সর্বশেষ
সিলেটে বৈধ ১২টি হাটে পশু বেচাকেনা         বিশ্বনাথে ২২টি গরু চুরির ঘটনায় মামলা         সিলেটে পিকআপ উল্টে চালক ও হেলপারের মৃত্যু         বিশ্বনাথে কুরবানির পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা কম         ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তি, প্রবাসী গ্রেফতার         গোলাপগঞ্জে ব্যবসা প্রতিষ্টানে চুরি, ১০ লক্ষ টাকার মাল লুট         ছাতকে তিন সন্তানের জননীর আত্মহত্যা         জকিগঞ্জে স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানী, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ         হবিগঞ্জ পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু         ফেইসবুকে অশ্লীল ছবি প্রকাশ, ৩ বখাটে জেলে         শ্রীমঙ্গলে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজী, আতংকে মানুষ         বন্যায় ভেঙ্গে গেছে বালাগঞ্জের আজিজপুর সড়ক        

আহা বৈশাখ!

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম । প্রকাশিতকাল : ১০:১৪:৫৮,অপরাহ্ন ১২ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ২২৪ বার পঠিত

এমজেএইচ জামিল: আমি হাওরপাড়ের সন্তান। এবং গ্রামের কৃষকের ছেলে এটা গর্ব করেই বলি। আজো পুরোপুরি মনে আছে এসএসসি পাশ করে গ্রাম থেকে যখন সিলেট শহরে এসে এইচএসসিতে ভর্তি হই তখন আমাদের বেশভুষা এবং কথা বলার ভঙ্গি দেখে অনেকেই মজা করতো। শহরের বন্ধু ও সহপাঠিরা আমাদেরকে মনে করতো যেন আমরা হাওর থেকে উঠে এসেছি, যেনো গেয়ো ভুত। তখন কখনোই মন খারাপ করিনি এই ভেবে যে আমার লক্ষ্য বহুদুরে। এইদিকে নজর দিলে লক্ষ্যে পৌছা সম্ভব হবেনা। তাই তখন ক্ষনিকের জন্য হলেও মন খারাপ করিনি। জীবনের এই বেলায় এসে হয়তো বড় কোন চাকরি কপালে জুটেনি। হয়তো কাড়ি কাড়ি টাকা কামাতে পারিনি। তবে একদিক থেকে সফল হয়েছি যে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পোষ্ট গ্র্যাড্যুয়েট ডিগ্রি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আর এটাই ছিল গ্রাম থেকে শহরে আসার প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আমি সফল। আলহামদুলিল্লাহ। কলেজ জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করার কোন ইচ্ছা আমার নেই। লেখার ইচ্ছা বৈশাখ নিয়ে।
এপ্রিল মাস প্রবেশ করতে না করতেই দেশব্যাপী শুরু হয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড়। এতে কেউ কেউ মারা যাওয়ার খবরও মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। আর ক্ষয়ক্ষতির পরিনাম হয়তো নাই বললাম। তবে সবচেয়ে কষ্ট পেলাম তখন যখন দেখলাম আকাশ থেকে শীলাবৃষ্টি ঝরছে। তখন মনে হয়েছিল এই শীলাবৃষ্টি যেন প্রতিটা কৃষক পরিবারের সদস্যের বুকে আছড়ে পড়ছে। কারণ পর পর দুইবার কষ্ঠের ফসল হারিয়ে হাওরপাড়ের বিশাল জনগোষ্ঠী নিরব দুর্ভিক্ষের দুর্দিন পার করছে। বাহির থেকে তাদের সুখী মনে হলেও মনের ভিতরে জমা রয়েছে কষ্ঠের পাহাড়। তা হয়তো কেউ দেখবে না। আর হয় তো সহযোগিতা করতে হবে এমনটা মনে করে জানতেও চাইবেনা। তবুও বেচে আছে হাওরপাড়ের মানুষ। আশায় বুক বেধেছে এবছর অন্তত কষ্ঠের ফসলটা ঘরে তুলতে পারবে। এলাকায় এলাকায় মসজিদে মসজিদে এবং বাড়ীতে বাড়ীতে ওয়াজ মাহফিল, তাফসীর মাহফিল, শিরনী-সালাত করে সবাই মোনাজাত করছে এবার যেন আল্লাহ পাক তাঁর কুদরতি শক্তি দিয়ে হাওরপাড় বাসীর কষ্ঠের সোনালী ধান গোলায় তোলার তওফিক দেন। আমীন।
এপ্রিল মাস আসতে না আসতেই ফেইসবুকের ম্যাসেঞ্জারে খুব বিরক্তির সহিত লক্ষ্য করলাম কতিপয় বন্ধু নতুন বছর অর্থাৎ বাংলা নববর্ষের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। নানা রং-ঢং এর ম্যাসেজ দিয়ে তারা নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরকারী হিসেবে ১৪ এপ্রিল বৈশাখের প্রথম দিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ। সেদিন সরকারী ছুটি থাকে। প্রশাসনের নির্দেশে সরকারী অর্থে দেশব্যাপী আয়োজন হবে নানা উৎসবের। ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে এর প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। নানা রং-বেরংয়ের কাপড় পড়ে অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে আবাল বৃদ্ধ-বনিতা সেদিন মেতে উঠবে বাঙ্গালিয়ানা উৎসবে। একদিনের বাঙ্গালী সাজার উৎসবে সেদিন বিদেশীরাও লজ্জা পাবে। হার মানবে কথিত নোংরা পশ্চিমা সংস্কৃতিও। বিগত বছরে নববর্ষের দিনে অনেক মেয়ের ইজ্জত হরনের খবরও মিডিয়ায় এসেছে। বৈশাখের ১ম দিনে দেখা যাবে যারা প্রতিদিন বিপুল পরিমান খাবার ডাস্টবিনে ফেলে তারাই আবার পান্তা ভাত আর ইলিয়াস মাছ খেয়ে মজা করছে। এটা অবশ্য আমার কাছে মনে হয় গোটা কৃষক সমাজের সাথে ফাইজলামির শামিল। কৃষকের নতুন ধান তোলার সাথে যদি বৈশাখের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত থাকে তাহলে ধান উঠার আগেই কেন এই উন্মাদনা। এটা কি কৃষকের সাথে উপহাস নয়। এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের কাছে করতেই পারি। গেল বছর কথিত বৈশাখী উৎসব হয়েছে ঠিকই কিন্তু অকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় কৃষকের কষ্ঠের সোনালী ফসল বোরো ধান। আমার কাছে বৈশাখ উদযাপন কারি আর কৃষকদের বর্তমান অবস্থানকে অনেকটা ঈষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী আর শোষিত বাঙ্গালীদের মতো মনে হয়। এক পক্ষ উপহাস করবে আর অপর পক্ষ সোনার ফসল হারিয়ে কপালে হাত দিয়ে বসে থাকবে।
যে ছবিটি দিয়ে এই লেখা এই ছবিটি ইন্টারনেট জগত থেকে সংগ্রহ করা। এর ঘটনাটা এমন যে, একজন কৃষক ক্ষেতে কাজ করা কালিন সময়ে হঠাৎ বজ্রপাতে মারা যান। কৃষক অকাল ও আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই সমবেদনা ও সহমর্মিতা মুলক পোষ্ট করেছেন। কিন্তু প্রকৃত রহস্য হলো শেষ বিদায়ের বেশটা। কৃষক মৃত্যুর অন্তিম মুহুর্তে তার বুকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে কষ্ঠের ধানের চারা। ছবিটির দিকে ভালো করে তাকালে মনে হবে নিজের কষ্ঠের সোনার ফসল রক্ষা করতে ঐ কৃষক প্রতিপক্ষের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শেষ পর্যন্ত ধানের চারাকে নিজের পতাকা মনে করে জড়িয়ে ধরে পৃথিবীকে বিদায় জানাচ্ছে। শেষ বিদায়ে এই কৃষক বীরের চিৎকার ছিল এটাই- যে আমার কষ্টের ধান যদি গোলায় তুলতে না পারি কি হবে এই পৃথিবীতে বেচে থেকে। আসল কথা হলো বৈশাখের যন্ত্রনা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ জানেনা। তোমার জন্য দোয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা হে বীর কৃষক। আমাদের অক্ষমতাকে ক্ষমা করো। কথা দিলাম যতই শিক্ষিত হই। যতই কোটিপতি হই। কোনদিন নিজেকে কৃষকের সন্তান পরিচয় দিতে মোটেও লজ্জাবোধ করবোনা। আর যারা তোমাদের সাথে, কৃষকের সাথে উপহাস করবে। কৃষকের সন্তান হয়ে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করবে তাদের প্রতি থাকবে অৎ¯্র ঘৃনা। স্যালুট হে বিপ্লবী কৃষক। তুমিই হাওরপাড়বাসীর প্রকৃত কমরেড।

লেখক: সাংবাদিক, সংগঠক ও মানবাধিকার কর্মী।






Comments are Closed