Main Menu
শিরোনাম
সুনামগঞ্জ সফরে ভারতীয় হাই কমিশনার         বিশ্বনাথে মেছো বাঘ আটক         ছাতকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাথীদের বিদায়ী অনুষ্টান         জৈন্তাপুরে ট্রাক চাপায় শিশু নিহত, অাহত ৫         ছাতকে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু         লাউড় রাজ্যের রাজবাড়িতে প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের উৎখনন         সিলেটে মাজার জিয়ারতে স্পিকার শিরীন শারমিন         সুনামগঞ্জ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ’র পতাকা বৈঠক         জাফলংয়ে ভারতীয় তীর খেলার বইসহ আটক ২         কমলগঞ্জে চার খাবার হোটেলে জরিমানা         প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদকের মুক্তির দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন         হবিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে ডাকাতি        

সিলেটে বাড়ছে হিমায়িত খাদ্যের বাজার

প্রকাশিত: ৯:০০:৪৬,অপরাহ্ন ১৫ মে ২০১৮ | সংবাদটি ২৪৩ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন: ব্যস্ততম নগর জীবনে সকাল ও বিকেলের নাশতা তৈরির ঝামেলা থেকে বাঁচতে এখন অনেক বাসাতেই প্যাকেটজাত রুটি-পরোটা ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার বাসায় অতিথি এলে বা বিকেলের নাশতা হিসেবে পুরি, শিঙাড়া, চিকেন নাগেটের মতো খাবারের চাহিদাও এখন বেশ ভালো। কারণ, এসব খাবার এখন আর দীর্ঘ সময় নিয়ে হাতে তৈরি করতে হয় না। ফ্রিজ থেকে বের করে তেলে ভাজলেই হয়ে গেল। জীবনযাপনের পরিবর্তন ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমায়িত খাবারের প্রতি মানুষের নির্ভরতা তাই ক্রমেই বাড়ছে। এসব খাদ্যপণ্য আগে বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। এখন দেশেই বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। বাজার ধরতে এসব প্রতিষ্ঠান বেশ বড় অঙ্কের বিনিয়োগও করেছে এ খাতে। হিমায়িত খাদ্যপণ্য মূলত তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত। এগুলো হলো পরোটা, স্ন্যাকস ও মাংসের তৈরি খাদ্যপণ্য। মাংসের তৈরি খাদ্যপণ্যের বেশির ভাগই মুরগি থেকে তৈরি করা হচ্ছে। মাছের তৈরি খাবারের কিছু আইটেমও পাওয়া যায়। বাজারে সুপারশপগুলোতে বেশি বিক্রি হয় এসব ব্র্যান্ডের হিমায়িত খাদ্য। তবে এখন ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় অলিগলির বড় দোকানেও এসব হিমায়িত খাদ্য রাখছে। বিভিন্ন কোম্পানি এক প্যাকেট শিঙাড়া বা সমুচা সাধারণত ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করে। ২০টি পরোটার একটি প্যাকেট বিক্রি হয় ২৩০ থেকে ৩০০ টাকায়। চিকেন নাগেট, মিটবল, স্প্রিং রোল, চিকেন রোলের মতো আইটেমগুলো প্যাকেটের আকারভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। হিমায়িত খাদ্যের বাজারে এখন ১০টির বেশি কোম্পানি আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, লামিছা, ঝটপট প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, কাজী ফার্মস, প্যারাগন, ব্র্যাক চিকেন, আফতাব ফুডস, সিপি, রিচ ফুড, গোল্ডেন হারভেস্ট, এজি গ্রুপ ইত্যাদি।
এসব কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর এ বাজার গড়ে ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে।
দেশে ২০১১ সাল থেকে হিমায়িত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে আসছে লামিছা। এদের হিমায়িত খাদ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে পরোটা, আলু ও ডালপুরি, বিফ, শিঙাড়া, সমুচা, মিটবল, অনথন, চিকেন পপ, চিকেন নাগেটসসহ মুরগির মাংসের তৈরি নানা পদ। তাদের ৪০টি আইটেমের হিমায়িত খাদ্যপণ, এ ছাড়া মিষ্টি ও ঝাল স্বাদের চিকেন উইংস, চিকেন রোল, চিকেন এগ রোল, চিকেন স্ট্রিপস নামের নতুন কয়েকটি পণ্য স¤প্রতি বাজারে আনছে তারা। এসব খাদ্যপণ্য উৎপাদনের জন্য লামিছা ৯টি পণ্য উৎপাদন লাইন আছে।
কোম্পানিটির অপারেশন ম্যানেজার বাপ্পি বলেন, মানুষের ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে এখন অনেকেই তৈরি হিমায়িত খাদ্যের প্রতি ঝুঁকছেন। মানুষের নতুন এ চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই লামিছা গত কয়েক বছরে ঢাকা ছাড়াও দেশের সব বড় শহরে ব্যবসা স¤প্রসারণ করেছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ হিমায়িত খাদ্যের বাজারে এসেছে ২০১৩ সালে। প্রতিষ্ঠানটির হিমায়িত খাদ্যের ব্র্যান্ড-নাম ‘ঝটপট’। এ ব্র্যান্ডে তারা পরোটা, শিঙাড়া, সমুচা, রুটি, চিকেন স্প্রিং রোল, চিকেন নাগেট, চিকেন পেটি, চিকেন সসেজ, পুরি, পপকর্নসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছে। দেশের পাশাপাশি কয়েকটি দেশে এসব খাদ্যপণ্য রপ্তানিও করছে প্রাণ-আরএফএল।
কাজী ফুডস ইন্ডাস্ট্রিজ ২০১৪ সালে দেশের বাজারে হিমায়িত খাদ্যপণ্যের ব্যবসা শুরু করে। নিজস্ব খামারে উৎপাদিত মুরগির তৈরি বিভিন্ন আইটেমের পাশাপাশি টিজার্স, স্ট্রিপস, স্প্রিং রোল, নাগেটস, পরোটা, পুরি, সমুচা হালকা খাবারও বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের কাজী ফার্মস কিচেন আউটলেট নামের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র আছে। পাশাপাশি সুপারশপ ও সাধারণ মুদিদোকানে তাদের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
ইসলাম গ্রুপের আইজি ফুডস লিমিটেড রেডি শেফ ব্র্যান্ডের নামে হিমায়িত খাদ্যপণ্য স¤প্রতি বাজারে নিয়ে এসেছে। এই ব্র্যান্ডের মুরগির তৈরি চার রকমের পণ্য আছে প্রতিষ্ঠানটির। এর মধ্যে ফ্রাইড চিকেন, উইংস, নাগেট, মিটবল, ড্রামস্টিকের মতো মুরগি থেকে প্রস্তুত খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব খামারে উৎপাদিত হিমায়িত ব্রয়লার মুরগির মাংস বাজারে বিক্রি হচ্ছে। শুধু মুরগির মাংসের তৈরি বিভিন্ন হিমায়িত খাদ্যপণ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি বা অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে বিক্রি করে সিপি। সিপির তৈরি চিকেন বল, ফ্রাইড চিকেন, চিকেন ললিপপ, চিকেন পেটি, চিলি নাগেটস ও রেগুলার নাগেটস বেশ জনপ্রিয় বাজারে। ঢাকার অনেক পাড়া-মহল্লায় সিপির ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এসব খাবার ভেজে বিক্রি করা হয়। সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার মধ্যে সিপির এসব খাদ্যপণ্য কিনতে পাওয়া যায়। এ বছর ৪০টি আইটেমের হিমায়িত খাদ্যপণ্য নিয়ে বাজারে এসেছে প্যারাগন গ্রæপ। এর মধ্যে মুরগির তৈরি চিকেন আইটেম আছে ২৫টি। আর পরোটা, সমুচা, শিঙাড়া, চিকেন রোল, ভেজিটেবল রোলসহ ১৫ রকমের স্ন্যাকস আইটেম বাজারজাত করছে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন সুপারশপ ও বড়– দোকানে পাওয়া গেলেও শিগগির অন্য শহরে পণ্য বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
এ ধরনের হিমায়িত খাদ্য মূলত শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা পছন্দ করেন। তাঁদের আগ্রহের কারণে পরিবারে অভিভাবকদের সেগুলো কিনতে হয়। আবার যাঁদের সকাল-বিকেল নাশতা বানানোর সময় নেই, তাঁদের কাছে এসব খাবার খুবই জনপ্রিয়। বাচ্চাদের স্কুলের টিফিন হিসেবেও এসব পণ্য জনপ্রিয়।
খোজ নিয়ে জানা গেছে , ছোটরা এসব খাবার খেতে চায়। কিন্তু রাস্তার পাশের খাবার স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সেগুলো পোড়া তেলে ভাজা হয়। দোকান থেকে কিনে এনে বাসায় ভেজে খাওয়ালে সে ঝুঁকি নেই।
লামিছা গ্রুপের পরিচালক তাসিউর রহমান বলেছেন, ব্যস্ততম জীবনে অনেকেই বাসায় রান্না করার সময় পান না। ফলে তাঁদের বাজার থেকে প্রস্তুত করা হিমায়িত খাদ্যই নিয়ে যেতে হয় বাসায়। এভাবে হিমায়িত খাদ্য বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রায় অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া মৌসুম ছাড়া যেসব ফলফলাদি বা খাবার পাওয়া যায় না, তাও সবসময় পাওয়ার নির্ভরতা তৈরি করছে হিমায়িত খাদ্য। বর্তমানে বাংলাদেশে কর্মজীবী সংখ্যা বাড়ছে, যাঁরা হিমায়িত খাদ্যে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। বেশির ভাগ কর্মজীবী নারীর পক্ষেই বাসায় গিয়ে রান্না করা সম্ভব হয় না। তাঁরা অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে দোকান থেকে হিমায়িত খাদ্য নিয়ে যান। কিংবা একসঙ্গে কিনে বাসায় ফ্রিজে জমিয়ে রাখেন।






Comments are Closed