Main Menu
শিরোনাম
হবিগঞ্জে বাস চাপায় স্কুল ছাত্র নিহত         কুলাউড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু         শ্রীমঙ্গলে কলা পাতা দিয়ে ঢাকা নারীর লাশ         কোম্পানীগঞ্জে পাথরের গর্তে নেমে শ্রমিক নিহত         শ্রীমঙ্গলে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড         বিশ্বনাথে ৬ জুয়াড়ি আটক         শ্রীমঙ্গলে ধরা পড়ল ৮ ভূয়া পিইসি পরীক্ষার্থী         ওসমানীনগরে কিশোরীর আত্মহত্যা         প্রবাসী স্ত্রীকে লাইভে রেখে স্বামীর আত্মহত্যা!         বিশ্বনাথের রামপাশা-বৈরাগীবাজার রাস্তার বেহাল দশা         ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু         বাহুবলে ট্রাকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত        

অনৈক্য মুসলিম জাতির অন্যতম ব্যাধি: হজের খতিব

প্রকাশিত: ৯:৪৩:২৫,অপরাহ্ন ২০ আগস্ট ২০১৮ | সংবাদটি ৬১ বার পঠিত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মুসলিম উম্মাহ এখন কঠিন সময় পার করছে। অনৈক্য মুসলিম জাতির অন্যতম ব্যাধি। তাই উদ্ধুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনের জন্য চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনতে হবে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করে ঐক্যকে সুসংহত করতে হবে।
সোমবার (২০ আগস্ট) আরাফার ময়দান সংলগ্ন মসজিদে নামিরা উপস্থিত হাজী ও বিশ্ববাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া খুতবায় মসজিদে নববির সিনিয়র ইমাম ও খতিব মদিনা কোর্টের বিচারপতি শায়খ ড. হুসাইন আশ শায়খ এ কথা বলেন।

স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৮ খতিব ড. হুসাইন খুতবা দেওয়া শুরু করেন। ৩১ মিনিটব্যাপী খুতবায় তিনি আল্লাহর একত্ববাদ, রাসূলের ওপর দরূদ, হজের গুরুত্ব, আরাফার ময়দানের তাৎপর্য, হজের আমলসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। খুতবা শেষ হয় ১২টা ৪৯ মিনিটে।

খতিব ড. হুসাইন বলেন, মুসলমানদের পরস্পরের ভ্রাতৃত্ববোধকে শক্তিশালী করতে হবে। একে অপরের কল্যাণকামী হতে হবে। কারণ, এক মুমিন আরেক মুমিনের ভাই। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে।

হজের খুতবা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বিশ্বের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।

খুতবা দেওয়ার সময় মসজিদে নামিরায় উপস্থিত ছিলেন, গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবুদল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আশ শায়খ, মক্কার গভর্নর প্রিন্স খালেদ আল ফয়সাল, সহকারী গভর্নর প্রিন্স আবদুল্লাহ বিন বানদার বিন আবদুল আজিজ, রাজপরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা।

আরাফার খুতবায় খতিব ড. হুসাইন আল্লাহতায়ালার ইবাদতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। নামাজ, রোজা, জাকাত, হজ পালন ও সৎকাজের আদেশের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি নবী-রাসূলদের জীবনের উদাহরণ টেনে বলেন, কোনো অবস্থাতেই অন্যায়ের কাছে মাথানত করা যাবে না। কষ্ট করে হলেও সত্যের পথে অটল থাকতে হবে। আল্লাহতায়ালার একত্ববাদকে স্বীকার করতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।

খতিব মানুষের জ্ঞানার্জানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জ্ঞান মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যায়। জ্ঞান সুসংবাদ বহন করে। মানুষকে আল্লাহতায়ালা তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এটা বুঝতে হলে- জ্ঞানার্জন করতে হবে।

তিনি নামাজ কায়েমের কথা বলেন। এ সময় তিনি জাকাত পরিপূর্ণভাবে আদায়ের জন্যও তাগাদা দেন। এসব ইবাদত মানুষকে আল্লাহর প্রিয়পাত্রে পরিণত করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রমজান মাসে রোজা রাখা ও হজ পালন অনেক ফজিলতপূর্ণ আমল।

খতিব ড. হুসাইন আশ শায়খ হজের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে কোরআনে কারিমের আয়াত ও হাদিসের বহু উদ্ধৃতি পাঠ করেন।

খুতবায় তিনি মানুষের চরিত্র গঠনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় বিষয়গুলো সন্নিবেশ করার কথা বলেন। তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। আমরা তার উম্মত। কিন্তু চরিত্রের দিক থেকে আমাদের অবস্থান অনেক অনেক নিচে। এটা লজ্জার। চরিত্র সবকিছুর মূল উল্লেখ করে তিনি বলেন, চরিত্রের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। ওয়াদা রক্ষা, মিথ্যা পরিহার, বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্যবহার, ছোটদের স্নেহ, বাবা-মার প্রতি দায়িত্বপালন, স্ত্রীর অধিকার, মালিক-শ্রমিকের সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো চরিত্রবানরাই পালন করেন।

চরিত্রবান সামাজিক অনাচার থেকে দূরে থাকেন। পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের মাঝে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে চরিত্রবান মানুষের কোনো বিকল্প নেই। এসব মানুষে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে কাউকে বিরত রাখার কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।

উপস্থিত হাজীদের সম্বোধন করে তিনি বলেন, দ্বীন ইসলাম হচ্ছে পারস্পরিক সম্পর্কের ধর্ম, দয়া-কল্যাণ ও ন্যায়ের ধর্ম। ধর্মের কথাগুলো অন্তর দিয়ে ধারণ করতে হবে, ধর্মের বাণী সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্মের নামে কোনো ধরনের ফেরকাবাজি, বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। বর্তমান বিশ্ব সন্ত্রাসের শিকার। কোথাও কোথাও ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে এটা ব্যাপকতাও লাভ করেছে। কিন্তু এগুলো সঠিক কাজ নয়। ইসলামের শিক্ষা নয়। যারা এ কাজ করছে, শয়তান তাদের পথভ্রষ্ট করেছে। তাদের সংশ্রব ত্যাগ করতে হবে।

বিশ্ববাসীকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের তাগাদা দিয়ে হজের খতিব বলেন, উম্মতকে বিভক্ত করবেন না, সত্য ও হকের কথা বলুন, মিথ্যা ও বাতিল পরিত্যাগ করুন। ইসলামের সৌন্দর্য বজায় রাখুন। কথায় আমানত রক্ষা করুন। যে কোনো ধরনের উসকানি, গুজব ও হট্টগোল সৃষ্টি করা থেকে দূরে থাকুন।

তিনি মুসলমানদের কথায়, কাজে ও আচরণে আল্লাহকে ভয় করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। সেইসঙ্গে বলেন, ধৈর্যের সঙ্গে সুসংবাদ, কল্যাণ ও উত্তম কিছু কামনার পরামর্শ দেন। জীবন থেকে নৈরাশ্য, হতাশা ও ব্যর্থতা মুছে ফেলার কথা বলেন। তিনি বলেন, মনে রাখবেন- আল্লাহর দ্বীন সাহায্যপ্রাপ্ত। আল্লাহতায়ালা তার দ্বীন, শহর ও বান্দাদের হেফাজত করবেন। সম্মান ও মর্যাদা আল্লাহ, তার রাসূল এবং মোমিনদের জন্য।

খুতবায় তিনি খাদেুমল হারামাইনের (সৌদি বাদশাহ) সার্বিক কল্যাণ কামনার পাশাপাশি বিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির দোয়া করেন।






Related News

Comments are Closed