Main Menu
শিরোনাম
সম্মেলন সফলে বাউল কল্যাণ সমিতির সভা         দুই বছরেও উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেনি         বিশ্বনাথে রুমি হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন         ওসমানীনগরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০         কমলগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তরুণীর মৃত্যু         বিয়ানীবাজারে অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু         শাহ্ আরফিনে টাস্কফোর্সের অভিযানে পে-লোডার জব্দ         সিলেটে অগ্নিকান্ডে ৫টি দোকান ও ৩টি ঘর ভস্মিভূত         তামাবিল স্থল বন্দরে প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন         সিকৃবিতে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত         ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু         সুরমা নদীতে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার        

ছাতক প্রাণী সম্পদ বিভাগে জনবল সংকট, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রকাশিত: ৬:৫৩:০৪,অপরাহ্ন ০৮ জুলাই ২০১৮ | সংবাদটি ১০৭ বার পঠিত

ছাতক প্রতিনিধি: ছাতক প্রাণী সম্পদ অফিসে প্রয়োজনীয় উপকরণ, ওষুধ, চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের কারণে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় ৮৫ হাজার পরিবারের হাঁস-মোরগ, গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া, কবুতর-কোয়েল খামারসহ অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণী। প্রাণী সম্পদ অফিসের দেয়া তথ্যে মতে, ১৩ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ছাতক উপজেলায় গরুর তালিকা ভুক্ত খামার ১৮টি । এছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে গড়ে উঠা ছোট-বড় মিলে আরো রয়েছে ৫৫-৬০টি খামার। ছাগলের খামার ৩টি, হাঁসের খামার ২০০টি ও মোরগের খামার রয়েছে ৩ শতাধিক। ছাতক উপজেলায় মোট গরু রয়েছে প্রায় ৩ লাখের অধিক, মহিষ ৬ হাজার, ছাগল ৭ হাজার, ভেড়া ৪ হাজার, হাঁস ২ লাখ, মোরগ ৩ লাখ, কবুতর ৪ হাজারসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু-পাখি রয়েছে আরো লক্ষাধিক।
সরকারি হিসেবে গৃহপালিত প্রাণীর সংখ্যা মোট ৭ লাখ ১৮ হাজার হলেও এরচেয়ে অনেক বেশী প্রাণী রয়েছে এ উপজেলায়। এ সব গবাদি পশু ও হাসঁ-মুরগীসহ গৃহপালিত প্রাণীকে সম্পদে পরিণত করতে সরকার প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। এর মাধ্যমে কৃষকদের গবাদি পশু ও খামারীদের পরামর্শ প্রদান, ওষুধ বিতরণসহ সরকার সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। সরকারের লক্ষ্য কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এতে দেশে ডিম, দুধ ও মাংসের চাহিদা পুরণ করে বিদেশে রফতানী করা সম্ভব হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় উপকরণ, জনবল, ওষুধ ও ডাক্তার সংকটে পিছিয়ে পড়েছে এখানের ডেইরী ও পোল্ট্রি খামারীসহ উৎপাদনকারিরা।
উপজেলার দোলারবাজার, জাউয়া, দক্ষিণ খুরমা, ভাঁতগাঁও, সিংচাপইড় ও ছৈলা-আফজালাবাদ ইউনিয়নের একাধিক খামারীরা জানান, তারা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আমেরিকান ব্রাহমা জাতের গরু উৎপাদন করতে আগ্রহী। কিন্তু এখানে কোন ভেটেরিনারী ডাক্তার না থাকায় এ সেবা ও লক্ষ্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
ইসলামপুর ও নোয়ারাই ইউনিয়নের খামারীরা বলেন, সুরমা নদী ও দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার ফলে পশু-পাখি নিয়ে হাসপাতালে আসা-যাওয়া কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। সদরে এসে ডাক্তার নিয়ে যাওয়া সময় সাপেক্ষের ব্যাপার। অনেক সময় দেখা গেছে ডাক্তার নিয়ে বাড়ি পৌঁছার আগেই পশু মারা যায়। এজন্যে তারা প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে পশু চিকিৎসক ও পরামর্শক নিয়োগের জন্যে সরকারের কাছে দাবি ও জানান।
ছাতক প্রাণী সম্পদ অফিসে বর্তমানে ১১টি পদের মধ্যে ৮ টি পদ দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। তিন জন কর্মকর্তা-কর্মচারি দিয়েই অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ১ জন, ভেটেরিনারী কম্পাউন্ডার ১জন, এফএএআই ১জন সহ ৩ জন কর্র্মকর্তা দায়িত্বরত থাকলেও ভেটেরিনারী সার্জন ১জন, ভিএফএ ৩জন, ইউএলএ ১জন, অফিস সহকারি ১জন, ড্রেসার ১জন, এমএলএসএস ১জনসহ অফিসের প্রধান ৮টি পদ শুন্য রয়েছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মাসুদ করিম সিদ্দিকী এ ব্যাপারে জানান, এখানে অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় বিপুল জনগোষ্ঠির প্রাণী সম্পদ চিকিৎসায় তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পৌরসভার নিজস্ব প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা না থাকায় পৌরবাসীকেও তারা অতিরিক্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধ বরাদ্দ কম ও আধুনিক যন্ত্র পাতির সংকট রয়েছে এখানে। ফিল্ড অফিসার না থাকায় ১৩ ইউনিয়নের বিশাল এলাকায় গিয়ে তাদের পশুর চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।






Related News

Comments are Closed