সর্বশেষ

ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করে লাভবান রাজ্জাক

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম । প্রকাশিতকাল : ১১:৪৬:১৮,অপরাহ্ন ১৬ জুলাই ২০১৮ | সংবাদটি ৭৫ বার পঠিত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করে লাভবান রাজ্জাকরায়হান আলম, নওগাঁ থেকে : নওগাঁর সাপাহার উপজেলার সফল ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির আম চাষী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি গত বছর প্রথম ২০ বিঘা জমিতে জেলার সবচেয়ে সুপরিচিত সুমিষ্ট আম রুপালিতে ফ্রুট ব্যাগিং করে বেশ লাভবান হওয়ায় এবারো একই জাতের ৪০ বিঘা জমির আমেতে ফ্রুট ব্যাগিং করেছেন। তার মতে, কীটনাশক, পোকামাকড়, বিরূপ আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমকে বাঁচাতে মূলত এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে সরকারিভাবে যদি এই ফ্রুট ব্যাগিং করার জন্য আম চাষীদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হতো তাহলে বিষমুক্ত সুস্বাদু আম দেশের জনগণ খেতে পারত এবং বিদেশেও রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যেত বলে আশা এই আম চাষী রাজ্জাকের।

আমের ২য় রাজধানী হিসেবে খ্যাত নওগাঁর বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পোরশা, সাপাহার, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা। এই কটি উপজেলায় উৎপাদিত আম রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জকেও ছাড়িয়েছে। কিন্তু রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আম চাষে অনেক পুরনো হওয়ায় দেশের প্রচার-প্রচারণায় আম চাষে নওগাঁর নাম এখনো তেমনভাবে সাড়া জাগাতে পারেনি। তবে বর্তমানে কৌশলী আম ব্যবসায়ীরা নওগাঁর আমকে রাজশাহী ও চাঁপাইয়ের বলে বেশি দামে বিক্রি করছেন। চলতি মৌসুমে নওগাঁর আমের প্রচার-প্রচারণার কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট উপজেলার কৃষি অফিসগুলো। নওগাঁয় আম চাষে গত বছর থেকে শুরু হয়েছে ফ্রুুট ব্যাগিং পদ্ধতি। আর এতে করে লাভবান হচ্ছেন শ’ শ’ কৃষক। তবে কৃষকরা ফ্রুট ব্যাগিং করে থাকেন এ জেলার সবচেয়ে সুপরিচিত সুমিষ্ট রসালো আম আম রুপালিতে। গত বছর ফ্রুট ব্যাগিংয়ের আম কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়েছিল, এবারো যাবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। এ আমের চাহিদাও রয়েছে বেশ, কারণ কীটনাশক ও রোগমুক্ত হয় এই আম।

আর কৃষি বিভাগ বলছে, এটি আধুনিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত আমে বিদেশে পাঠানোর জন্য যেসব গুণাগুণ প্রয়োজন তার সব গুণাগুণ বজায় থাকে। বিদেশে প্রচর পরিমাণে আম রফতানিতে শুধুমাত্র সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট। এটি নওগাঁর সাপাহারের ফ্রুট ব্যাগিং আম বাগানের দৃশ্য। গাছে গাছে ঝুলছে ব্যাগ, আর তার মধ্যেই সুরক্ষিত পুষ্ট আকর্ষণীয় আম রুপালি জাতের আম। এ পদ্ধতিকে বলা হয় ফ্রুট ব্যাগিং। বাইরের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়, বিরূপ আবহাওয়া কিংবা কোনো ক্ষতিকারক প্রভাবই এ ব্যাগের মধ্যে প্রবেশ করে আমের কোনো প্রকার ক্ষতি করতে পারে না।

উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, শুধু রাজ্জাক নয়- আগামীতে তার দেখে এ অঞ্চলের অনেকেই শুরু করবেন এই পদ্ধতিতে আম চাষ। ফ্রুট ব্যাগিং করার ফলে আম সব পোকা-মাকড় ও দুষণ থেকে রক্ষা পায় অর্থাৎ বিষমুক্ত আম উৎপাদিত হয়। তবে এই পদ্ধতি একটু ব্যয়বহুল হলেও আম বিক্রির লাভ তা পুষিয়ে দেয়। কারণ, এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত নির্ভেজাল আমের কদর ক্রেতাদের কাছে অনেক। ক্রেতারা একটু বেশি দামে হলেও এই বিষমুক্ত আম কেনেন। তাই অনেক আম চাষী উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এ পদ্ধতির দিকে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, এটি আধুনিক ও পরিবেশসম্মত পদ্ধতি। কৃষকদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সভা-সেমিনার করা হচ্ছে। ফ্রুট ব্যাগিং আম বিষমুক্ত আম হওয়ায় তারা বাজারমূল্য ভালো পাবেন। তবে এ পদ্ধতির উপকরণগুলোর মূল্য কম ও সহজলভ্য হলে এই পদ্ধতি দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। কারণ, বর্তমান ভেজালের যুগে নির্ভেজাল পণ্য খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। যেহেতু এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম বিষমুক্ত তাই বর্তমান সময় ও আগামীতেও এর কদর অটুট থাকবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, চলতি বছর নওগাঁ জেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৬ গুণ বেশি।






Related News

  • ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে আম চাষ করে লাভবান রাজ্জাক
  • ছাতক প্রাণী সম্পদ বিভাগে জনবল সংকট, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত
  • ভুট্টা চাষ করে বিশ্বনাথের তরুণের বাড়তি আয়
  • ছাতক ও দোয়ারাবাজারে লিচুর বাম্পার ফলন
  • গাছে গাছে লিচুতে নুয়ে আছে নোয়ারাই
  • ‘সিলেট অঞ্চল মাল্টা চাষাবাদের উপযোগী’
  • বিশ্বনাথে চার তরুণের কৃষিতে সফলতা
  • বিশ্বনাথে বিদেশি কবুতর পালনে আফজালের সাফল্য
  • Comments are Closed