Main Menu
শিরোনাম
সম্মেলন সফলে বাউল কল্যাণ সমিতির সভা         দুই বছরেও উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেনি         বিশ্বনাথে রুমি হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন         ওসমানীনগরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০         কমলগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তরুণীর মৃত্যু         বিয়ানীবাজারে অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু         শাহ্ আরফিনে টাস্কফোর্সের অভিযানে পে-লোডার জব্দ         সিলেটে অগ্নিকান্ডে ৫টি দোকান ও ৩টি ঘর ভস্মিভূত         তামাবিল স্থল বন্দরে প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন         সিকৃবিতে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত         ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু         সুরমা নদীতে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার        

রাগীব আলী ও তার ছেলের ১৪ বছরের সাজা বহাল

প্রকাশিত: ২:০১:৪২,অপরাহ্ন ১০ আগস্ট ২০১৮ | সংবাদটি ১৪৪ বার পঠিত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি করে তারাপুর চা বাগান দখলের মামলায় শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলের ১৪ বছরের কারাদন্ড বহাল রেখেছে সিলেটের বিশেষ দায়রা জজ আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাই এর বিরুদ্ধে এ রায় দেন বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক।

এর আগে ভূমি মন্ত্রনালয়ের স্মারক জ্বালিয়াতি করে তারাপুর চা বাগান দখলে নেয়ার অভিযোগে ২০০৫ সালে সিলেটের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার ভূমি এসএম আব্দুল কাদের। তদন্ত এবং বিচার শেষে এই মামলায় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারী সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো পাঁচটি ধারায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আব্দুল হাইকে ১৪ বছরের কারাদন্ড দেন। নিম্ন আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আসামীদের করা আপীলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (৯আগস্ট) সকালে বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে আপিল নিষ্পত্তি করেন বলে জানান পিপি এড. নওশাদ আহমদ।

তিনি জানান, আসামীরা উচ্চ আদালতের জামিনে থাকায় তাদেরকে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালতে আসামী পক্ষে মামলাটি শুনানী করেন সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট এটিএম মাসুদ ও এডভোকেট মঈনুল ইসলাম।

এই মামলায় বছরখানেক জেল খাটার পর বর্তমানে ছেলেসহ জামিনে আছেন রাগিব আলী।

প্রসঙ্গত, জালিয়াতি মামলার পাশাপাশি ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল সিলেটের তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের ঘটনায় আরো একটি মামলায় বিতর্কিত শিল্পপতি রাগীব আলীর বিভিন্ন ধারায় মোট ১৪ বছর কারাদণ্ড হয়। এ ছাড়া ১৬ বছর করে কারাদণ্ড হয় তাঁর ছেলে, মেয়ে, জামাতা ও এক নিকটাত্মীয়ের। তবে খালাস পান বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত।

উল্লেখ্য, তারাপুর চা বাগান পুরোটাই দেবোত্তর সম্পত্তি। ১৯৯০ সালে রাগীব আলী ও তাঁর স্বজনরা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে বাগানটি দখল করে। এ ঘটনায় তৎকালীন সময়ে সংসদীয় তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়। পরে ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেট সদর ভূমি কমিশনার এস এম আব্দুল কাদের রাগীব আলীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেন। মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় আসামি করা হয় রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আব্দুল হাইকে। আর চা বাগানের সম্পত্তি আত্মসাত সংক্রান্ত মামলায় আসামি করা হয় রাগীব আলী ও তাঁর ছেলে আব্দুল হাইসহ ছয়জনকে।

মামলার বিবরনে জানা যায়, সিলেটের হাজার কোটি টাকার তারাপুর চা বাগান দেবোত্তোর সম্পত্তি। জালিয়াতি ও প্রতারণা করে এই বাগান দখলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে রাগীব আলীর বিরুদ্ধে। এনিয়ে অভিযোগ ওঠার পর ১৯৯৯ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জালিয়াতির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তৎকালীন ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) এসএম আব্দুল কাদের। এছাড়া সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন তিনি।

মামলায় ৪২২ দশমিক ৯৬ একর জায়গায় গড়ে ওঠা সিলেটের দেবোত্তর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের জমি আত্মসাতের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক (চিঠি) জাল করার অভিযোগ আনা হয় রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। এই মামলার বিরুদ্ধে রাগীব আলী উচ্চ আদালতে গেলে দীর্ঘদিন পর ২০১৬ সালের শুরুতে তার নিষ্পত্তি হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি রাগীব আলীর বিরুদ্ধে মামলা পুনরায় চালুর নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে তারাপুর চা-বাগান দখল করে গড়ে ওঠা সব স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই আদেশের পর একই বছরের বছরের ১৫ মে চা-বাগানের বিভিন্ন স্থাপনা ছাড়াও ৩২৩ একর ভূমি সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্তকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।
মামলা হওয়ার ১১ বছর পর ২০১৬ সালের ১০ জুলাই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সিলেটের অতিরিক্ত সুপার সারোয়ার জাহান আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

ওই বছরের ১০ আগস্ট গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে রাগীব আলী ও তার একমাত্র ছেলে আবদুল হাই ওই দিনই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে সপরিবারে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর ১২ নভেম্বর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাগীব আলীর ছেলে আব্দুল হাইকে গ্রেপ্তার করে জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশ। আর ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ২৪ নভেম্বর ভারতে গ্রেপ্তার হন রাগীব আলী। ওই দিনই সিলেটের সুতারকান্দি সীমান্ত দিয়ে তাকে দেশে এনে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর শুরু হয় বিচার কার্যক্রম।

স্মারক জালিয়াতি মামলা ছাড়াও রাগীব আলী ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে তারাপুর চা বাগানের ভূমি আত্মসাতের আরেকটি মামলায়ও সাজা প্রদান করা হয়।






Related News

Comments are Closed