Main Menu
শিরোনাম
কুলাউড়ায় পেট্রোলের গোডাউনে আগুন, ৭ লাখ টাকার ক্ষতি         সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ’র মিটার রিডাররা কর্মবিরতিতে         বিশ্বনাথে শিশু অপহরণের চেষ্ঠা, আটক ১         সুনামগঞ্জ-১ আসনে কোন্দলে আ’লীগ, বিএনপিতে প্রার্থীজট         শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু আজ         বিশ্বনাথে পরিবহন শ্রমিক-জাপার মধ্যে উত্তেজনা         কানাইঘাটে খাসিয়ার গুলিতে নিহত মামুনের দাফন সম্পন্ন         ঘাতক শফিকের ফাঁসি চায় স্কুলছাত্রী রুমির পরিবার         বালাগঞ্জে যুবদল নেতা গ্রেফতার         শশুরবাড়িতে গায়ে আগুন লাগিয়ে জামাতার আত্নহত্যা         বিশ্বনাথে এমপি এহিয়ার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল         কানাইঘাটে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশী যুবক নিহত        

ভর্তি পরীক্ষা এবং আমাদের অভিভাবক

প্রকাশিত: ১০:৫৯:১৪,অপরাহ্ন ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | সংবাদটি ২০ বার পঠিত

নাহিয়ান কামরুল: যে জ্ঞানার্জনে কোন মানসিক তৃপ্তি নেই, প্রশান্তি নেই সেটা কি আদৌ জ্ঞানার্জনের স্থরে পরে?

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে একজন শিক্ষার্থী ছন্নছাড়া হয়ে মেডিকেল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নিজেকে মনোনিবেশ করে পড়াশুনায় তখন সে জানেই না যে তার জন্য সামনে কি অপেক্ষা করছে। সে শুধু এটাই জানে যে, তার পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিকেলে ভর্তির জন্য নিজেকে সপে দিয়েছে। কিন্তুু না, এখানে তার নিজের চাহিদার কোন মূল্য নেই। আর থাকবেই বা কিভাবে, যেখানে সে বুঝতে সেখার পর থেকেই এটা শুনে বড় হয়- “আমার সন্তানকে ডাক্তার বানাবো, ইঞ্জিনিয়ার বানাবো আরও কত কি।”

তখন নিজের চাহিদাটাকে বিসর্জন দিয়ে পারিবারিক কিংবা সামাজিক চাহিদাটাই মূখ্য হয়ে উঠে তার কাছে। নিজের স্বপ্ন বলে আর কিছু থাকে না তার।

ইতোমধ্যে শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ মোকাবেলা। হাজার হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে সে যখন কোথাও চান্স না পেয়ে বিল্ডিং ভাড়া করা কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় তখন তার নিজেকে কেবলই একটা বোঝা মনে হয়। যেখানে থাকে না কোন মানসিক প্রশান্তি।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার একটি সেমিনারে বলেছিলেন- “আমাদের অভিভাবকরাই আমাদের সন্তানদের প্রতিভার ঘাতক। যে ছেলেটা হতে চেয়েছিল একজন সাহিত্যপ্রেমী লেখক তাকে আমরা জোর করে বানিয়ে দিচ্ছি ডাক্তার, কিংবা যে হতে চেয়েছিল একজন ভালো সমাজকর্মী তাকে বানিয়ে দিচ্ছি ইঞ্জিনিয়ার; যে হতে চেয়েছিল ভাল একজন আর্কিটেকচারার তাকে আমরা কোনো সুযোগই দিচ্ছি না।”

স্যারের কথাগুলো কঠিন সত্য। যে পরিবার থেকে শিক্ষাজীবনের শুরু হয় সেখান থেকেই আবার ঝরে পড়ে একেকটি প্রতিভা। অভিভাবকদের এই নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে; গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষার্থীর চাহিদাকে।

বহির্বিশ্বে যখন ১০ বছরের বিস্ময় বালক মোহাম্মদ মাল্টি ফাংশনাল ঘড়ি আবিষ্কার করে সবার মধ্যে হৈ চৈ ফেলে দেয় তখন আমাদের দেশের অনার্স-মাস্টার্স পাশ করা ছেলেমেয়েরা চাকুরীর দুয়ার থেকে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয় তথাকথিত ‘পূর্ব অভিজ্ঞতার’ অভাবের কারণে।

পরীক্ষায় প্রথম কিংবা দ্বিতীয় হয়ে প্রথম কিংবা শেষ বেঞ্চে বসা ছাত্রছাত্রীরা নয়, মধ্যম সারির ছাত্রছাত্রীরাই ব্যবহারিক হয় বেশি। তার মানে আবার এই না যে প্রথম কিংবা শেষ সারির ছাত্রছাত্রীরা অকেজো, তাদের দিয়ে কিছু হবে না। এটা ভাবা নিতান্তই বোকামি। একজন মধ্যম সারির ছাত্র নিজেকে যথেষ্ট সময় দিতে পারে। তার কাছে কেবল শ্রেণির কাজ কিংবা পরীক্ষায় পাশ করা মূখ্য বিষয় নয়। তাকে বাইরের জগতও জানতে হবে, হতে হবে ব্যবহারিক।

শ্রেণিমুখী শিক্ষা কেবল ভালো ফলাফল অর্জনে সহায়ক হতে পারে, যেখানে থাকে গলাধঃকরণ করা ঠোঁটস্থ বিদ্যা। বাস্তবতাকে মোকাবেলা করে পারিপার্শ্বিক পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে চলার নামই জ্ঞানার্জন। তাই অভিভাবকদের উচিত ছেলেমেয়েদের ভেতরের চাহিদাকে বুঝা এবং মূল্যায়ন করা যাতে করে তারা শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়ে বাস্তবিক জীবনে এর সুফল ভোগ করতে পারে। অন্যথায় “গ্রন্থগত বিদ্যা আর পরহস্থে ধন, নহে বিদ্যা নহে ধন হলে প্রয়োজন” এই নীতিবাক্যেরর মত বন্দী হয়ে রবে শিক্ষা, যা কোন কাজেই দিবে না আমাদের।

লেখক: বিএসসি অনার্স (রসায়ন), এমসি কলেজ, সিলেট।






Related News

Comments are Closed