Main Menu
শিরোনাম
সুনামগঞ্জ সফরে ভারতীয় হাই কমিশনার         বিশ্বনাথে মেছো বাঘ আটক         ছাতকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাথীদের বিদায়ী অনুষ্টান         জৈন্তাপুরে ট্রাক চাপায় শিশু নিহত, অাহত ৫         ছাতকে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু         লাউড় রাজ্যের রাজবাড়িতে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের উৎখনন         সিলেটে মাজার জিয়ারতে স্পিকার শিরীন শারমিন         সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ’র পতাকা বৈঠক         জাফলংয়ে ভারতীয় তীর খেলার বইসহ আটক ২         কমলগঞ্জে চার খাবার হোটেলে জরিমানা         প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন         হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি        

জাতীয় কবির ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশিত: ১১:৪৭:১৩,অপরাহ্ন ২৭ আগস্ট ২০১৮ | সংবাদটি ১৩৮ বার পঠিত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত জাতীয় কবি কবি কাজী নজরুল ইসলাম। দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও শোষিত বঞ্চিত মানুষের মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন তিনি। মূলত তিনি বিদ্রোহী কবি বলে খ্যাত।
আজ কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে।

সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি পালন শুরু হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

বাংলা একাডেমি দিবসটি উপলক্ষে দুদিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে এদিন সকালে কবির সামধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। ৩০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে একক বক্তৃতা, আলোচনা ও সংগীতানুষ্ঠান।

একক বক্তৃতায় অংশ নেবেন ভিস্মদেব চৌধুরী। নজরুল সংগীত পরিবেশন করবেন ডালিয়া নওশীন। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, নজরুল একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।

বিটিভিসহ বেসরকারি চ্যানেলগুলো দিবসটিতে কবির ওপর নানা অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো কবির ওপর বিশেষ সংবাদ ও নিবন্ধ পরিবেশন করবে।

বিংশ শতাব্দীর কবি কাজী নজরুল প্রতিভার কথা বলে শেষ করার নয়। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক এমকি রাজনীতিবিদ ও সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল ছিলেন সোচ্চার।

বাংলা ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে কবি কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম দুখু মিয়া। এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা ছিল ধর্মীয়। তাঁর বিচিত্র জীবনে স্থানীয় এক মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবেও ছিলেন তিনি। রুটির দোকানেও কাজ করেন তিনি। অসংখ্য কবিতা ও গান রচনা করেন।

আঠার বছর বয়সে বৃটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এক সময় তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। এ সময় তিনি রচনা করেন ‘ব্রিদ্রোহী’ ও ‘ভাঙার গান’ কবিতা। রচনা করেণ সাময়িকী ধূমকেতু। এক সময় তিনি জেলে বন্দি হন। জেল বন্দি অবস্থায় তিনি লেখেন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দি’।

কাজী নজরুলের লেখনি জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। তাঁর কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। কাজী নজরুল ইসলাম নিজ গ্রামে মসজিদ ও স্কুলে অধ্যয়ন করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি কবিতা ও গান লেখা শুরু করেন। নিজে বিভিন্ন আসরে গান পরিবেশন করেন। তার কবিতা ক্রমে বৃটিশ রাজের শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী ও শক্তিশালী হয়ে উঠে। তাঁর বিদ্রোহী কবিতায় সরাসরি বৃটিশ রাজকে সমালোচনা করা হয়।

এ ছাড়া ভাঙ্গার গান, ধুমকেতু কবিতাও একই চেতনার কবিতা নির্মাণ করেন কবি। ছোটকাল থেকেই কবির রচনায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ ঘটে। তিনি বিদ্রোহী উপাধিতে ভূষিত হন। তার বই নিষিদ্ধ করে বৃটিশ শাসকরা। তিন হাজার গান রচনা করেন কাজী নজরুল। তার গানের বানী হয়ে উঠে মানবতাবাদ ও সাম্যবাদের পক্ষে শক্তিশালী হাতিয়ার। অসংখ্য গানের সুরারোপও করেন কবি নিজেই। পেশাগত জীবনে কবি দীর্ঘদিন সাংবাদিকতায় নিয়োজিত ছিলেন। দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

আমাদের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানমন্ডিতে কবির বসবাসের জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন তিনি। মধ্য বয়সে তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে আমরণ সাহিত্য চর্চা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

দীর্ঘকাল অসুস্থ থাকার পর কবি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগষ্ট (১২ ভাদ্র) ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে দাফন করা হয়।






Related News

Comments are Closed