Main Menu
শিরোনাম
দেশের সকল জেলার মহাসড়ক চার লেন হচ্ছে         কমলগঞ্জে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা         কোম্পানীগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে যুবক খুন         দক্ষিন সুরমায় রিক্সাচালককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১         গোয়াইনঘাটে বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১         বিশ্বনাথে বিএনপি নেতা ফয়জুর রহমানের ইন্তেকাল         শমশেরনগরে রেলওয়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান         বিশ্বনাথে ৯টি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে জরিমানা         বালাগঞ্জে ডাকাতি, গৃহকর্তাসহ আহত ৪         কমলগঞ্জে আবেদনের ৫ মিনিটেই বিদ্যুৎ সংযোগ         বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল সিটি হবে সিলেট: পররাষ্ট্রমন্ত্রী         বিশ্বনাথে ভারতীয় মদসহ আটক ১        

একটি চক্রের হাতে জিম্মি ছাতকের ৩ গ্রামের মানুষ

প্রকাশিত: ৫:৫১:৪৮,অপরাহ্ন ২২ জানুয়ারি ২০১৮ | সংবাদটি ১৫৩ বার পঠিত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের চরমহল্লা ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষ একটি মহলের কার্যকলাপে অতীষ্ট হয়ে উঠছেন। চক্রটি বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা করে হয়রানি করছে। তাদের মারধোরের শিকার হয়ে অনেকে পঙ্গু হয়েছেন। নিজেদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিজের জমিতে ক্ষেতখামার করতেও পারছেন না। ওই সন্ত্রাসী চক্রের হাত থেকে রক্ষার জন্য আশু পদক্ষেপ নেয়ার দাবি আহারগাঁও, মনিয়াশের, কামরাঙ্গী এ তিন গ্রামের বাসিন্দাদের।
সোমবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। এসব অভিযোগ তুলে ধরেন চরমহল্লা ইউনিয়নের আহারগাঁও গ্রামের মো. ছোরাব আলী। তিনি বলেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানকেও মানছে না।
তারা ইউনিয়নের আহারগাঁও, মনিয়াশের, কামরাঙ্গী গ্রামের রাস্তা দিয়ে ছোরাব আলীর আত্মীয় স্বজদের চলাচলে বাঁধা দিচ্ছে। ভয়ে ফসলি জমিতে কেউ যেতে পারছে না। জমিগুলো অনাবাদি পড়ে রয়েছে- এমনটি দাবি করা হয় সম্মেলনে।
ছোরাব আলী বলেন- ‘এই সন্ত্রাসী চক্রে আছেন কামরাঙ্গী গ্রামের ময়না মিয়া (৬৫), চান্দ আলী (৪২), আব্দুর রউফ (৪০), কয়েছ মিয়া (৩২), আকিক মিয়া (৩৩), ফরিদ মিয়া (৩০), লিটন মিয়া (২৫), সুমন মিয়া (২১), আহারগাঁওয়ের আব্দুল বাছিত (৪২), তাজুদ আলী (৪০), দিলদার আলী (২৪) ও আশ্রব আলী (২০) ও কামরাঙ্গী গ্রামের আব্দুর রহিম ফকির (২৪), মইনুল হক (৪৮), সোনা মিয়া (৩০), শামীম (২০) এবং তাদের সহযোগীরা।
ছোরাব আলী দাবি করেন- ‘২০১৫ সালে তারা ছাপড়া বিল জলমহাল ইজারা নেন। পরে উল্লেখিত লোকজন জলমহাল দখল করে মাছ লুটে নেয়। এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানায় মামলাও (নং-৮/২০১৫) চলমান। গত বছরের ৯ অক্টোবর কামরাঙ্গী পয়েন্টে কয়েছ মিয়ার বাড়ির সামনে ময়না মিয়ার নেতৃত্বে গেদাব আলীকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এর পরপরই মসজিদের উত্তরপাশে ইরফান আলীর বাড়ির পশ্চিমে হামলা চালিয়ে কামরাঙ্গী গ্রামের মঈন উদ্দিনসহ ২৬ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় ঘটনায় শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ময়না মিয়াসহ ৯৫ জনের নাম উল্লেখ করে ছাতক থানায় মামলা করেন। কিন্তু কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’
‘উল্টো ৩ জানুয়ারি মামলার বাদী শফিকুল ইসলামসহ তার ভাইয়েরা ক্ষেতে কাজ করার সময়ে কয়েস মেম্বারের নেতৃত্বে এই একই চক্র প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও শফিকুল ইসলামের ভাই ইসলাম উদ্দিনের উপর হামলা চালায়। ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে শফিকুল হামলায় শিকার হন। তাদের হামলায় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন করে ফেলে হামলাকারীরা। এ ঘটনায় আকিক মিয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।’ এমনটি দাবি করেছেন ছোরাব আলী। পরে ৫ জানুয়ারি সকালে ছাপড়া বিলের পূর্বে বোরো ক্ষেতে ধান রোপনকালে ময়না মিয়ার নেতৃত্বে অস্ত্রধারীরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে বুলন শাহ ও গেদাব আলীকে আহত করে। এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় চান্দ আলীসহ ৯ জনকে আসামী করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ছোরাব আলী উল্লেখ করেন-‘এই চক্রটি অতীতেও বার বার আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। হয়রানী থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন দফতরে ধর্না দিয়েও কোন সমাধান পাচ্ছি না। যতো দিন যাচ্ছে ওই সন্ত্রাসী চক্রটি আরোও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গত ৭ জানুয়ারী আমরা দেড়শ জন কৃষকের পক্ষে ছাতক থানার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর একটি অভিযোগ করি। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা বা স্থানীয় প্রশাসনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তারা খুবই প্রভাবশালী। স্থানীয় ছাপড়া বিল ও বুকি নদী বিগত ৪ বছর ধরে তারা জোরপূর্বক ভোগ করে আসছে। তারা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লোকজন প্রধানমন্ত্রী, পুলিশের আইজিপি, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আশাকাছর গ্রামের জসিম তালুকদার, ছনুয়া গ্রামের ফারুক মিয়া, কালা মিয়া, মনিয়াশের গ্রামের আব্দুল জব্বার ও কামরাঙ্গী গ্রামের সুরত আলী।






Related News

Comments are Closed