Main Menu
শিরোনাম
সম্মেলন সফলে বাউল কল্যাণ সমিতির সভা         দুই বছরেও উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিলেনি         বিশ্বনাথে রুমি হত্যাকারীর ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন         ওসমানীনগরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০         কমলগঞ্জে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তরুণীর মৃত্যু         বিয়ানীবাজারে অটোরিকশার ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু         শাহ্ আরফিনে টাস্কফোর্সের অভিযানে পে-লোডার জব্দ         সিলেটে অগ্নিকান্ডে ৫টি দোকান ও ৩টি ঘর ভস্মিভূত         তামাবিল স্থল বন্দরে প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন         সিকৃবিতে স্বয়ংক্রিয় কৃষি-আবহাওয়া স্টেশন স্থাপিত         ফেঞ্চুগঞ্জে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু         সুরমা নদীতে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার        

নন্দিতা-স্বর্ণার সাফল্য

প্রকাশিত: ১:৫৪:৫৫,অপরাহ্ন ৩০ মে ২০১৮ | সংবাদটি ১৯৪ বার পঠিত

ফয়সাল খলিলুর রহমান: সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০১৮। সারাদেশের বাঘা বাঘা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিল্পীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। গানে ও নাচে অন্যতম সেরা দুই প্রতিযোগী ছিলো সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নন্দিতা দাশ দিশা ও স্বর্ণা রায় শান্তা।

সুরের পাখী নন্দিতা :
বাবা স্বদেশ দাশ নিজেই গানের শিক্ষক। ছোটবেলায় যখন হবিগঞ্জ শহরের গানের ছাত্ররা বাবার কাছে গান শিখতে আসতো নন্দিতা তখন মাত্র কথা বলতে শিখেছে। এতোটুকুন মেয়ে কি আর গাইবে। গৃহিনী মা দিপালী রায় তাকে অন্য ঘরে নিয়ে যেতেন। যার রক্তে সুর ঢুকে আছে, তাকে কি আর অন্য ঘরে বন্দী রাখা যায়? ছোট হাতে মুরোদ নেই হারমোনিয়াম বাজানোর, তাই যন্ত্রের উপরে বসেই পে পু করতেন নন্দিতা। সেই যে শুরু আজ সে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সেরা গায়িকা। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় নজরুলগীতিতে হয়েছেন দ্বিতীয়, ভক্তি সংগীতে হয়েছেন তৃতীয়। নন্দিতার ঝুলিতে সাফল্যের শেষ নেই।

নন্দিতা দাশ
২০০৪ সালের নতুন কুঁড়ি অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীতে প্রথম হয়েছিলেন। জাতীয় শিশু পুরষ্কার প্রতিযোগিতা, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ, মৌসুমী প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্রসংগীত, লোকসংগীতে কয়েকবার সেরা হয়েছেন। জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন সঙ্গীত বিভাগে ১৪১৩ বঙ্গাব্দে ১ম মান এবং ১৪১৫ বঙ্গাব্দে ২য় মান অর্জন করেন। ২০১৫ সালের মিস্টার অ্যান্ড মিস সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গান বিভাগেও সেরা হয়েছিলেন নন্দিতা। বাবার পাশাপাশি নন্দিতার সংগীতগুরু ছিলেন দেশ বরেণ্য ওয়াহিদুল হক ও রেজওয়ান আলী। রবীন্দ্রসংগীত ও ক্ল্যাসিক্যালে তালিম আছে তার। বর্তমানে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের লেভেল ৪ সেমিস্টার ১ এ অধ্যয়ন করছে নন্দিতা।

সূর্যের মতোই উজ্জ্বল স্বর্ণা :
পিচ্চি হলেও স্বর্ণা রায় শান্তার গল্পটাও ছোট নয়। সদ্য সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে লেভেল ১ সেমিস্টার ১ এ ভর্তি হয়েছেন তিনি। চাকুরীজীবী বাবা সম্পদ চন্দ্র রায় ও গৃহিনী মা সোমা রায়ের তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় স্বর্ণা। ঘরের টিভিতে সামান্য মিউজিক বেজে উঠলেই স্বর্ণা হাত পা দুলাতেন। তাই মা সিদ্ধান্ত নিলেন, মেয়েকে তিনি নৃত্যশিল্পীই বানাবেন। চার বছর বয়স থেকে সিলেট নগরীর ‘সোপান’এ চার বছরের নাচের কোর্সে ভর্তি করিয়ে দেয়া হলো। ক্লাস সিক্সে যুক্ত হলেন সিলেটের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান নৃত্যশৈলীতে। নৃত্যগুরু নীলাঞ্জনা দাশ জুঁই এর সান্নিধ্যে প্রায় আট বছর নৃত্যের বিভিন্ন শাখায় প্রশিক্ষণ নিলেন। শুধু কি নাচে, পড়াশোনায়ও ভালো রেজাল্ট স্বর্ণার।

স্বর্ণা রায়
২০১৪ সালে ব্লু বার্ড স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫, ২০১৬ সালে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ অর্জন করেছেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন এই গুণী শিল্পী। জাতীয় শিশু কিশোর প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক রয়েছে স্বর্ণার। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণচূড়া সাংস্কৃতিক সংঘ কর্তৃক আয়োজিত সেরা প্রতিভাবান প্রতিযোগিতায় ২০১৮ সালে সারা ক্যাম্পাসে সেরা হয়েছেন স্বর্ণা। এবারের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় লোক নৃত্যে দ্বিতীয় এবং সাধারণ নৃত্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন তিনি।

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা :
নন্দিতা দাশ ও স্বর্ণা রায় ছাড়াও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরো একদল শিল্পী এবারের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাফল্য আসলেও তাদের যাত্রাটি অতো মসৃন ছিলো না। কারো চলছে ফাইনাল পরীক্ষা, কারো আবার ব্যবহারিক ক্লাসের গবেষণা। ট্যাকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যাকনিক্যাল চাপ সামলে শিল্পীদের প্রস্তুতি নিতে হয়েছিলো। সারাদিন ক্লাস করে হলের ছোট কক্ষে মহড়ার কোন জায়গা ছিলো না। এগিয়ে এলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রফেসর ড. মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডু। শিল্পীদের মহড়ার জন্য নিজের চেম্বার খুলে দিলেন। যারা গান গাইতো তাদেরকে উৎসাহ দেয়ার জন্য নিজেই তবলা বাজাতেন প্রফেসর কুন্ডু।

শিল্পীদের সার্বিক সহযোগিতায় আরো ছিলেন, মাইক্রোবায়োলজি ও ইমিউনোলজি বিভাগের সহকারী প্রফেসর ডা. মৌসুমী পুরকায়স্থ, প্যারাসাইটোলজি বিভাগের সহকারী প্রফেসর ডা. তিলক চন্দ্র নাথ, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান ও উন্নয়ন বিভাগের লেকচারার ঈশিতা দেব ইশন। প্রথম রাউন্ডে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে একটি প্রাথমিক বাছাই অনুষ্ঠিত হয় এবং চুড়ান্ত প্রতিযোগিতার জন্য শিল্পী নির্বাচন করা হয়। ঢাকা ও ময়মনসিংহে এর মূল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্বর্ণা রায়
মজার স্মৃতি জানতে চাইলে স্বর্ণা বলেন, “আমরা ছিলাম বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরিতে। সুযোগ পেলেই সবাই মিলে গানের আড্ডা দিতাম। তবলা প্রতিযোগী রাহুল দাদার জন্মদিনটা সেখানেই উদযাপন করি।”

প্রতিযোগিতায় বিচারকদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নন্দিতা বলেন, “আমার গানের প্রথম লাইন ছিলো মেঘমেদুর বরষায়। যখনি টান দিলাম বিশাল ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। মনে হচ্ছিলো গানটার প্রতিক্ষায় ছিলো প্রকৃতি। সব প্রতিযোগী একটি করে অন্তরা গাওয়ার নিয়ম থাকলেও আমার গানে মুগ্ধ হয়ে বিচারকবৃন্দ আমাকে পুরো গানটি গাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন।” গুণী দুই শিল্পীর ভবিষ্যত ইচ্ছাটাও চমৎকার।

নন্দিতা ইচ্ছা বাংলাদেশের সাবিনা ইয়াসমীন ও রূনা লায়লাসহ ভারতের পন্ডিত অজয় চক্রবর্তীর ও কৌশিকী চক্রবর্তীর সাহচর্যে গিয়ে সংগীতের ক্লাসিক্যাল ধারার চর্চা করা। স্বর্ণা আরো একধাপ এগিয়ে। ৬টা শাস্ত্রীয় নৃত্য রপ্ত করে নাচ নিয়ে তাত্ত্বিক গবেষণা করতে চান তিনি। স্বপ্নগুলো সাথে নিয়ে তারা এগিয়ে যাক সাফল্যের পথে।






Related News

Comments are Closed