালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।






Related News

Comments are Closed