Main Menu
শিরোনাম
‘অসমাপ্ত উন্নয়ন সমাপ্ত করতে নৌকা মার্কায় ভোট দিন’         সিলেট-২ আসনে প্রার্থীতা ফিরে পেলেন মুহিবুর রহমান         সিকৃবিতে শোকর‌্যালি ও আলোক প্রজ্জ্বলন         ধানের শীষে ভোট দিয়ে দুঃশাসনের জবাব দিন: শফি চৌধুরী         বিশ্বনাথে বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে প্রশাসনের শ্রদ্ধাঞ্জলি         সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল হান্নানের ইন্তেকাল         দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রশাসনের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন         ইলিয়াসপত্নী লুনার প্রার্থীতা স্থগিতে এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া         ৯৯৯-এ কল; মধ্যরাতে অসুস্থ দুই নারীর প্রতি পুলিশের মানবিকতা!         ‘মানুষ লুটপাটকারীদের মিথ্যা আশ্বাসে আর বিভ্রান্ত হবেনা’         বিশ্বনাথে হঠাৎ থেমে গেল নির্বাচনী আমেজ!         সুনামগঞ্জে পরিযায়ী পাখি বিক্রেতাকে ৪ মাসের দন্ড        

কেন কোটা পদ্ধতি সংস্কার জরুরি?

প্রকাশিত: ১২:০৭:০৯,অপরাহ্ন ০৯ এপ্রিল ২০১৮ | সংবাদটি ২২৬ বার পঠিত

মোঃ হাসান বখস : কোটা হচ্ছে একটি সংরক্ষিত পদ্ধতি কিংবা সিস্টেম যেখানে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সমগ্র দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, ব্যবসা বাণিজ্য এবং অন্যান্য যে কোন সেক্টরে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ প্রদান করা হয়। কিছু কিছু সেক্টরে বৈষম্য রোধ করার জন্য কোটা সিস্টেম দেওয়া হয়ে থাকে রাষ্ট্র কর্তৃক এবং সেটা অবশ্যই রাষ্ট্রের মঙ্গলের জন্যই। পাশাপাশি কোটা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই প্রদান করা হয়ে থাকে এবং যে বিষয়ে কোটা প্রদান করা হয়ে থাকে সেটা থেকে ঐ গ্রুপ কিংবা যাদের জন্য কোটা দেওয়া হয়েছে তারা যদি পরবর্তীতে ইতিবাচকতায় চলে আসে তখন কোটা সিস্টেম প্রত্যাহার করা হয় তথা সংস্কার করা হয় এবং এটাই বাইরের দেশে হয়ে থাকে।
পৃথিবীতে শুধুই আমরা করছি না কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলন, অনেক দেশে কোটার বিরুদ্ধে লিগ্যাল স্যুট পর্যন্ত হয়েছে। আমেরিকার মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, রিডা, নেব্রাস্কা, অ্যারিজোনা, ওয়াশিংটন, ওকলাহোমা, নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, টেক্সাসে রেসিয়াল কোটা নিষিদ্ধ পর্যন্ত করেছে। আমেরিকায় কোটাধারীরাও কোটার বিরুদ্ধে দাঁডিয়েছিল কারণ তাদের অভিযোগ কোটায় ভর্তি হওয়ায় তাদেরকে সবাই ভিন্ন ভাবে দেখে। এইরকম বহু ছাত্র ছাত্রী কোটা সুবিধা বাতিলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছিল।

‘কাজীর গরু কিতাবে আছে , গোয়ালে নাই’ বাংলা প্রবাদটির অর্থ- হিসাবের খাতায় থাকলেও বাস্তবে নেই। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রচলিত কোটা পদ্ধতির ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি মিলে যায়। চলুন দেখে নেয়া যাক কেন ?
প্রচলিত কোটা পদ্ধতির কিতাবি হিসাব :
সাধারণ মেধায় মাত্র ৪৪% আর মোট কোটা-৫৬% । সেগুলো হল :
১। মুক্তিযোদ্ধা -৩০%
২। নারী-১০%
৩। জেলা -১০%
৪। উপজাতি -৫%
৫। প্রতিবন্ধী -১%

গত দশবছরে সরকারি চাকরিতে কোটার বাস্তব চিত্র
১। মুক্তিযোদ্ধা – পাওয়া যায় মাত্র ৫-৬%
২। উপজাতি – পাওয়া যায় মাত্র ১-২%
৩। প্রতিবন্ধী কখনো পাওয়া যায়, কখনো একেবারেই না ।
৪। জেলা কোটা : অধিকাংশ সময় জেলা কোটাও পূরণ হয় না । জেলা কোটা প্রয়োগ জটিল প্রক্রিয়া।
৫। নারী কোটা : এটিত অনেক সময় জোর করে ইমপোজ করা হয় । কারণ যেসব নারীরা বিসিএস ভাইভা পর্যন্ত যায় তারা নিজের যোগ্যতায় যায়। তাদের মেধার ভিত অনেক শক্ত । নারী হলেই কোটা পাবেন তা নয় । এই নারী কোটা আবার জেলা ভিত্তিক বণ্টন করা হয় । ফলে সুনির্দিষ্ট জেলার নারী না পাওয়ায় অনেক সময়ই ফাঁকা থেকে যায় । আবার কখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়া কর্মকর্তা যা করেন তাই হয়। ফলে প্রকৃত নারীরা সুবিধা পান না ।

মোট কথা , বিসিএস নিয়োগে ১০-১২%এর বেশি কখনোই পূরণ হয়না । ফলে বিসিএস কোটার শুন্য পদ গুলো মেধাবীদের না দেওয়ায় এখন প্রায় ৫ হাজার পদ খালি রয়েছে! অথচ মেধাবীরা চাকরি না পেয়ে মানবেতর জীবন- যাপন করে সমাজের চক্ষুশূল ও অনগ্রসর গোষ্ঠীতে পরিণত হচ্ছে । যে কোটা পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীকে উত্তরণের জন্য ব্যবহৃত হয় , সেই কোটায় আবার সমাজে আরেকটি বড় পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠী তৈরি করছে।

দেশের ৯০% ক্ষমতা – সম্পদ ১০% মানুষের হাতে জিম্মি । আমলার সন্তান আমলাই হচ্ছে , আর কামলার সন্তান কামলা , বড় জোর কেরানি গিরি করছে। ধনী আরো ধনী হচ্ছে , গরীব আরো গরীব হচ্ছে।

তাহলে ৫৬% কোটা কিতাবে রেখে লাভ কি যদি প্রয়োগের সময় না পাওয়া যায় ? এটির অবশ্যই সংস্কার করা উচিত কিনা ?

এখন আসি কিভাবে সংস্কার করা যায়

১। মুক্তিযোদ্ধা কোটা:
এটি কোটা হিসেবে এমন সময় প্রবর্তন করা হয়েছিল যখন অনেক মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করতে গিয়ে সহায়- সম্পত্তি সব হারিয়েছিলেন । তাই তাঁদের উত্তরণের জন্য এটি প্রয়োজন ছিল । কিন্তু বর্তমানে এটিকে কোটা হিসেবে ধরা যাবে না , এটি এখন একটি পুরস্কার । তাঁরা সবোর্চ্চ ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন , জাতির গৌরব, অহংকার , তাই পুরস্কার পেতেই পারেন এবং তা যে শুধু সরকারি চাকরি দিয়েই দায় শেষ হবে তা নয় , সেটি বিভিন্ন ভাবেই হতে পারে ।এজন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ -সুবিধাও দিয়েছেন , প্রয়োজন অনুযায়ী আরো দেওয়া দরকার । আমার মনে হয় তাঁদের আরো সুযোগ সুবিধা দেওয়া দরকার যাতে সুখে – শান্তিতে বসবাস করে হাসিমুখে মরতে পারে। এটি তাঁদের প্রাপ্য ।

দেশে বর্তমানে ২.৩১ লাখ মুক্তিযোদ্ধা । আরো ১.৫ লাখ আবেদন পড়েছে। বছর বছর ক্রমবর্ধমান। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা স্বীকৃতি পাক এটি সবাই চায় । কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় মুক্তিযোদ্ধার সনদ থাকলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় বলে এই সনদ এখন কেনা- বেচা পর্যায়ে চলে গেছে । যার জ্বলন্ত উদাহরণ চার জন সচিবের মুক্তিযোদ্ধা সনদ জাল প্রমাণিত হওয়া । তাদের মধ্যে আবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিবও রয়েছেন। তাহলে বোঝেন সনদ নিয়ে কী ধরনের জালিয়াতি হয়েছে সেখানে ! মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ঢুকে পড়েছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি । তাইত শোনা যায় অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এই সনদকে ছিঁড়ে ফেলেছেন , নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিতে বিব্রতবোধ করেন । বলেন , ” মুক্তিযুদ্ধ যে করেছি সেটি সনদ দিয়ে দেখাতে হবে কেন ? বুকে যে চেতনা নিয়ে যুদ্ধ করেছি সেটি ধারণ করে মর্যদা – সম্মান নিয়ে সমাজে বাঁচতে চাই ! ” কোনো সুযোগ – সুবিধা তাঁদের এই বীরত্বের বিনিময় হতে পারে না । এমন মুক্তিযোদ্ধার জন্যই তো আমাদের মাথাটা শ্রদ্ধায় নিচু হয়ে , গেয়ে উঠি .. “আমরা তোমাদের ভুলবনা …।”
মুক্তিযোদ্ধা নির্ধারণে বয়স ১২.৫ বছর করা হয়েছে । অতএব , একজন কনিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধার বয়স এখন ৫৭ বছর , কিছু দিন আগে নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন ,”আর ২০ বছর পর কোন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকবেন না । বয়সের ভারে সবাই ওপারে যাবেন । ”
তাই জরিপ হওয়া দরকার এই বয়সে কতজন মুক্তিযোদ্ধার ১ম শ্রেণির চাকরি পাওয়ার মতো বয়সী / যোগ্য সন্তান রয়েছে । সেই অনুপাতে ব্যবস্থা নিতে । শুধু হিসেবের খাতায় রেখে দেশের ক্ষতি করা ঠিক হবে কি?

দীর্ঘদিন এই কোটা দেওয়ায় এর মূল্যায়ন হওয়া দরকার যে , কোন ধরনের মুক্তিযোদ্ধা এই সুবিধা পাচ্ছে ? বাস্তব চিত্র হচ্ছে , স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা আরো উপরে যাচ্ছেন , আর দরিদ্র , যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা আরো দরিদ্র হচ্ছে কারণ তাঁরা তাদের সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে না । অন্যদিকে স্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা এমনকি সচিব পর্যায়ের মতো মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যারা বিলাস বহুল জীবন- যাপন করে , নামী -দামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে একাধিকবার এইসুবিধা নিচ্ছে । শুধু তাই নয় , একজন একাধিক বার বিসিএসের ১ম চয়েসের মতো চাকরি পরিবর্তন করছে । আর দরিদ্র মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা একটিও পাচ্ছে না । ফলে এটি মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যেও বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

তাই এই কোটা কোন ধরনের মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের এই সুবিধা দেওয়া হবে সেটি সংজ্ঞায়িত হওয়া প্রয়োজন । আর গণহারে নাতি – পুতি কোটা উঠিয়ে দিয়ে শুধু যেসব মুক্তিযোদ্ধার কোন সন্তান বর্তমানে নেই শুধু নাতি-পুতি রয়েছে তাদের চিহ্নিত করতে হবে ।
তারপর নির্ধারণ করা হবে কত % দিতে হবে । এতে যদি ৩০% এর বেশিও দিতে হয় আমি দিতে রাজি আছি কিন্তু বাস্তব চিত্র হলো এই সংখ্যা ৫-৮%কোনো ভাবেই অতিক্রম করবে না । আবেগে জীবন চলে না ,বাস্তবতা মানতে হবে । শুধু হিসাবে মোটা অঙ্ক রাখা অনর্থক । এতে দেশকে অনেক পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে । বাড়ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ।
অধিকন্তু, অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাও চান এই কোটা পদ্ধতির সংস্কার হোক।

সব মিলিয়ে বলা যায় , মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতির প্রয়োগ ও ফল ভোগীর যথাযথ জরিপ ও মূল্যায়ন করে গ্রহণযোগ্য মাত্রায় আরো কিছু সময় রাখা যেতে পারে , তবে নিদির্ষ্ট সময় পর পর মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় মাত্রা ঠিক করে ৩০% এর গৎ বাঁধা নিয়ম থেকে সরে আসতে হবে এবং সকল মুক্তিযোদ্ধা যাতে সুযোগ পায় সেজন্য একবারের বেশি কোটা নয় নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ এটি সংস্কার করতে হবে ।

২। জেলা কোটা :
এটি উঠিয়ে দেওয়া আবশ্যক । এটি প্রয়োগের সময় বড়ই ঝামেলায় ফেলে দেয়। যারা পাওয়ার যোগ্য তারা পায় না । এর পরিবর্তে বিশ্বব্যাংকের দারিদ্র্য জরিপ অনুযায়ী রংপুর , কুড়িগ্রাম সহ দেশের কয়েকটি জেলার সুনির্দিষ্ট উপজেলায় দারিদ্র্য যেখানে প্রকট সেগুলোতে কোটা দিতে হবে । এখন এই উপজেলাগুলোর কাকে কোটা দিবেন ? নিশ্চয় ক্ষমতাবান , স্বচ্ছলদের সন্তানকে নয় । একেবারেই দরিদ্র সন্তানদের । আর টি ১-২% এর বেশি নয় ।

৩।উপজাতি কোটা :
প্রচলিত কোটা ব্যবস্থায় এদের জন্য ৫% রাখা হলেও বাস্তবে কখনো ১%ও পাওয়া যায় না । দেশে ৪৫টি উপজাতি/ ক্ষুদ্র নৃ – গোষ্ঠী থাকলেও প্রধান ৩-৪ গোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত পাওয়া যায় । মাত্র ৩-৪ টি গোষ্ঠীর জন্য ৫% কোটা দেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক । তাই এটি তাই সংস্কার জরুরী ।
আর সেটি অবশ্যই ১% করা যেতে ।
৪।নারী কোটা:
নারী কোটা দেওয়া হয়েছে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য , উন্নয়নের জন্য নয় । দেশের নীতি – নির্ধারণে নারীরাও থাকুক এই ধারণা থেকে রাষ্ট্র নারী কোটা চালু করেছে। কিন্তু যখন এটি গ্রহণ করা হয়েছিল তখন নারীরা সমাজে অনেক পিছিয়ে ছিল । এখন সবক্ষেত্রে নারীর দৃপ্ত পদচারণা । প্রাইমারি ইনরোলমেন্ট থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে । দেশের সব পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্টে নারীরা এগিয়ে । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের ফলাফলে ১ম দশের জনের মধ্যে কমপক্ষে ৫-৬ জন নারীই থাকে, মজার বিষয় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীই ১ম স্থান করছে।
আর বিসিএসের ভাইভায় যে নারী যেতে পারে তাঁর ক্যাডার পাওয়ার জন্য কোনো কোটা দরকার হয় না , তিনি নিজের যোগ্যতায় অন্যন্যা। তবে পুলিশ বিভাগে নারী যথেষ্ট পরিমাণ না থাকায় সেখানে অনেক আপত্তিকর অবস্থায় পড়তে হয় ।তাই শুধু সেখানে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কোটা দেওয়া যেতে পারে ।কাংকিত সংখ্যা অর্জন হলে বাদ দিতে হবে ।
মোট কথা, এখন বিশ্বের সকল দেশের সংবিধানে নারীদের জন্য কিছু পরিমাণ হলেও রাখতেছে । আমরাও অল্প পরিমাণ ৪-৫% রাখতে পারি । এখন প্রশ্ন এই ৫ % কাকে দিব ? সেটিকে সংঙ্গায়িক করতে হবে। নিশ্চয়ই সচিবদের মেয়েকে নয় । পারিবারিক স্ট্যাটাস অনুযায়ী প্রান্তিক কৃষক- নিম্ন মধ্যবিত্তদের দেওয়া যেতে পারে ।

৫। প্রতিবন্ধী কোটা
এটি অপশনাল কোটা । অধিকাংশ সময়েই বিসিএস ভাইভায় পাওয়া যায় না । কেউ যদি যায় তাহলে তাঁর সক্ষমতা অনুযায়ী চাকরির দেওয়া উচিত । তাই এটি অলিখিত কোটা বললেও বলা যেতে পারে।

সুতরাং , দেশের উন্নয়নের প্রয়োজনে কোটা ব্যবস্থাকে ডাইনামিক করা প্রয়োজন । গৎবাঁধা নিয়ম দেখিয়ে সমাজকে , দেশকে পিছিয়ে দেওয়া ঠিক না । অধিকন্তু, কোটায় প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে যোগ্যদের চাকরি দিতে হবে ।তাহলে কোটার কারণে কেউ বঞ্চিত হবে না । আর কোটার লক্ষ্য নির্ধারণ ও সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে ও মূল্যায়ন করে পুন: নির্ধারণ করতে হবে ।
বাংলাদেশের পবিত্র রক্ষাকবচ হচ্ছে সংবিধান।সংবিধান এর আলোকেই বাংলাদেশ পরিচালিত হয়ে আসছে। জাতীয় কোন সংকট তৈরি হলে আমরা সংবিধান ও সংবিধান বিশেষজ্ঞের স্মরণাপ্ন্ন হই। বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নং ধারার ১ ও ২ নং অুনচ্ছেদে স্পষ্টত উল্লেখ রয়েছে: বাংলাদেশের নাগরিকগণ সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ লাভ করবে যেখানে লিঙ্গ, ধর্ম, বিশ্বাস, গোত্র, বর্ণ, প্রথা কোনরূপ প্রভাব ফেলতে পারবে না। তাহলে সরকারি চাকরিতে যে কোটার প্রথা এখনো বলবৎ রয়েছে তা কি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়? অবশ্যই সাংঘর্ষিক। অতি দ্রুত এহেন অবস্থা পরিবর্তনের স্বার্থে তড়িৎগতিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি এও বলা রয়েছে: শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতার কৌশল ও পরিচালনায় নিয়োগে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এরকমটিই সকলেই প্রত্যাশা করে থাকে। কাজেই সংবিধানের আলোকে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার অবশ্যাম্ভাবী।

সর্বোপরি, কোটা হল বিশেষ সুবিধা । এর অপর নাম সমতায় ফেরা । কিন্তু প্রচলিত কোটা সমাজের একটি বিরাট অংশকে অসমতায় ফেলে দিচ্ছে । কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দিলে মাঝে মাঝে সেটির মূল্যায়ন করা অত্যাবশক এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় । অতএব, কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবী যে যৌক্তিক তা মেনে নিতে হবে ও সংস্কারে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে ।
কোটা সিস্টেমের নানামুখী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। চাকরি পরীক্ষায় যে পরীক্ষার্থী ৪০ পান আর যিনি ৬০ পান নিঃসন্দেহে তারা সমপর্যায়ের মেধাবী নয়। কিন্তু কোটা থাকার কারণেই ৪০ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী চাকরি পেয়ে যাচ্ছে। তার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ এবং দেশের মানবসম্পদ। মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি চাকরিতে। পাশাপাশি কোটা সিস্টেম থাকায় এক শ্রেণির যুবকের মধ্যে হতাশা এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যুবক শ্রেণির হতাশা ও ক্ষোভের কারণে দেশকে কঠোর মূল্য দিতে হতে পারে। তাই জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার জরুরী হয়ে পড়েছে। কারণ মেধাবীদের মূল্যায়ন না করতে পারলে নেতৃত্বে সংকটে পড়বে বাংলাদেশ। কাজেই সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে মেধাবীদের মূল্যায়নের জন্য সরকার সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ রাখছি।

লেখকঃ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী






Related News

Comments are Closed